যশোরের বেনাপোল-শার্শা বাজারে আরেক দফা বাড়ল কাঁচামরিচের দাম। রেকর্ড দামে বিক্রি হচ্ছে কাঁচামরিচ। কেজিপ্রতি ৩০০ এর ঘরে চলছে জরুরি এ নিত্যপণ্যের দাম। সেই সাথে বেগুনসহ বিভিন্ন সবজিতে বাড়তি দাম অব্যাহত রয়েছে। দুই দিনের ব্যবধানেই কাঁচামরিচের দাম আবারও বাড়ল। রোববার সকালে বিভিন্ন বাজারে প্রতি কেজি কাঁচামরিচ বিক্রি হয় ২৮০ থেকে ৩০০ টাকায়। দুই দিন আগেও যা বিক্রি হয় ২৫০ থেকে ২৭০ টাকায়। দু’একটি সবজিতে ১০ থেকে ৩০ টাকা করে কমলেও চড়া দাম অব্যাহত রয়েছে বেশির ভাগ সবজিতে। এদিন প্রতি কেজি বেগুন বিক্রি হয় ১৪০ থেকে ১৬০ টাকায়। উচ্ছে ১২০, বরবটি ১০০, কাকরোল, ওল, করলা, কচুরলতি, শসা ৮০ টাকা কেজি। পটল, চিচিঙ্গা, ঢেঁড়শ, কচুরমুখি, লাউ বিক্রি হয় ৬০ টাকা কেজিতে। মিষ্টি কুমড়া ৪০ থেকে ৫০ টাকা, কাঁচকলা ৪০, পেঁপে ৩০ টাকা। বিটকপি ৮০, টমেটো, গাজর ১২০ টাকা কেজিতে বিক্রি হয়। দোকানভেদে আলু বিক্রি হয় ২৫ থেকে ৩০ টাকা কেজিতে। একাধিক বিক্রেতা জানান, গত কিছুদিনের টানা বৃষ্টিতে যশোর ও এর বিভিন্ন উপজেলার সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে, অনেক সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়েছে। বাইরের জেলা শহরগুলো থেকেও সবজির আমদানি কমেছে। এতে দাম বেড়েছে। বেনাপোল বাজারের সবজি বিক্রেতা হারুন অর রশিদ বলেন, এক-দেড়শ কেজির জায়গায় ৫০-৬০ কেজি করে সবজি পাচ্ছি। কোনো কোনো দিন তার চেয়েও কম পাচ্ছি। দাম তো বাড়বেই। অপর দুই সবজি বিক্রেতা মুজিবর ও জাইদুল ইসলাম বলেন, বাড়তি দামের কারণে ক্রেতা কম পাচ্ছি। ব্যাবসায়িক লসে রয়েছি আমরা। অন্যদিকে সবজির বাড়তি দামের কারণে সাধারণ ক্রেতারা চরম দুর্ভোগে পড়েছেন। সস্তার সবজিও বাড়তি দামে বিক্রি হওয়ায় ক্রেতাদের মাঝে অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। বিক্রেতাদের দেখানো নানা কারণকে অজুহাত বলছেন তারা, দুষছেন সিন্ডিকেটকে। প্রশাসন কর্তৃক নিয়মিত বাজার মনিটরিং ও বাজার সিন্ডিকেট ভাঙার দাবি ক্রেতাদের। বড় আঁচড়া গ্রামের রাসেল হোসেন বলেন, বেশ কয়েক বছর ধরে নিত্যপণ্যের দাম বেড়েই চলেছে। কোনো কারণে দাম বাড়লে তার সাথে সিন্ডিকেট যুক্ত হয়ে সাধারণ মানুষের ভোগান্তি আরও বাড়িয়ে দিচ্ছে। সাদীপুর গ্রামের মশিউর রহমান বলেন, সবজির বাড়তি দামের কারণে আমাদের মতো মানুষদের সমস্যা বেশি হচ্ছে। শার্শার আব্দুল মান্নান বলেন, সিন্ডিকেট ভাঙা এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিং না করলে আমাদের ভোগান্তি শেষ হবে না। এদিকে কিছুটা কমেছে পেঁয়াজের দাম। বিক্রি হচ্ছে ৪০ থেকে ৫০ টাকা কেজিতে। যা গত সপ্তাহে বিক্রি হয় ৫০ থেকে ৬০ টাকায়। আদা বিক্রি হচ্ছে ১৫০ থেকে ২৬০ টাকা কেজিতে, রসুন ৬০ থেকে ১৬০, প্রতি কেজি জিরা বিক্রি হচ্ছে ৫০০ থেকে ৮০০ টাকায়। দারুচিনি ৫৫০ থেকে 6০০। এলাচ পাঁচ হাজার ২০০ থেকে ছয় হাজার টাকা কেজি, গোলমরিচ এক হাজার ২০০, লবঙ্গ এক হাজার ৪০০ থেকে এক হাজার ৫০০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে। প্রতি হালি ডিম বিক্রি হচ্ছে ৪৬ থেকে ৪৮ টাকায়। সোনালি মুরগি ও দেশি মুরগির ডিম ৬০ টাকা। হাঁসের ডিম ৭২ টাকা। কোয়েল পাখির ডিম ১২ টাকা হালি। মাংসের বাজারে প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯০ থেকে ২০০ টাকায়। সোনালি মুরগি ৩২০ টাকা। লেয়ার মুরগি ৩৫০ টাকা। দেশি মুরগি ৬৫০ টাকা কেজি। গরুর মাংস ৭৫০ থেকে ৮০০ টাকা। খাসির মাংস এক হাজার ২০০ টাকা কেজি। মাছের বাজারে ইলিশ মাছের দাম এখনো চড়া। বিক্রি হচ্ছে ৭০০ থেকে চার হাজার টাকা কেজিতে। প্রতি কেজি পাঙাশ ১৮০ থেকে ২০০, তেলাপিয়া ২২০, সিলভার কার্প ১৮০ থেকে ২০০, পুঁটি, পাবদা ৪০০, শিং ৩০০ থেকে ৮০০, টাকি ৩৫০, বাইন ৮০০, কৈ ২২০ থেকে এক হাজার ২০০ টাকা, রুই ২২০ থেকে ৩৫০, কাতলা ২৮০ থেকে ৩৫০, গ্রাসকার্প ২৫০ থেকে ৩২০, বোয়াল ৪০০ থেকে ৭০০, ভেটকি ৬০০ থেকে ৮০০, মৃগেল ২৫০, শোল, আইড় ৮০০, টেংরা ৬০০ থেকে ৮০০, পার্শে ৮০০ থেকে ৯০০, চিংড়ি ৬০০ থেকে এক হাজার ৪০০ টাকা কেজি। চালের বাজারে প্রতি কেজি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৫০ থেকে ৫২ টাকা, মিনিকেট ৬৫ থেকে ৭৮, কাজললতা ৬০, আঠাশ ৫৫ থেকে ৬৫, বাসমতি ৬৮ থেকে ৮২ ও নাজিরশাইল ৯২ থেকে ৯৬ টাকা কেজিতে। মুদি বাজারে প্রতি কেজি খোলা আটা বিক্রি হচ্ছে ৪৫, প্যাকেট আটা ৫৫, খোলা সয়াবিন তেল ২০৫, বোতলজাত সয়াবিন তেল ২০০, চিনি ১১০ থেকে ১৪০, লবণ ৪০, বুট ডাল ৬০, ছোলার ডাল ১০০, মসুরের ডাল ৯০ থেকে ১৬০ এবং মুগ ডাল ১৩০ থেকে ১৬০ টাকা কেজিতে বিক্রি হচ্ছে।
2:39 pm, Sunday, 2 August 2026
শিরোনাম :
টানা বৃষ্টিতে সবজির ক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে, তিনশ’ ছাড়াল কাঁচামরিচের দাম
-
MIT ERP
- Update Time : 11:16:05 am, Sunday, 2 August 2026
- 5
Tag :
Popular Post
























