3:48 pm, Sunday, 2 August 2026

কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:45:32 pm, Sunday, 2 August 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এদিন মামলার ২৭তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান জেরা করেন। জেরা শেষ হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্কের জন্য ৪ আগস্ট দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তার সঙ্গে প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ প্রসিকিউশন দলের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। তার জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের শাসনকাল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা উঠে আসে। উল্লেখ্য, মামলার প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ এপ্রিল শেষ হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের সাক্ষ্য এবং পরে তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। এর আগে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্ররোচনা দিয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংস কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই দেশব্যাপী হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

কাদেরসহ ৭ জনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় সাক্ষ্যগ্রহণ শেষ, ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক

Update Time : 02:45:32 pm, Sunday, 2 August 2026

জুলাই গণঅভ্যুত্থানকে কেন্দ্র করে দায়ের হওয়া মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদেরসহ যুবলীগ ও ছাত্রলীগের সাত শীর্ষ নেতার বিরুদ্ধে সাক্ষ্যগ্রহণ পর্ব শেষ হয়েছে। মামলার পরবর্তী ধাপ হিসেবে আগামী ৪ আগস্ট যুক্তিতর্ক উপস্থাপনের দিন নির্ধারণ করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। রোববার (২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এর চেয়ারম্যান বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বে গঠিত তিন সদস্যের বেঞ্চ এ আদেশ দেন। বেঞ্চের অন্য দুই সদস্য হলেন বিচারক মো. মঞ্জুরুল বাছিদ এবং বিচারক নূর মোহাম্মদ শাহরিয়ার কবীর। এদিন মামলার ২৭তম সাক্ষী ও তদন্ত কর্মকর্তা আহমেদ নাসের উদ্দিন মোহাম্মদকে আসামিপক্ষের রাষ্ট্রনিযুক্ত আইনজীবী লোকমান হাওলাদার ও ইশরাত জাহান জেরা করেন। জেরা শেষ হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্কের জন্য ৪ আগস্ট দিন ধার্য করেন। রাষ্ট্রপক্ষের পক্ষে শুনানিতে অংশ নেন প্রসিকিউটর ফারুক আহাম্মদ। তার সঙ্গে প্রসিকিউটর মঈনুল করিমসহ প্রসিকিউশন দলের অন্যান্য সদস্য উপস্থিত ছিলেন। এর আগে, ২৬ জুলাই সাংবাদিক আশরাফ কায়সার ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেন। তার জবানবন্দিতে আওয়ামী লীগের দীর্ঘ সময়ের শাসনকাল এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংক্রান্ত বিভিন্ন ঘটনার বর্ণনা উঠে আসে। উল্লেখ্য, মামলার প্রথম দফার সাক্ষ্যগ্রহণ ২৭ এপ্রিল শেষ হওয়ার পর আদালত যুক্তিতর্কের তারিখ নির্ধারণ করেছিল। তবে রাষ্ট্রপক্ষের আবেদনের ভিত্তিতে অতিরিক্ত সাক্ষ্য গ্রহণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। সেই ধারাবাহিকতায় প্রথমে সাংবাদিক আশরাফ কায়সারের সাক্ষ্য এবং পরে তদন্ত কর্মকর্তার পুনরায় জবানবন্দি গ্রহণ করা হয়। এই মামলার অন্য আসামিরা হলেন আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আ ফ ম বাহাউদ্দিন নাছিম, সাবেক তথ্য ও সম্প্রচার প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ আলী আরাফাত, যুবলীগের সভাপতি শেখ ফজলে শামস পরশ, সাধারণ সম্পাদক মাইনুল হোসেন খান নিখিল, ছাত্রলীগের সভাপতি সাদ্দাম হোসেন এবং সাধারণ সম্পাদক ওয়ালি আসিফ ইনান। আদালতের তথ্য অনুযায়ী, সাত আসামিই বর্তমানে পলাতক। চলতি বছরের ২২ জানুয়ারি ট্রাইব্যুনাল-২ তাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠনের মাধ্যমে বিচার কার্যক্রম আনুষ্ঠানিকভাবে শুরু করেন। এর আগে, গত বছরের ১৮ ডিসেম্বর রাষ্ট্রপক্ষের দাখিল করা আনুষ্ঠানিক অভিযোগ (ফরমাল চার্জ) আমলে নেওয়া হয়েছিল। প্রসিকিউশনের অভিযোগে বলা হয়েছে, জুলাই-আগস্টের আন্দোলন দমনে আসামিরা সমন্বিতভাবে নির্দেশনা, উসকানিমূলক বক্তব্য ও প্ররোচনা দিয়েছেন। পাশাপাশি দলীয় নেতাকর্মীদের মাঠে নামিয়ে প্রতিরোধ গড়ে তোলা, বিভিন্ন বৈঠকে সহিংস কর্মকাণ্ডের পরিকল্পনা, সশস্ত্র হামলা, কঠোর দমন-পীড়ন এবং গণমাধ্যম নিয়ন্ত্রণে ভূমিকা রাখার অভিযোগও তাদের বিরুদ্ধে আনা হয়েছে। রাষ্ট্রপক্ষের দাবি, এসব কর্মকাণ্ডের ফলেই দেশব্যাপী হত্যা, হত্যাচেষ্টা ও ব্যাপক সহিংসতার ঘটনা ঘটে, যা মানবতাবিরোধী অপরাধের আওতায় পড়ে।