3:11 pm, Sunday, 2 August 2026

দুবাই কারাগার থেকে বেনজীরের জামিন

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:20:34 pm, Sunday, 2 August 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর ৩০ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। মুক্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন। তবে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নিয়ে এ মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। দুবাইয়ের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আদালত জামিনের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তার পাসপোর্ট আদালতের জিম্মায় রাখা এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে যেতে না পারা। জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় নিয়ে আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই শুনানি শেষে শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার ভিত্তিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ অভিযানে দুবাই পুলিশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলও সহযোগিতা করে। পরে গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায় দুবাই পুলিশ। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদক একাধিক মামলা করেছে। এসব অভিযোগের তদন্তের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বিরুদ্ধে আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় তার নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৪ সালে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে দুদক তদন্ত শুরু করে। সে সময় তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং বিভিন্ন মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

ধামইরহাটে বজ্রপাতে কৃষি শ্রমিকের মৃত্যু

দুবাই কারাগার থেকে বেনজীরের জামিন

Update Time : 02:20:34 pm, Sunday, 2 August 2026

বাংলাদেশ পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুবাইয়ে কারাগার থেকে জামিনে মুক্তি পেয়েছেন। গত ২৭ জুলাই দুবাইয়ের একটি আদালত তার জামিন আবেদন মঞ্জুর করে। পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় আইনি আনুষ্ঠানিকতা শেষ হওয়ার পর ৩০ জুলাই তিনি কারাগার থেকে মুক্ত হন। মুক্তির পর এক প্রতিক্রিয়ায় বেনজীর আহমেদ জানান, আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তিনি জামিনে মুক্তি পেয়েছেন এবং বর্তমানে শারীরিকভাবে সুস্থ রয়েছেন। তবে মামলার পরবর্তী আইনি কার্যক্রম নিয়ে এ মুহূর্তে বিস্তারিত মন্তব্য করতে তিনি অনিচ্ছা প্রকাশ করেন। দুবাইয়ের একাধিক সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, আদালত জামিনের ক্ষেত্রে কয়েকটি শর্ত আরোপ করেছে। এর মধ্যে রয়েছে তার পাসপোর্ট আদালতের জিম্মায় রাখা এবং আদালতের অনুমতি ছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতের বাইরে যেতে না পারা। জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকারের পক্ষ থেকে পাঠানো প্রত্যর্পণসংক্রান্ত নথি এবং সংশ্লিষ্ট আইনি বিষয় নিয়ে আদালতে উভয় পক্ষের শুনানি অনুষ্ঠিত হয়। সেই শুনানি শেষে শর্তসাপেক্ষে তাকে জামিন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় আদালত। এদিকে, বিষয়টি নিয়ে এখন পর্যন্ত দুবাই কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেওয়া হয়নি। বাংলাদেশ পুলিশ সদর দপ্তরের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারাও এ বিষয়ে মন্তব্য করতে রাজি হননি। এর আগে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) করা একটি মামলার ভিত্তিতে দুবাইয়ে বেনজীর আহমেদকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ অভিযানে দুবাই পুলিশের পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পুলিশ সংস্থা ইন্টারপোলও সহযোগিতা করে। পরে গত ১২ জুন এক চিঠির মাধ্যমে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষকে গ্রেপ্তারের বিষয়টি জানায় দুবাই পুলিশ। বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে অবৈধ সম্পদ অর্জন ও অর্থ পাচারের অভিযোগে দুদক একাধিক মামলা করেছে। এসব অভিযোগের তদন্তের ধারাবাহিকতায় আন্তর্জাতিক পর্যায়েও তার বিরুদ্ধে আইনি উদ্যোগ নেওয়া হয়। ২০২০ সালের ১৫ এপ্রিল থেকে ২০২২ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ পুলিশের আইজিপি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বেনজীর আহমেদ। এর আগে তিনি ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) কমিশনার এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়নের (র‌্যাব) মহাপরিচালকের দায়িত্বও পালন করেন। ২০২১ সালের ডিসেম্বরে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগে যুক্তরাষ্ট্র র‍্যাবের কয়েকজন কর্মকর্তার ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করলে সেই তালিকায় তার নামও অন্তর্ভুক্ত ছিল। ২০২৪ সালে বেনজীর আহমেদের বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ প্রকাশ্যে এলে দুদক তদন্ত শুরু করে। সে সময় তিনি দেশ ত্যাগ করেন। পরবর্তীতে তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলা দায়ের হয় এবং বিভিন্ন মামলায় আদালত তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাও জারি করেন।