আজ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

কলকাতায় ৪৮ ঘণ্টায় বন্ধ দুই শতাধিক হোটেল, চরম বিপাকে বাংলাদেশিরা

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:18:38 pm, Tuesday, 25 August 2026
  • 11

কলকাতায় ৪৮ ঘণ্টায় বন্ধ দুই শতাধিক হোটেল, চরম বিপাকে বাংলাদেশিরা

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুই শতাধিক হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ আগুনে সাত বাংলাদেশিসহ নয় জনের মৃত্যুর পর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থানে গেছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের অভিযানের কারণে বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। থাকার জায়গা না পেয়ে কেউ ছুটছেন নতুন হোটেলের খোঁজে, কেউ আবার আগেভাগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

১৯ আগস্ট কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের প্রাণহানির পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অগ্নিনিরাপত্তায় কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশ পারমিশন, ফায়ার অ্যালার্ম ও জরুরি নির্গমন সিঁড়িসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক হোটেল ও রেস্তোরাঁ।

কলকাতার মিনি বাংলাদেশখ্যাত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে অভিযানে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে বাংলাদেশি পর্যটকেরা। বর্তমানে কলকাতায় থাকা প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশির মধ্যে ৭ হাজারই থাকছেন নিউমার্কেট এলাকায়।

কলকাতায় থাকা এক বাংলাদেশি পর্যটক বলেন, ‘এ দেশের (ভারতের) সরকারের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ আমাদের বাংলাদেশ থেকে যারা চিকিৎসা বা ঘুরতে আসছে তাদেরকে একটু ছাড় দেওয়া হোক।’

হঠাৎ হোটেল বন্ধ হওয়ায় নতুন জায়গা খুঁজছেন অনেকে। কেউ আবার নির্ধারিত সময়ের আগে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কলকাতায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া এক বাংলাদেশি বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে যদি হোটেলে থাকা নিয়েই একটা পেরেসানি হয় তাহলে পরবর্তীতে এইখানে আসাটা খুব কষ্ট হয়ে যাবে।’

নতুন হোটেল পেলেও দালালের মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে গুণতে হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ ভাড়া।

কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের ম্যানেজার শ্যামল ঘোষ বলেন, ‘মালস্ট্রিটে কোনো থাকার জায়গা নেই। আশেপাশের যেগুলো হোটেলে এখনও নোটিশ যায়নি সেগুলোতে এখনও লোক রাখছে। যেমন পার্কস্টিটের লোকগুলো চলে যাচ্ছে। কিন্তু হোটেলের যে ভাড়া তার চেয়ে দিগুণ নিচ্ছে।’

শুধু পর্যটক নন, নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী, রিকশাচালকসহ অন্য পেশার মানুষও উদ্বিগ্ন।

কলকাতার স্থানীয় এক অটোচালক বলেন, ‘যদি বাইরে থেকে লোক আসতো তাহলে দু-একটা ভাড়া মারতাম, খর্চা হতো, তাহলে পয়সা ইনকাম হতো, এতে আমাদের সংসার চলবে।’

আরেক গাড়ির চালক বলেন, ‘ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। টোটাল হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে।’

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্যই ওই এলাকায় গড়ে উঠেছে হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহন ও কেনাকাটাসহ নানা ব্যবসা। টুরিস্ট ভিসা চালুর পর পর্যটক বাড়লেও হোটেল বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায় নতুন ধাক্কা লেগেছে।

তবে প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়। প্রয়োজনীয় বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

পুড়ে যাওয়ার পর নতুন ঠিকানায় ঘুরে দাঁড়াল হাউস অব আহমেদ

কলকাতায় ৪৮ ঘণ্টায় বন্ধ দুই শতাধিক হোটেল, চরম বিপাকে বাংলাদেশিরা

Update Time : 06:18:38 pm, Tuesday, 25 August 2026

কলকাতার নিউমার্কেট এলাকায় মাত্র ৪৮ ঘণ্টায় দুই শতাধিক হোটেল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। ভয়াবহ আগুনে সাত বাংলাদেশিসহ নয় জনের মৃত্যুর পর অগ্নিনিরাপত্তা নিয়ে কঠোর অবস্থানে গেছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের অভিযানের কারণে বিপাকে পড়েছেন হাজারো বাংলাদেশি পর্যটক। থাকার জায়গা না পেয়ে কেউ ছুটছেন নতুন হোটেলের খোঁজে, কেউ আবার আগেভাগেই দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

১৯ আগস্ট কলকাতার নিউমার্কেটের কাছে শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে ৭ বাংলাদেশিসহ ৯ জনের প্রাণহানির পর নড়েচড়ে বসে প্রশাসন। অগ্নিনিরাপত্তায় কোনো ছাড় না দেওয়ার ঘোষণা দিয়ে শুরু হয় ব্যাপক অভিযান। ফায়ার লাইসেন্স, ফায়ার অডিট, পুলিশ পারমিশন, ফায়ার অ্যালার্ম ও জরুরি নির্গমন সিঁড়িসহ প্রয়োজনীয় নিরাপত্তা ব্যবস্থা না থাকায় বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে একের পর এক হোটেল ও রেস্তোরাঁ।

কলকাতার মিনি বাংলাদেশখ্যাত মারকুইজ স্ট্রিট, কলিন স্ট্রিট, সদর স্ট্রিট ও মির্জা গালিব স্ট্রিটে অভিযানে সবচেয়ে বড় ভোগান্তিতে বাংলাদেশি পর্যটকেরা। বর্তমানে কলকাতায় থাকা প্রায় ১১ হাজার বাংলাদেশির মধ্যে ৭ হাজারই থাকছেন নিউমার্কেট এলাকায়।

কলকাতায় থাকা এক বাংলাদেশি পর্যটক বলেন, ‘এ দেশের (ভারতের) সরকারের কাছে আমাদের একটাই অনুরোধ আমাদের বাংলাদেশ থেকে যারা চিকিৎসা বা ঘুরতে আসছে তাদেরকে একটু ছাড় দেওয়া হোক।’

হঠাৎ হোটেল বন্ধ হওয়ায় নতুন জায়গা খুঁজছেন অনেকে। কেউ আবার নির্ধারিত সময়ের আগে দেশে ফেরার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।

কলকাতায় চিকিৎসা নিতে যাওয়া এক বাংলাদেশি বলেন, ‘চিকিৎসা নিতে এসে যদি হোটেলে থাকা নিয়েই একটা পেরেসানি হয় তাহলে পরবর্তীতে এইখানে আসাটা খুব কষ্ট হয়ে যাবে।’

নতুন হোটেল পেলেও দালালের মাধ্যমে থাকার ব্যবস্থা করতে গিয়ে গুণতে হচ্ছে দুই থেকে তিনগুণ ভাড়া।

কলকাতার গ্রিন লাইন পরিবহনের ম্যানেজার শ্যামল ঘোষ বলেন, ‘মালস্ট্রিটে কোনো থাকার জায়গা নেই। আশেপাশের যেগুলো হোটেলে এখনও নোটিশ যায়নি সেগুলোতে এখনও লোক রাখছে। যেমন পার্কস্টিটের লোকগুলো চলে যাচ্ছে। কিন্তু হোটেলের যে ভাড়া তার চেয়ে দিগুণ নিচ্ছে।’

শুধু পর্যটক নন, নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী, রিকশাচালকসহ অন্য পেশার মানুষও উদ্বিগ্ন।

কলকাতার স্থানীয় এক অটোচালক বলেন, ‘যদি বাইরে থেকে লোক আসতো তাহলে দু-একটা ভাড়া মারতাম, খর্চা হতো, তাহলে পয়সা ইনকাম হতো, এতে আমাদের সংসার চলবে।’

আরেক গাড়ির চালক বলেন, ‘ব্যবসার অবস্থা খুব খারাপ। টোটাল হোটেল বন্ধ করে দিয়েছে।’

বাংলাদেশি পর্যটকদের জন্যই ওই এলাকায় গড়ে উঠেছে হোটেল, খাবারের দোকান, পরিবহন ও কেনাকাটাসহ নানা ব্যবসা। টুরিস্ট ভিসা চালুর পর পর্যটক বাড়লেও হোটেল বন্ধ হওয়ায় ব্যবসায় নতুন ধাক্কা লেগেছে।

তবে প্রশাসন সাফ জানিয়েছে, পর্যটকদের নিরাপত্তায় কোনো আপস নয়। প্রয়োজনীয় বিধি না মানা হোটেলের বিরুদ্ধে অভিযান চলবে।