আজ মঙ্গলবার, ২৫ আগস্ট ২০২৬
১০ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ১১ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

পুড়ে যাওয়ার পর নতুন ঠিকানায় ঘুরে দাঁড়াল হাউস অব আহমেদ

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:26:38 pm, Tuesday, 25 August 2026
  • 22

পুড়ে যাওয়ার পর নতুন ঠিকানায় ঘুরে দাঁড়াল হাউস অব আহমেদ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশের লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হাউস অব আহমেদ নতুন ঠিকানায় যাত্রা শুরু করেছে। গুলশান-২-এর ভেঞ্চুরা মলে নতুন আউটলেট উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি তাদের ‘চ্যাপ্টার টু’ বা দ্বিতীয় অধ্যায়ের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে দুই তলায় গড়ে তোলা হয়েছে নতুন এই আউটলেট। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি শুধু নতুন বিক্রয়কেন্দ্র নয়। ব্র্যান্ডের নকশা, দর্শন ও ক্রেতা-অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে সাজানোর একটি প্রচেষ্টা।

হাউস অব আহমেদের সহপ্রতিষ্ঠাতা আহমেদ তুহিন রেজা বলেন, ‘চ্যাপ্টার টু আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, কেন আমরা এই যাত্রা শুরু করেছিলাম। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের কারুশিল্প, হেরিটেজ ও সৃজনশীলতা বিশ্বমানের লাক্সারি ফ্যাশনের ভিত্তি হতে পারে।’

হাউস অব আহমেদ মূলত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও বস্ত্রঐতিহ্যকে সমকালীন লাক্সারি ফ্যাশনের ভাষায় উপস্থাপন করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জারদৌজি, জামদানি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী কারুকাজকে আধুনিক নকশার সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি পরিচয় তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।

নতুন আউটলেটের নকশায়ও সেই দর্শনের প্রতিফলন রয়েছে। দুই তলায় সাজানো এই স্থানে একদিকে বিভিন্ন পোশাক সংগ্রহ দেখার সুযোগ থাকছে, অন্যদিকে থাকছে কতুর, ব্রাইডাল ও বেসপোক সেবার জন্য ব্যক্তিগত পরামর্শের ব্যবস্থা। ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী পোশাক তৈরির জন্য সরাসরি ডিজাইন টিমের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।

নতুন আউটলেটে থাকছে হাউস অব আহমেদের স্বাক্ষরধর্মী কতুর, ব্রাইডাল ও উৎসবের পোশাক। পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রিমিয়াম পোশাকের ‘ফ্রাইডে সিগনেচার’ সংগ্রহও পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে সীমিত সংস্করণের বিশেষ পোশাক আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্রাইডাল সেগমেন্টকে আরও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় রূপ দিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, একজন কনের ব্যক্তিগত রুচি, বিয়ের আয়োজন ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে পোশাকের নকশা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফিটিং পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

হাউস অব আহমেদের সহপ্রতিষ্ঠাতা তানজিলা এলমা বলেন, ‘আমাদের কাছে লাক্সারি শুধু একটি পোশাক নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কারিগরের দক্ষতা, সংস্কৃতি ও গল্প। চ্যাপ্টার টু আমাদের সেই ভাবনাকে আরও পরিশীলিত ও বিস্তৃত করার সুযোগ দিয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বর্তমানে ৫০০-এর বেশি কারিগর তাদের সঙ্গে কাজ করছেন। হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, অলংকরণ ও বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের মাধ্যমে তৈরি হয় তাদের পোশাক। একটি কারুকাজসমৃদ্ধ কতুর তৈরি করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এই নতুন অধ্যায়ে ‘ইলাফ’ নামে একটি নতুন উদ্যোগও যুক্ত হচ্ছে। তুলনামূলক তরুণ ও সমকালীন ক্রেতাদের জন্য তৈরি এই ব্র্যান্ডে ঐতিহ্যনির্ভর নকশার সঙ্গে বহুমুখী ব্যবহারযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

হাউস অব আহমেদের দাবি, তাদের ‘লাক্সারি মেড ইন বাংলাদেশ’ ধারণার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের কারুশিল্প ও সৃজনশীলতাকে আন্তর্জাতিক লাক্সারি ফ্যাশনের আলোচনায় নিয়ে আসা।

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশকে ভিত্তি করে দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বীকৃত লাক্সারি ফ্যাশন হাউস হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা। সেই লক্ষ্যেই নতুন আউটলেট ও ‘চ্যাপ্টার টু’ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে হাউস অব আহমেদ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

লন্ডনে বাংলাদেশের নতুন হাই কমিশনার হিসেবে নিয়োগ পেলেন মোহাম্মদ আব্দুল মুহিত

পুড়ে যাওয়ার পর নতুন ঠিকানায় ঘুরে দাঁড়াল হাউস অব আহমেদ

Update Time : 07:26:38 pm, Tuesday, 25 August 2026

বাংলাদেশের লাক্সারি ফ্যাশন ব্র্যান্ড হাউস অব আহমেদ নতুন ঠিকানায় যাত্রা শুরু করেছে। গুলশান-২-এর ভেঞ্চুরা মলে নতুন আউটলেট উদ্বোধনের মাধ্যমে ব্র্যান্ডটি তাদের ‘চ্যাপ্টার টু’ বা দ্বিতীয় অধ্যায়ের ঘোষণা দিয়েছে।

প্রায় ৪ হাজার ৫০০ বর্গফুট জায়গাজুড়ে দুই তলায় গড়ে তোলা হয়েছে নতুন এই আউটলেট। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, এটি শুধু নতুন বিক্রয়কেন্দ্র নয়। ব্র্যান্ডের নকশা, দর্শন ও ক্রেতা-অভিজ্ঞতাকে নতুনভাবে সাজানোর একটি প্রচেষ্টা।

হাউস অব আহমেদের সহপ্রতিষ্ঠাতা আহমেদ তুহিন রেজা বলেন, ‘চ্যাপ্টার টু আমাদের জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ একটি অধ্যায়। কঠিন সময়ের মধ্য দিয়ে যাওয়ার অভিজ্ঞতা আমাদের আবারও মনে করিয়ে দিয়েছে, কেন আমরা এই যাত্রা শুরু করেছিলাম। আমরা বিশ্বাস করি, বাংলাদেশের কারুশিল্প, হেরিটেজ ও সৃজনশীলতা বিশ্বমানের লাক্সারি ফ্যাশনের ভিত্তি হতে পারে।’

হাউস অব আহমেদ মূলত বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্প ও বস্ত্রঐতিহ্যকে সমকালীন লাক্সারি ফ্যাশনের ভাষায় উপস্থাপন করে। প্রতিষ্ঠানটি জানায়, জারদৌজি, জামদানি ও অন্যান্য ঐতিহ্যবাহী কারুকাজকে আধুনিক নকশার সঙ্গে যুক্ত করে বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশি পরিচয় তুলে ধরাই তাদের লক্ষ্য।

নতুন আউটলেটের নকশায়ও সেই দর্শনের প্রতিফলন রয়েছে। দুই তলায় সাজানো এই স্থানে একদিকে বিভিন্ন পোশাক সংগ্রহ দেখার সুযোগ থাকছে, অন্যদিকে থাকছে কতুর, ব্রাইডাল ও বেসপোক সেবার জন্য ব্যক্তিগত পরামর্শের ব্যবস্থা। ক্রেতারা নিজেদের প্রয়োজন ও পছন্দ অনুযায়ী পোশাক তৈরির জন্য সরাসরি ডিজাইন টিমের সঙ্গে কাজ করতে পারবেন।

নতুন আউটলেটে থাকছে হাউস অব আহমেদের স্বাক্ষরধর্মী কতুর, ব্রাইডাল ও উৎসবের পোশাক। পাশাপাশি দৈনন্দিন ব্যবহারের জন্য প্রিমিয়াম পোশাকের ‘ফ্রাইডে সিগনেচার’ সংগ্রহও পাওয়া যাবে। ভবিষ্যতে সীমিত সংস্করণের বিশেষ পোশাক আনার পরিকল্পনার কথাও জানিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।

ব্রাইডাল সেগমেন্টকে আরও ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতায় রূপ দিতে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটির ভাষ্য, একজন কনের ব্যক্তিগত রুচি, বিয়ের আয়োজন ও পছন্দকে গুরুত্ব দিয়ে পোশাকের নকশা থেকে শুরু করে চূড়ান্ত ফিটিং পর্যন্ত পুরো প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

হাউস অব আহমেদের সহপ্রতিষ্ঠাতা তানজিলা এলমা বলেন, ‘আমাদের কাছে লাক্সারি শুধু একটি পোশাক নয়। এর সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কারিগরের দক্ষতা, সংস্কৃতি ও গল্প। চ্যাপ্টার টু আমাদের সেই ভাবনাকে আরও পরিশীলিত ও বিস্তৃত করার সুযোগ দিয়েছে।’

প্রতিষ্ঠানটি জানায়, বর্তমানে ৫০০-এর বেশি কারিগর তাদের সঙ্গে কাজ করছেন। হ্যান্ড এমব্রয়ডারি, অলংকরণ ও বিভিন্ন ধরনের ঐতিহ্যবাহী কারুশিল্পের মাধ্যমে তৈরি হয় তাদের পোশাক। একটি কারুকাজসমৃদ্ধ কতুর তৈরি করতে কয়েক সপ্তাহ থেকে কয়েক মাস পর্যন্ত সময় লাগতে পারে।

এই নতুন অধ্যায়ে ‘ইলাফ’ নামে একটি নতুন উদ্যোগও যুক্ত হচ্ছে। তুলনামূলক তরুণ ও সমকালীন ক্রেতাদের জন্য তৈরি এই ব্র্যান্ডে ঐতিহ্যনির্ভর নকশার সঙ্গে বহুমুখী ব্যবহারযোগ্যতার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হবে।

হাউস অব আহমেদের দাবি, তাদের ‘লাক্সারি মেড ইন বাংলাদেশ’ ধারণার মূল লক্ষ্য হলো বাংলাদেশের কারুশিল্প ও সৃজনশীলতাকে আন্তর্জাতিক লাক্সারি ফ্যাশনের আলোচনায় নিয়ে আসা।

প্রতিষ্ঠানটির পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী কয়েক বছরে বাংলাদেশকে ভিত্তি করে দক্ষিণ এশিয়ার একটি স্বীকৃত লাক্সারি ফ্যাশন হাউস হিসেবে নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করতে চায় তারা। সেই লক্ষ্যেই নতুন আউটলেট ও ‘চ্যাপ্টার টু’ উদ্যোগকে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছে হাউস অব আহমেদ।