11:17 am, Monday, 3 August 2026

উপকূলে অসময়ের ‘সবুজ বিপ্লব’: ‘তরমুজ কাব্য’ ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:41:08 am, Monday, 3 August 2026
  • 1

উপকূলে অসময়ের ‘সবুজ বিপ্লব’: ‘তরমুজ কাব্য’ ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

আজ ৩ আগস্ট—বিশ্ব তরমুজ দিবস। রসে ভরপুর, লাল টুকটুকে ও প্রাণজুড়ানো এই ফলের বিশ্বজুড়ে রয়েছে বর্ণিল কদর। তবে প্রথাগত বা সাধারণ ধারণায় ‘তরমুজ’ বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে চৈত্র-বৈশাখ কিংবা প্রখর গ্রীষ্মের দাবদাহ। কিন্তু প্রকৃতির সেই বাধা ও সনাতন নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এক অভাবনীয় সাফল্য ঘটিয়েছেন অদম্য নারী উদ্যোক্তা শিরিনা খাতুন। অসময়ে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে তিনি কেবল নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরাননি, বরং উপকূলজুড়ে সৃষ্টি করেছেন এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অনুপ্রেরণার গল্প। শিরিনা খাতুন তার ৪৩ শতক জমিতে শুরু করেন অসময়ের তরমুজ চাষ। তবে সনাতন পদ্ধতিতে নয়, তিনি গ্রহণ করেছেন পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি। জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে, ক্ষতিকর আগাছা সম্পূর্ণ দমন করতে এবং ক্ষতিকারক পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কমাতে তিনি ব্যবহার করেছেন বিশেষ ‘মালচিং পেপার’। মাটিতে ফল না ফেলে তিনি তৈরি করেছেন সুদৃঢ় মাচা। ক্ষতিকর মাছি পোকা বা ভারি বৃষ্টিপাত থেকে রক্ষা করতে লতা থেকে ঝুলন্ত প্রতিটি তরমুজকে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সূক্ষ্ম নেটে। বর্তমানে তার খেত ঝুলছে শত শত সুন্দর জালে মোড়ানো তরমুজ। পুরো খেত যেন এক সবুজের সমারোহ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির এক নতুন স্বপ্ন ক্ষেত্র। শিরিনা খাতুনের নতুন এই উদ্যোগে তার ৪৩ শতক প্রযুক্তির ব্যবহার মাচা পদ্ধতি, মালচিং পেপার ও ফ্রুট ব্যাগিং মোট খরচ (এখন পর্যন্ত): প্রায় ৬০,০০০ টাকা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৬ তারিখেই প্রথমবারের মতো খেত থেকে তরমুজ তোলা শুরু হবে। বাজারে অসময়ের এই রসালো তরমুজের চড়া চাহিদা ও বাজারমূল্য দুটোই বহুগুণ বেশি থাকায়, ভালো মুনাফা বা বাম্পার লাভের আশা করছেন উদ্যোক্তা শিরিনা ও স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তারা। উপকূলের সম্ভাবনার দুয়ার ও কৃষি কর্মকর্তার আশ্বাস একসময় উপকূলীয় নোনা কিংবা অমৌসুমী মাটিতে তরমুজ চাষ ছিল প্রায় অসম্ভব এক কাল্পনিক ব্যাপার। কিন্তু শিরিনা উদ্যোগ নিয়ে প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছা আর সঠিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে যেকোনো মাটিতেই সোনা ফলানো সম্ভব। তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজেরা খাতুন বলেন, একসময় সাতক্ষীরার উপকূলে অসময়ে তরমুজ চাষ ছিল খুবই দূরহ ব্যাপার। কিন্তু আধুনিক কৃষির হাত ধরে এখন সবকিছুই সম্ভব, আর আমাদের নারী উদ্যোক্তা শিরিনা খাতুন সেটি বাস্তবে দেখিয়ে দিয়েছেন। আমাদের কৃষি অফিসের সার্বিক পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা তার সাথে সবসময় ছিল এবং থাকবে। ধারণা করছি, এই মডেলটি খুব দ্রুত পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। কারণ অসময়ে তরমুজ চাষ করলে ফলনের সাথে সাথে বাজারে চড়া দামও পাওয়া যায়, যা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত স্বাবলম্বী করে তোলে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

উপকূলে অসময়ের ‘সবুজ বিপ্লব’: ‘তরমুজ কাব্য’ ও সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

Update Time : 10:41:08 am, Monday, 3 August 2026

আজ ৩ আগস্ট—বিশ্ব তরমুজ দিবস। রসে ভরপুর, লাল টুকটুকে ও প্রাণজুড়ানো এই ফলের বিশ্বজুড়ে রয়েছে বর্ণিল কদর। তবে প্রথাগত বা সাধারণ ধারণায় ‘তরমুজ’ বললেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে চৈত্র-বৈশাখ কিংবা প্রখর গ্রীষ্মের দাবদাহ। কিন্তু প্রকৃতির সেই বাধা ও সনাতন নিয়মকে বুড়ো আঙুল দেখিয়ে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় জেলা সাতক্ষীরার তালা উপজেলায় এক অভাবনীয় সাফল্য ঘটিয়েছেন অদম্য নারী উদ্যোক্তা শিরিনা খাতুন। অসময়ে মাচা পদ্ধতিতে তরমুজ চাষ করে তিনি কেবল নিজের ভাগ্যের চাকা ঘুরাননি, বরং উপকূলজুড়ে সৃষ্টি করেছেন এক নতুন অর্থনৈতিক সম্ভাবনা ও অনুপ্রেরণার গল্প। শিরিনা খাতুন তার ৪৩ শতক জমিতে শুরু করেন অসময়ের তরমুজ চাষ। তবে সনাতন পদ্ধতিতে নয়, তিনি গ্রহণ করেছেন পরিবেশবান্ধব ও আধুনিক কৃষি প্রযুক্তি। জমির আর্দ্রতা ধরে রাখতে, ক্ষতিকর আগাছা সম্পূর্ণ দমন করতে এবং ক্ষতিকারক পোকা-মাকড়ের আক্রমণ কমাতে তিনি ব্যবহার করেছেন বিশেষ ‘মালচিং পেপার’। মাটিতে ফল না ফেলে তিনি তৈরি করেছেন সুদৃঢ় মাচা। ক্ষতিকর মাছি পোকা বা ভারি বৃষ্টিপাত থেকে রক্ষা করতে লতা থেকে ঝুলন্ত প্রতিটি তরমুজকে জড়িয়ে দেওয়া হয়েছে সূক্ষ্ম নেটে। বর্তমানে তার খেত ঝুলছে শত শত সুন্দর জালে মোড়ানো তরমুজ। পুরো খেত যেন এক সবুজের সমারোহ এবং গ্রামীণ অর্থনীতির এক নতুন স্বপ্ন ক্ষেত্র। শিরিনা খাতুনের নতুন এই উদ্যোগে তার ৪৩ শতক প্রযুক্তির ব্যবহার মাচা পদ্ধতি, মালচিং পেপার ও ফ্রুট ব্যাগিং মোট খরচ (এখন পর্যন্ত): প্রায় ৬০,০০০ টাকা। সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে আগামী ৬ তারিখেই প্রথমবারের মতো খেত থেকে তরমুজ তোলা শুরু হবে। বাজারে অসময়ের এই রসালো তরমুজের চড়া চাহিদা ও বাজারমূল্য দুটোই বহুগুণ বেশি থাকায়, ভালো মুনাফা বা বাম্পার লাভের আশা করছেন উদ্যোক্তা শিরিনা ও স্থানীয় কৃষি উদ্যোক্তারা। উপকূলের সম্ভাবনার দুয়ার ও কৃষি কর্মকর্তার আশ্বাস একসময় উপকূলীয় নোনা কিংবা অমৌসুমী মাটিতে তরমুজ চাষ ছিল প্রায় অসম্ভব এক কাল্পনিক ব্যাপার। কিন্তু শিরিনা উদ্যোগ নিয়ে প্রমাণ করেছেন—ইচ্ছা আর সঠিক প্রযুক্তির সমন্বয়ে যেকোনো মাটিতেই সোনা ফলানো সম্ভব। তালা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা হাজেরা খাতুন বলেন, একসময় সাতক্ষীরার উপকূলে অসময়ে তরমুজ চাষ ছিল খুবই দূরহ ব্যাপার। কিন্তু আধুনিক কৃষির হাত ধরে এখন সবকিছুই সম্ভব, আর আমাদের নারী উদ্যোক্তা শিরিনা খাতুন সেটি বাস্তবে দেখিয়ে দিয়েছেন। আমাদের কৃষি অফিসের সার্বিক পরামর্শ ও কারিগরি সহযোগিতা তার সাথে সবসময় ছিল এবং থাকবে। ধারণা করছি, এই মডেলটি খুব দ্রুত পুরো উপকূলীয় অঞ্চলে ছড়িয়ে পড়বে। কারণ অসময়ে তরমুজ চাষ করলে ফলনের সাথে সাথে বাজারে চড়া দামও পাওয়া যায়, যা কৃষকদের অর্থনৈতিকভাবে দ্রুত স্বাবলম্বী করে তোলে।