যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে সম্ভাব্য যেকোনো ইরানের আক্রমণ মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা জারি করেছে ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সম্ভাব্য কঠোর সামরিক অভিযানের আশঙ্কায় ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী এই প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানা গেছে। ইসরায়েলের চ্যানেল টুয়েলভের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েল মনে করছে যেকোনো মার্কিন হামলার জবাবে তেহরান তাদের ওপরও ব্যালিস্টিক মিসাইল হামলা চালাতে পারে, এমনকি এই অভিযানে ইসরায়েল সরাসরি অংশ না নিলেও ইরান বসে থাকবে না। এদিকে সার্বিক পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন সংবাদমাধ্যম সিবিএস জানিয়েছে, ইসরায়েল বর্তমানে সর্বোচ্চ উচ্চ সতর্কতায় রয়েছে। তবে এ বিষয়ে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক তথ্য প্রকাশ করেনি। দেশটির হোম ফ্রন্ট কমান্ড থেকেও সাধারণ নাগরিকদের জন্য নতুন কোনো জরুরি নির্দেশনা জারি করা হয়নি। বেন গুরিয়ন আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বাভাবিক কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে এবং এখন পর্যন্ত কোনো ফ্লাইট বাতিলের খবর পাওয়া যায়নি। তবে সাম্প্রতিক দিনগুলোতে বেশ কিছু মার্কিন রিফুয়েলিং বিমান ইসরায়েলের দিকে যাওয়ার ফলে ব্যস্ত এই বিমানবন্দরে কিছুটা লজিস্টিক জটিলতা ও ভিড় তৈরি হতে পারে বলে জানিয়েছে চ্যানেল টুয়েলভ। অন্যদিকে ইরানের তরফ থেকেও তীব্র হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করা হয়েছে। ইরানের ফার্স বার্তা সংস্থার বরাত দিয়ে ইরান ইন্টারন্যাশনাল জানিয়েছে, মার্কিন হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের প্রধান জ্বালানি অবকাঠামোসহ ইসরায়েলের লেভিয়াথান ও তামার গ্যাস ক্ষেত্রকে সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করতে পারে তেহরান। একই সঙ্গে সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, কুয়েত ও বাহরাইনের তেল-গ্যাস ক্ষেত্র ও শোধনাগারগুলোও তাদের সম্ভাব্য প্রতিক্রিয়ার তালিকায় রয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়েছে। ইরানি পার্লামেন্টের মুখপাত্র ইব্রাহিম রেজাই আমেরিকার চাপের মুখে নতি স্বীকারের সম্ভাবনা সম্পূর্ণ নাকচ করে দিয়ে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এ ধরনের ধারণা একটি নিছক বিভ্রম মাত্র। ইরান আক্রান্ত হলে পুরো অঞ্চল ও এর সমস্ত স্থাপনাকে প্রস্তর যুগে ফিরিয়ে দেওয়া হবে বলে তিনি কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন।
2:47 am, Sunday, 2 August 2026
শিরোনাম :












