11:48 pm, Monday, 3 August 2026

মনপুরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

  • MIT ERP
  • Update Time : 11:47:39 pm, Monday, 3 August 2026
  • 0

মনপুরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। কোথাও একজন, আবার কোথাও মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মনপুরায় মোট ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ১৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের আরও ৩০টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানসহ একাধিক বিষয় পড়াতে হচ্ছে। একই সময়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদানও পরিচালনা করতে দেখা গেছে একজন শিক্ষককে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে অনেক সময় ক্লাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করছে। কোথাও কোথাও নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল কম। একাধিক অভিভাবক জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে সন্তানদের কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবস্থা করছেন।

তবে অনেক পরিবারের পক্ষে এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। মনপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। সীমিত জনবল দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সরকার দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের ব্যবস্থা করলে এ সংকট অনেকটাই দূর হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসরাফ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও বেশ কিছু শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যোগদান করলে সংকট কিছুটা কমবে। পাশাপাশি দ্রুত শিক্ষক পদায়নের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং হাজিরহাট মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি।

এ পর্যায়ে শিক্ষক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর নেতিবাচক প্রভাব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও পড়বে। তাই দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করা জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলে শিক্ষক সংকট নিরসনে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পদায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই প্রাথমিক শিক্ষার মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

চট্টগ্রামের বন্যাদুর্গত ৩ উপজেলা সফর করবেন প্রধানমন্ত্রী

মনপুরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক সংকট, ব্যাহত শিক্ষা কার্যক্রম

Update Time : 11:47:39 pm, Monday, 3 August 2026

ভোলার বিচ্ছিন্ন দ্বীপ উপজেলা মনপুরার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে দীর্ঘদিন ধরে শিক্ষক সংকট চরম আকার ধারণ করেছে। প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের বিপুলসংখ্যক পদ শূন্য থাকায় ব্যাহত হচ্ছে শিক্ষা কার্যক্রম। কোথাও একজন, আবার কোথাও মাত্র দুইজন শিক্ষক দিয়ে চলছে পুরো বিদ্যালয়ের পাঠদান। ফলে শিক্ষার্থীদের শিক্ষার মান নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন অভিভাবক ও স্থানীয় সচেতন মহল।

উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস সূত্রে জানা গেছে, মনপুরায় মোট ৪৩টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় রয়েছে। এর মধ্যে ২৫টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষক কর্মরত থাকলেও ১৮টি বিদ্যালয়ে প্রধান শিক্ষকের পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। এছাড়া সহকারী শিক্ষকের আরও ৩০টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। সরেজমিনে বিভিন্ন বিদ্যালয় ঘুরে দেখা গেছে, শিক্ষক সংকটের কারণে নির্ধারিত রুটিন অনুযায়ী ক্লাস পরিচালনা করা সম্ভব হচ্ছে না।

অনেক বিদ্যালয়ে একজন শিক্ষককে গণিত, ইংরেজি ও বিজ্ঞানসহ একাধিক বিষয় পড়াতে হচ্ছে। একই সময়ে একাধিক শ্রেণির পাঠদানও পরিচালনা করতে দেখা গেছে একজন শিক্ষককে। শিক্ষক স্বল্পতার কারণে অনেক সময় ক্লাস বন্ধ থাকায় শিক্ষার্থীরা মাঠে খেলাধুলা করছে। কোথাও কোথাও নিয়মিত পাঠদান না হওয়ায় শিক্ষার্থীদের উপস্থিতিও ছিল কম। একাধিক অভিভাবক জানান, শিক্ষক সংকটের কারণে নিয়মিত ক্লাস না হওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে সন্তানদের কোচিং বা প্রাইভেট পড়ানোর ব্যবস্থা করছেন।

তবে অনেক পরিবারের পক্ষে এই অতিরিক্ত ব্যয় বহন করা সম্ভব হচ্ছে না। মনপুরা প্রাথমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাধারণ সম্পাদক মো. আজাদুর রহমান বলেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে শিক্ষক সংকট দীর্ঘদিনের। সীমিত জনবল দিয়ে শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে গিয়ে নানা সমস্যার মুখোমুখি হতে হচ্ছে। সরকার দ্রুত শূন্য পদগুলোতে শিক্ষক নিয়োগ ও পদায়নের ব্যবস্থা করলে এ সংকট অনেকটাই দূর হবে।

উপজেলা শিক্ষা কর্মকর্তা মো. আসরাফ বলেন, উপজেলার বিভিন্ন সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে এখনও বেশ কিছু শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে। আগামী অক্টোবর মাসে নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত শিক্ষকরা যোগদান করলে সংকট কিছুটা কমবে। পাশাপাশি দ্রুত শিক্ষক পদায়নের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে। এ বিষয়ে মাধ্যমিক বিদ্যালয় শিক্ষক-কর্মচারী সমিতির সাবেক সভাপতি এবং হাজিরহাট মডেল সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মো. আলমগীর হোসেন বলেন, প্রাথমিক শিক্ষা শিক্ষার্থীদের শিক্ষাজীবনের ভিত্তি।

এ পর্যায়ে শিক্ষক সংকট দীর্ঘস্থায়ী হলে এর নেতিবাচক প্রভাব মাধ্যমিক ও উচ্চমাধ্যমিক স্তরেও পড়বে। তাই দ্রুত শিক্ষক সংকট দূর করা জরুরি। স্থানীয় বাসিন্দাদের দাবি, দুর্গম ও বিচ্ছিন্ন দ্বীপাঞ্চলে শিক্ষক সংকট নিরসনে বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা করে দ্রুত শিক্ষক নিয়োগ এবং দীর্ঘমেয়াদি পদায়নের উদ্যোগ নিতে হবে। তবেই প্রাথমিক শিক্ষার মান বজায় রাখা সম্ভব হবে।