দীর্ঘ ৮ মাস ১৪ দিন বন্ধ থাকার পর দিনাজপুরের হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারত থেকে আবারও কাঁচা মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। সোমবার (৩ আগস্ট) বিকেল ৪টার দিকে ভারত থেকে কাঁচা মরিচবোঝাই তিনটি ট্রাক বন্দরে প্রবেশের মধ্য দিয়ে আমদানি কার্যক্রম শুরু হয়। আমদানিকারক পলাশ জানান, দেশের দক্ষিণাঞ্চলে বন্যায় বিস্তীর্ণ এলাকার মরিচের ক্ষেত প্লাবিত ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় বাজারে কাঁচা মরিচের দাম বেড়ে যায়।
দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার গতকাল কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতি দিলে আজ থেকেই আমদানি শুরু করা হয়েছে। তিনি বলেন, আজ ভারত থেকে তিনটি ট্রাকে মোট ২১ টন কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। এসব মরিচ ভারতের নাসিক থেকে আনা হয়েছে। প্রতি টন মরিচ ৩০০ মার্কিন ডলার মূল্যে আমদানি করা হচ্ছে। শুল্ক, ভ্যাট এবং লোড-আনলোডসহ অন্যান্য ব্যয় যোগ হলেও বাজারে তুলনামূলক কম দামে বিক্রি করা সম্ভব হবে।
এর আগে গত বছরের ২০ নভেম্বর সর্বশেষ এ বন্দর দিয়ে কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছিল। এরপর আমদানি অনুমতিপত্র (আইপি) প্রদান বন্ধ হয়ে যায়। এদিকে আমদানির খবরে হিলি বন্দরের খুচরা বাজারে কাঁচা মরিচের দাম কেজিপ্রতি ৩০ টাকা কমেছে। সকালে যে মরিচ ২৮০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছিল, বিকেলে তা ২৫০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হতে দেখা গেছে। হিলি স্থলবন্দর উদ্ভিদ সংগনিরোধ কেন্দ্রের উপ-সহকারী কর্মকর্তা উজ্জ্বল হোসেন জানান, এ বন্দরের ৬৯ জন ব্যবসায়ী মোট ২৯ হাজার ৭১০ টন কাঁচা মরিচ আমদানির অনুমতিপত্র (আইপি) পেয়েছেন।
সোমবার থেকেই এসব মরিচ আমদানি শুরু হয়েছে। কাঁচা মরিচ পচনশীল পণ্য হওয়ায় ব্যবসায়ীরা যাতে ক্ষতির মুখে না পড়েন, সে জন্য অগ্রাধিকার ভিত্তিতে কোয়ারেন্টাইন ছাড়পত্র প্রদান করা হচ্ছে। হিলি শুল্ক স্টেশনের সহকারী কমিশনার খন্দকার সোলায়মান বলেন, দেশের বাজারে কাঁচা মরিচের ঊর্ধ্বমুখী দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে সরকার ভারত থেকে আমদানির অনুমতি দিয়েছে।
এরই ধারাবাহিকতায় সোমবার হিলি স্থলবন্দর দিয়ে ভারতীয় তিনটি ট্রাকে ২১ টন ১২০ কেজি কাঁচা মরিচ আমদানি হয়েছে। তিনি আরও বলেন, কাঁচা মরিচ একটি পচনশীল পণ্য। তাই দ্রুত কাস্টমসের সব প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে পণ্য খালাসের ব্যবস্থা করা হবে, যাতে আমদানিকারকরা দ্রুত দেশের বিভিন্ন বাজারে মরিচ সরবরাহ করতে পারেন।




















