মানিকগঞ্জে ২০০৯ সালের আলোচিত আব্দুল মজিদ হিরন হত্যা মামলায় আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে প্রত্যেককে ২০ হাজার টাকা করে অর্থদণ্ড, অনাদায়ে আরও ছয় মাসের কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
মামলার অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া বিচার চলাকালে আরও দুই আসামির মৃত্যু হয়েছে। মঙ্গলবার (২৫ আগস্ট) দুপুরে মানিকগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মো. তাছিম বিল্লাহ এ রায় ঘোষণা করেন। দণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—মর্জিনা, ফালানী, মিজান খান, রুস্তম খান, সবুজ আহমেদ, সেলিম মিয়া, আনিস ও রফিক। রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী ও অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর (এপিপি) বুলবুল আহমেদ গোলাপ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৯ সালের ৭ অক্টোবর রাতে সাটুরিয়া উপজেলার রাইল্যা গ্রামের আব্দুল মজিদ হিরন নামাজ ও খাবার শেষে বাড়ি থেকে বের হয়ে নিখোঁজ হন। পরদিন ধলেশ্বরী নদীর পশ্চিম পাড়ের একটি মেহগনি বাগান থেকে তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এ ঘটনায় হিরনকে শ্বাসরোধ করে হত্যার অভিযোগে মামলা করা হয়। মামলায় মোট ১৭ জন আসামি ছিলেন।
দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়ায় আদালত ২৪ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ করেন। সাক্ষ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা শেষে আদালত আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও অর্থদণ্ডের আদেশ দেন। অপর সাত আসামিকে খালাস দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে আরও দুই আসামির মৃত্যু হয়। রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী বুলবুল আহমেদ গোলাপ বলেন, ‘এটি ২০০৯ সালের আলোচিত হিরন হত্যা মামলা। অভিযোগ অনুযায়ী, আসামিরা হিরনকে বাড়ির পাশের একটি মেশিনঘরে নিয়ে গলায় রশি পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করেন।
মামলায় ১৭ জন আসামি ও ২৪ জন সাক্ষী ছিলেন। আমরা ২৪ জন সাক্ষীকেই আদালতে হাজির করতে পেরেছি। ’ তিনি আরও বলেন, ‘দীর্ঘদিন পর হলেও আদালত মামলাটির একটি সুষ্ঠু রায় দিয়েছেন। আট আসামিকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। এ রায়ে আমরা অত্যন্ত সন্তুষ্ট।



















