আজ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:09:13 pm, Tuesday, 18 August 2026
  • 6

স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসাস্থল সরকারি হাসপাতাল। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী, বিশেষত নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত সমাজ, প্রাথমিক সেবা থেকে জটিল অস্ত্রোপচার পর্যন্ত সবকিছুর জন্যই পুরোপুরি সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই খাতেই বিরাজ করছে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতার মারাত্মক অভাব। হাসপাতালে গিয়ে সময়মতো ডাক্তারের দেখা না পাওয়া, অনুপস্থিতি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং চিকিৎসাসেবার নিম্নমান—এসব যেন প্রতিদিনের চেনা ছবি। এই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে এবং সরকারি স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কঠোর নির্দেশনা এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকারি হাসপাতালের সেবা, কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে তিনি যে নতুন নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে সত্য অর্থেই এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার মূল দর্শন দাঁড়িয়ে আছে পুরস্কার ও শাস্তির (Reward and Punishment) নীতিগত কাঠামোর ওপর।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি প্রতি মাসে ভালো ও দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। অধিদপ্তর থেকে জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতি মাসে দেশের সেরা ৫ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে।

ঠিক তেমনিভাবে, কর্মদক্ষতায় পিছিয়ে থাকা কিংবা অবহেলা প্রদর্শনকারী ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই দ্বি-মুখী নীতি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে, যা দিনশেষে সাধারণ রোগীদের সেবার গুণগত মান বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতি এক দীর্ঘদিনের ব্যাধি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই সমস্যার একটি স্থায়ী প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের কথা বলা হয়েছে। বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা এবং জিও-ফেন্সিং (Geo-fencing) প্রযুক্তি চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো কর্মকর্তা বা চিকিৎসক কর্মস্থলে স্বশরীরে উপস্থিত না থেকে হাজিরা নিশ্চিত করতে না পারেন।

শুধু প্রযুক্তি বসানোই শেষ কথা নয়; এই উপস্থিতির তথ্যকে সরাসরি বেতন-ভাতা, ছুটি এবং পদোন্নতির সাথে সমন্বয় করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যখন একজন চিকিৎসকের বা কর্মচারীর অনুপস্থিতি তার পেশাগত ক্যারিয়ার ও আর্থিক সুবিধার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে, তখন চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ধরে রাখার হার অনেকাংশে বেড়ে যাবে।

একটি কার্যকর ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কেবল শারীরিক উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সততা। সরকারি হাসপাতালে সরকারের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক সময় তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় না। চিকিৎসা সরঞ্জামের কেনাকাটায় দুর্নীতি, ওষুধ সরবরাহে অস্বচ্ছতা এবং সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ বহু পুরনো।

বর্তমান দিকনির্দেশনায় আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সেবার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানকে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের দায়বদ্ধতা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

কেবল একটি হাসপাতালকে সার্বিকভাবে দুর্বল চিহ্নিত করাই নয়, দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের (যেমন: সিভিল সার্জন বা হাসপাতাল পরিচালক) বিরুদ্ধে সরাসরি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক নেতৃত্বের ওপর এই ব্যক্তিগত জবাবদিহিতার ভার অর্পণ করার ফলে প্রতিষ্ঠানের তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে বাধ্য।

প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর এই পদক্ষেপগুলো আগামী ২৫ আগস্ট এক পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত অগ্রগতি মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের এক সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এই প্রশাসনিক উদ্যোগগুলোর সফল বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। অতীতেও নানা সময় সুন্দর নীতি বা পরিপত্র জারি করা হলেও সঠিক তদারকি ও সদিচ্ছার অভাবে তা কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

তাই এবার যাতে সেই একই পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য নিশ্চিত করতে হবে কতিপয় বিষয়ের ধারাবাহিকতা: ১. সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা প্রশাসনিক প্রভাব যেন না থাকে। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ডিজিটাল মনিটরিং সেলের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন পরিচালনা করতে হবে।

২. কোনো হাসপাতালের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের সময় কেবল চিকিৎসক বা স্টাফদের দোষারোপ করলেই চলবে না; সেখানে পর্যাপ্ত ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ আছে কি না তাও নিশ্চিত করতে হবে। ৩. দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে জিও-ফেন্সিং ও বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিশেষে বলতে চাই, একুশ শতকের একটি প্রগতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য নাগরিকদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশিত পদক্ষেপে যে ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারফরম্যান্স-ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, তা উন্নত বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই কঠোর কিন্তু সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের যথাযথ ও নিরপেক্ষ বাস্তবায়ন যদি মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করা যায়, তবে তা কেবল সরকারি হাসপাতালের অনুপস্থিতি ও অনিয়মই দূর করবে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

জবাবদিহিতার এই নতুন ধারা যদি বজায় থাকে, তবে দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিক তার প্রাপ্য স্বাস্হ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান পাবে ইনশাল্লাহ।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

চাঁদপুরে খাদ্যে ভেজাল ও ভুয়া ‘ডা.’ পদবি ব্যবহারের দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

স্বাস্থ্যসেবায় শৃঙ্খলা ফেরাতে সরকারের বিশেষ উদ্যোগ

Update Time : 09:09:13 pm, Tuesday, 18 August 2026

দেশের সাধারণ মানুষের চিকিৎসার শেষ ভরসাস্থল সরকারি হাসপাতাল। দেশের বিশাল জনগোষ্ঠী, বিশেষত নিম্ন ও নিম্ন-মধ্যবিত্ত সমাজ, প্রাথমিক সেবা থেকে জটিল অস্ত্রোপচার পর্যন্ত সবকিছুর জন্যই পুরোপুরি সরকারি স্বাস্থ্য ব্যবস্থার ওপর নির্ভর করে।

কিন্তু দীর্ঘদিন ধরে এই খাতেই বিরাজ করছে নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং জবাবদিহিতার মারাত্মক অভাব। হাসপাতালে গিয়ে সময়মতো ডাক্তারের দেখা না পাওয়া, অনুপস্থিতি, দালালচক্রের দৌরাত্ম্য, আর্থিক অস্বচ্ছতা এবং চিকিৎসাসেবার নিম্নমান—এসব যেন প্রতিদিনের চেনা ছবি। এই দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা সমাধানে এবং সরকারি স্বাস্থ্যখাতে শৃঙ্খলা ফেরাতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক কঠোর নির্দেশনা এক বৈপ্লবিক পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে।

সরকারি হাসপাতালের সেবা, কর্মদক্ষতা ও জবাবদিহিতা বাড়াতে তিনি যে নতুন নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপের ঘোষণা দিয়েছেন, তা বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের স্বাস্থ্যখাতে সত্য অর্থেই এক নতুন যুগের সূচনা হতে পারে। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনার মূল দর্শন দাঁড়িয়ে আছে পুরস্কার ও শাস্তির (Reward and Punishment) নীতিগত কাঠামোর ওপর।

সম্প্রতি স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয় পরিদর্শনের সময় কর্মকর্তা ও চিকিৎসকদের সাথে মতবিনিময় সভায় তিনি প্রতি মাসে ভালো ও দুর্বল কর্মদক্ষতার প্রতিষ্ঠান চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক পদক্ষেপ নেওয়ার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছেন। অধিদপ্তর থেকে জারিকৃত পরিপত্র অনুযায়ী, প্রতি মাসে দেশের সেরা ৫ শতাংশ সরকারি হাসপাতাল বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানকে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া হবে।

ঠিক তেমনিভাবে, কর্মদক্ষতায় পিছিয়ে থাকা কিংবা অবহেলা প্রদর্শনকারী ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে নেওয়া হবে কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থা। জবাবদিহিতা নিশ্চিত করার এই দ্বি-মুখী নীতি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে একটি সুস্থ ও ইতিবাচক প্রতিযোগিতার পরিবেশ তৈরি করবে, যা দিনশেষে সাধারণ রোগীদের সেবার গুণগত মান বাড়াতে সরাসরি ভূমিকা রাখবে। বাংলাদেশের চিকিৎসাসেবার সবচেয়ে বড় একটি চ্যালেঞ্জ হলো চিকিৎসকদের কর্মস্থলে উপস্থিতি নিশ্চিত করা।

বিশেষ করে জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সরকারি হাসপাতালে ডাক্তার ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অনুপস্থিতি এক দীর্ঘদিনের ব্যাধি। প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় এই সমস্যার একটি স্থায়ী প্রযুক্তিনির্ভর সমাধানের কথা বলা হয়েছে। বায়োমেট্রিক উপস্থিতি ব্যবস্থা এবং জিও-ফেন্সিং (Geo-fencing) প্রযুক্তি চালু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে কোনো কর্মকর্তা বা চিকিৎসক কর্মস্থলে স্বশরীরে উপস্থিত না থেকে হাজিরা নিশ্চিত করতে না পারেন।

শুধু প্রযুক্তি বসানোই শেষ কথা নয়; এই উপস্থিতির তথ্যকে সরাসরি বেতন-ভাতা, ছুটি এবং পদোন্নতির সাথে সমন্বয় করার যে সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, তা একটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ। যখন একজন চিকিৎসকের বা কর্মচারীর অনুপস্থিতি তার পেশাগত ক্যারিয়ার ও আর্থিক সুবিধার ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলবে, তখন চিকিৎসকদের কর্মস্থলে ধরে রাখার হার অনেকাংশে বেড়ে যাবে।

একটি কার্যকর ও বিশ্বমানের স্বাস্থ্য ব্যবস্থা গড়ে তুলতে হলে কেবল শারীরিক উপস্থিতিই যথেষ্ট নয়; প্রয়োজন আর্থিক স্বচ্ছতা ও প্রশাসনিক সততা। সরকারি হাসপাতালে সরকারের পক্ষ থেকে বিপুল পরিমাণ বাজেট বরাদ্দ দেওয়া হলেও অনেক সময় তা সঠিকভাবে ব্যবহৃত হয় না। চিকিৎসা সরঞ্জামের কেনাকাটায় দুর্নীতি, ওষুধ সরবরাহে অস্বচ্ছতা এবং সাধারণ রোগীদের কাছ থেকে অনৈতিক সুবিধা নেওয়ার অভিযোগ বহু পুরনো।

বর্তমান দিকনির্দেশনায় আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও সেবার মানোন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে বাস্তবায়নের অগ্রগতি প্রতিবেদন দাখিলের ওপর জোর দেওয়া হয়েছে, যেখানে প্রতি মাসের ১৫ তারিখের মধ্যে সকল প্রতিষ্ঠানকে অগ্রগতি প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, প্রশাসনিক ক্ষেত্রে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয়ের দায়বদ্ধতা নির্দিষ্ট করা হয়েছে।

কেবল একটি হাসপাতালকে সার্বিকভাবে দুর্বল চিহ্নিত করাই নয়, দায়িত্বে অবহেলার সুনির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া গেলে সংশ্লিষ্ট চিকিৎসক এবং ওই প্রতিষ্ঠানের প্রধানের (যেমন: সিভিল সার্জন বা হাসপাতাল পরিচালক) বিরুদ্ধে সরাসরি বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রশাসনিক নেতৃত্বের ওপর এই ব্যক্তিগত জবাবদিহিতার ভার অর্পণ করার ফলে প্রতিষ্ঠানের তদারকি ব্যবস্থা আরও জোরদার হতে বাধ্য।

প্রশাসনিক ও প্রযুক্তিনির্ভর এই পদক্ষেপগুলো আগামী ২৫ আগস্ট এক পর্যালোচনার মাধ্যমে চূড়ান্ত অগ্রগতি মূল্যায়ন করার কথা রয়েছে। তবে আন্তর্জাতিক মানের এক সার্বজনীন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তোলার পথে এই প্রশাসনিক উদ্যোগগুলোর সফল বাস্তবায়নই হবে মূল চ্যালেঞ্জ। অতীতেও নানা সময় সুন্দর নীতি বা পরিপত্র জারি করা হলেও সঠিক তদারকি ও সদিচ্ছার অভাবে তা কাগজ-কলমে সীমাবদ্ধ থেকে গেছে।

তাই এবার যাতে সেই একই পুনরাবৃত্তি না ঘটে, সেজন্য নিশ্চিত করতে হবে কতিপয় বিষয়ের ধারাবাহিকতা: ১. সেরা ৫ শতাংশ এবং দুর্বল ৫ শতাংশ প্রতিষ্ঠান নির্বাচনের ক্ষেত্রে কোনো ধরনের পক্ষপাতিত্ব বা প্রশাসনিক প্রভাব যেন না থাকে। একটি স্বাধীন ও নিরপেক্ষ ডিজিটাল মনিটরিং সেলের মাধ্যমে বস্তুনিষ্ঠ উপাত্তের ওপর ভিত্তি করে মূল্যায়ন পরিচালনা করতে হবে।

২. কোনো হাসপাতালের কর্মদক্ষতা মূল্যায়নের সময় কেবল চিকিৎসক বা স্টাফদের দোষারোপ করলেই চলবে না; সেখানে পর্যাপ্ত ওষুধ এবং প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি সরবরাহ আছে কি না তাও নিশ্চিত করতে হবে। ৩. দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের হাসপাতালগুলোতে জিও-ফেন্সিং ও বায়োমেট্রিক প্রযুক্তির নিরবচ্ছিন্ন ইন্টারনেট ও অবকাঠামোগত সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে। পরিশেষে বলতে চাই, একুশ শতকের একটি প্রগতিশীল ও উন্নত রাষ্ট্র গঠনের জন্য নাগরিকদের মৌলিক স্বাস্থ্যসেবার অধিকার নিশ্চিত করা রাষ্ট্রীয় দায়িত্ব।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশিত পদক্ষেপে যে ধরনের আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার এবং পারফরম্যান্স-ভিত্তিক মূল্যায়ন ব্যবস্থার কথা বলা হয়েছে, তা উন্নত বিশ্বের স্বাস্থ্য ব্যবস্থার সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ। এই কঠোর কিন্তু সময়োপযোগী সিদ্ধান্তের যথাযথ ও নিরপেক্ষ বাস্তবায়ন যদি মাঠপর্যায়ে নিশ্চিত করা যায়, তবে তা কেবল সরকারি হাসপাতালের অনুপস্থিতি ও অনিয়মই দূর করবে না, বরং সাধারণ মানুষের মাঝে সরকারি চিকিৎসাসেবার ওপর হারানো আস্থা ফিরিয়ে আনবে।

জবাবদিহিতার এই নতুন ধারা যদি বজায় থাকে, তবে দেশের প্রতিটি সাধারণ নাগরিক তার প্রাপ্য স্বাস্হ্যসেবা পাওয়ার ক্ষেত্রে এক নতুন দিগন্তের সন্ধান পাবে ইনশাল্লাহ।