আজ বৃহস্পতিবার, ২০ আগস্ট ২০২৬
৪ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৬ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯১%

রাবি শিক্ষক ড. সুজন সেনের সাজা প্রহসনমূলক, স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি শিক্ষার্থীদের

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:48:18 pm, Tuesday, 18 August 2026
  • 11

রাবি শিক্ষক ড. সুজন সেনের সাজা প্রহসনমূলক, স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি শিক্ষার্থীদের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দায়সারা ও প্রহসনমূলক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা।

তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং তাঁর বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠার প্রায় দুই বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে তাকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই শাস্তিকে ‘অপর্যাপ্ত’ উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিক্ষক শিক্ষাদানে অযোগ্য প্রমাণিত হওয়ার পরও কীভাবে প্রায় এক দশক ধরে পদে বহাল থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। তার অযোগ্যতার সময়ে নেওয়া বেতন-ভাতা এবং এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার দায় কীভাবে নির্ধারণ ও সুরাহা করা হবে—এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

এ ছাড়া পাঁচ বছর পর একজন অযোগ্য শিক্ষক কীভাবে পুনরায় শিক্ষাদানের জন্য যোগ্য হয়ে উঠবেন, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও সুপারিশ তাদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির প্রতি প্রতিহিংসা থেকে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে প্রয়োজনীয় নৈতিকতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড বিবেচনা করেই তারা স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছেন।

দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং শাস্তির বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচি নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি সিন্ডিকেটের এখতিয়ারভুক্ত।

সিন্ডিকেটের কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পুনর্বিবেচনা করতে হলে তা পুনরায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই করতে হবে। এর বাইরে অন্যভাবে করার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপিটি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ’ উল্লেখ্য, দুর্নীতি, অর্থ কেলেঙ্কারি, অযোগ্যতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় ড. সুজন সেনকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই সভায় তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

পাকিস্তানের স্বাধীনতা দিবসে আততায়ীর গুলিতে জনপ্রিয় টিকটকার শামসো বিবি নিহত

রাবি শিক্ষক ড. সুজন সেনের সাজা প্রহসনমূলক, স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি শিক্ষার্থীদের

Update Time : 09:48:18 pm, Tuesday, 18 August 2026

রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ের চিত্রকলা, প্রাচ্যকলা ও ছাপচিত্র বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে নেওয়া শাস্তিমূলক ব্যবস্থা দায়সারা ও প্রহসনমূলক আখ্যা দিয়ে তা প্রত্যাখ্যান করেছেন শিক্ষার্থীরা।

তাঁকে স্থায়ীভাবে বহিষ্কার এবং তাঁর বিরুদ্ধে গঠিত তদন্ত কমিটির পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদন প্রকাশের দাবি জানিয়েছেন তারা। দাবি বাস্তবায়নে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনকে ২৪ ঘণ্টার সময় বেঁধে দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। মঙ্গলবার (১৮ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীমের কাছে দেওয়া স্মারকলিপিতে এসব দাবি জানানো হয়।

স্মারকলিপিতে বলা হয়, ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি, অনিয়ম ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ ওঠার প্রায় দুই বছর পর বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন তার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক সিদ্ধান্ত নিয়েছে। তদন্তে তার বিরুদ্ধে অযোগ্যতা, দুর্নীতি ও নৈতিক স্খলনের অভিযোগ প্রমাণিত হওয়ায় তাকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।

একই সঙ্গে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে তাকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমিত করা হয়েছে। শিক্ষার্থীরা এই শাস্তিকে ‘অপর্যাপ্ত’ উল্লেখ করে প্রশ্ন তুলেছেন, একজন শিক্ষক শিক্ষাদানে অযোগ্য প্রমাণিত হওয়ার পরও কীভাবে প্রায় এক দশক ধরে পদে বহাল থেকে বেতন-ভাতাসহ অন্যান্য সুযোগ-সুবিধা ভোগ করেছেন। তার অযোগ্যতার সময়ে নেওয়া বেতন-ভাতা এবং এতে রাষ্ট্রীয় কোষাগারের যে আর্থিক ক্ষতি হয়েছে, তার দায় কীভাবে নির্ধারণ ও সুরাহা করা হবে—এ প্রশ্নও তুলেছেন তারা।

এ ছাড়া পাঁচ বছর পর একজন অযোগ্য শিক্ষক কীভাবে পুনরায় শিক্ষাদানের জন্য যোগ্য হয়ে উঠবেন, সেটিও স্পষ্ট করার দাবি জানিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। স্মারকলিপিতে শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, ড. সুজন সেনের বিরুদ্ধে প্রায় ২০০ পৃষ্ঠার লিখিত অভিযোগ দেওয়া হলেও তদন্তের পূর্ণাঙ্গ ফলাফল ও সুপারিশ তাদের সামনে প্রকাশ করা হয়নি। তারা বলেন, কোনো ব্যক্তির প্রতি প্রতিহিংসা থেকে নয়, বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক হিসেবে প্রয়োজনীয় নৈতিকতা ও যোগ্যতার মানদণ্ড বিবেচনা করেই তারা স্থায়ী বহিষ্কারের দাবি জানাচ্ছেন।

দাবি না মানলে কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারি দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। তারা বলেন, ২৪ ঘণ্টার মধ্যে পূর্ণাঙ্গ তদন্ত প্রতিবেদন প্রকাশ এবং শাস্তির বিষয়ে প্রশাসনের স্পষ্ট ব্যাখ্যা না দিলে ক্লাস-পরীক্ষা বর্জনসহ আমরণ অনশনের মতো কর্মসূচি নেওয়া হবে। এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য (প্রশাসন) অধ্যাপক আব্দুল আলীম বলেন, ‘বিষয়টি পুরোপুরি সিন্ডিকেটের এখতিয়ারভুক্ত।

সিন্ডিকেটের কোনো সিদ্ধান্ত পরিবর্তন, পরিবর্ধন বা পুনর্বিবেচনা করতে হলে তা পুনরায় সিন্ডিকেটের মাধ্যমেই করতে হবে। এর বাইরে অন্যভাবে করার সুযোগ নেই। শিক্ষার্থীদের দেওয়া স্মারকলিপিটি গ্রহণ করা হয়েছে। এটি উপাচার্যের কাছে হস্তান্তর করা হবে। ’ উল্লেখ্য, দুর্নীতি, অর্থ কেলেঙ্কারি, অযোগ্যতা ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগে গত বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিশ্ববিদ্যালয়ের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম সিন্ডিকেটের ৫৪৮তম সভায় ড. সুজন সেনকে পাঁচ বছরের জন্য সব ধরনের একাডেমিক ও প্রশাসনিক কার্যক্রম থেকে অব্যাহতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

একই সভায় তাঁকে সহযোগী অধ্যাপক পদ থেকে সহকারী অধ্যাপক পদে অবনমিত করার সিদ্ধান্তও নেওয়া হয়।