12:12 pm, Monday, 3 August 2026

এসএসসির ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

  • MIT ERP
  • Update Time : 12:11:43 pm, Monday, 3 August 2026
  • 0

এসএসসির ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আসন্ন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। আগের বছরের মতো এবারও কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, কোটা ও পছন্দক্রম বিবেচনায় ভর্তি সম্পন্ন করা হবে। যদিও ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, আপাতত সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে শিক্ষা প্রশাসন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্তের পর একাদশ শ্রেণিতেও একই পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান অনলাইনভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বহাল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের দু-এক দিন আগেই একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমের বিস্তারিত জানানো হবে। তবে এ মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। এর আগে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফল প্রকাশের সময় পরিবর্তনের কারণে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমও পিছিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, আগে ৩০ জুলাই থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। তবে নতুন পরিস্থিতিতে ফল প্রকাশের পর সংশোধিত সময়সূচি ঘোষণা করে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে। গত কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুযায়ী নির্বাচন করতে পারে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর ফলাফল, প্রযোজ্য কোটা এবং পছন্দক্রম বিবেচনা করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। সাধারণ কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর ভর্তি কার্যক্রম এ পদ্ধতিতেই সম্পন্ন হয়। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি পৃথক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগের নিয়মেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে বিভিন্ন কোটা নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি হওয়াই প্রায় নিশ্চিত। কারণ ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হলে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যে নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন করাও কঠিন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। পরীক্ষার প্রথম দিনই ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও আরও কিছু শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি। ফলে এবারও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, চূড়ান্তভাবে কত আসন খালি থাকবে তা নির্ভর করবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পাসের হারের ওপর। পাসের হার বেশি হলে খালি আসনের সংখ্যা কমবে, আর পাসের হার কম হলে খালি আসন আরও বাড়তে পারে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

এসএসসির ফলের ভিত্তিতে একাদশে ভর্তি

Update Time : 12:11:43 pm, Monday, 3 August 2026

আসন্ন ২০২৬-২৭ শিক্ষাবর্ষেও উচ্চমাধ্যমিক স্তরের একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে। আগের বছরের মতো এবারও কেন্দ্রীয়ভাবে অনলাইনে আবেদন গ্রহণ করা হবে এবং শিক্ষার্থীদের ফলাফল, কোটা ও পছন্দক্রম বিবেচনায় ভর্তি সম্পন্ন করা হবে। যদিও ভর্তি পরীক্ষা চালুর বিষয়ে আলোচনা হয়েছিল, আপাতত সেই উদ্যোগ থেকে সরে এসেছে শিক্ষা প্রশাসন। শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের অধীন বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক পর্যায়ে লটারির পরিবর্তে ভর্তি পরীক্ষা চালুর সিদ্ধান্তের পর একাদশ শ্রেণিতেও একই পদ্ধতি চালুর সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। তবে শেষ পর্যন্ত বিদ্যমান অনলাইনভিত্তিক ভর্তি পদ্ধতি বহাল রাখার উদ্যোগ নিয়েছে ঢাকা শিক্ষা বোর্ড। এ বিষয়ে ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক সৈয়দ আখতারুজ্জামান বলেন, এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফল প্রকাশের দু-এক দিন আগেই একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমের বিস্তারিত জানানো হবে। তবে এ মুহূর্তে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে চাননি। চলতি বছরের এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফল আগামী ১০ আগস্ট প্রকাশ করা হবে। এর আগে ২০ জুলাই ফল প্রকাশের পরিকল্পনা থাকলেও শিক্ষা বোর্ডগুলোর প্রস্তুতি সম্পন্ন না হওয়ায় তা পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফল প্রকাশের সময় পরিবর্তনের কারণে একাদশ শ্রেণির ভর্তি কার্যক্রমও পিছিয়ে যাচ্ছে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ড সূত্র জানিয়েছে, আগে ৩০ জুলাই থেকে অনলাইনে আবেদন গ্রহণের প্রাথমিক পরিকল্পনা ছিল। তবে নতুন পরিস্থিতিতে ফল প্রকাশের পর সংশোধিত সময়সূচি ঘোষণা করে ভর্তি কার্যক্রম শুরু করা হবে। গত কয়েক বছর ধরে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার ফলাফলের ভিত্তিতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি করা হচ্ছে। এ প্রক্রিয়ায় শিক্ষার্থীদের নির্ধারিত ফি জমা দিয়ে অনলাইনে আবেদন করতে হয়। আবেদনকারী শিক্ষার্থীরা সর্বনিম্ন পাঁচটি এবং সর্বোচ্চ ১০টি কলেজ বা সমমানের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পছন্দক্রম অনুযায়ী নির্বাচন করতে পারে। পরবর্তীতে শিক্ষার্থীর ফলাফল, প্রযোজ্য কোটা এবং পছন্দক্রম বিবেচনা করে একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ভর্তির জন্য মনোনয়ন দেওয়া হয়। সাধারণ কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোর ভর্তি কার্যক্রম এ পদ্ধতিতেই সম্পন্ন হয়। তবে কারিগরি শিক্ষা বোর্ডের অধীন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানগুলোতে ভর্তি পৃথক প্রক্রিয়ায় পরিচালিত হয়। ঢাকার নটর ডেম কলেজসহ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান ছাড়া দেশের প্রায় সব কলেজ ও মাদ্রাসায় কেন্দ্রীয় অনলাইন পদ্ধতিতে ভর্তি সম্পন্ন হয়। বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ের (বুয়েট) কারিগরি সহায়তায় ঢাকা শিক্ষা বোর্ড এই কার্যক্রম পরিচালনা করে। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের এক কর্মকর্তা জানান, বর্তমান সিদ্ধান্ত অনুযায়ী আগের নিয়মেই ভর্তি কার্যক্রম পরিচালিত হবে। তবে বিভিন্ন কোটা নিয়ে কিছু পর্যবেক্ষণ ও আলোচনা রয়েছে। এ বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে শিক্ষা মন্ত্রণালয়। তিনি বলেন, এসএসসি ও সমমানের ফলাফলের ভিত্তিতে ভর্তি হওয়াই প্রায় নিশ্চিত। কারণ ভর্তি পরীক্ষা চালু করা হলে নানা ধরনের জটিলতা তৈরি হতে পারে এবং অল্প সময়ের মধ্যে নতুন পদ্ধতি বাস্তবায়ন করাও কঠিন। ঢাকা শিক্ষা বোর্ডের তথ্য অনুযায়ী, সারা দেশের কলেজ ও মাদ্রাসাগুলোতে একাদশ শ্রেণিতে ভর্তিযোগ্য আসন রয়েছে ২৬ লাখের বেশি। অন্যদিকে চলতি বছর এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় অংশগ্রহণের জন্য নিবন্ধিত পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছিল ১৮ লাখ ৫৭ হাজারের বেশি। পরীক্ষার প্রথম দিনই ১১টি শিক্ষা বোর্ডে ২৫ হাজার ৪০৮ জন পরীক্ষার্থী অনুপস্থিত ছিল। পরবর্তী পরীক্ষাগুলোতেও আরও কিছু শিক্ষার্থী অংশ নেয়নি। ফলে এবারও উল্লেখযোগ্যসংখ্যক আসন খালি থাকার সম্ভাবনা রয়েছে। শিক্ষা সংশ্লিষ্টদের মতে, চূড়ান্তভাবে কত আসন খালি থাকবে তা নির্ভর করবে এসএসসি ও সমমানের পরীক্ষার পাসের হারের ওপর। পাসের হার বেশি হলে খালি আসনের সংখ্যা কমবে, আর পাসের হার কম হলে খালি আসন আরও বাড়তে পারে।