7:02 pm, Saturday, 1 August 2026

আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল

  • MIT ERP
  • Update Time : 06:11:08 pm, Saturday, 1 August 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এ সময় তারা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। মাহ্দী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, সকালের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। গত পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে মার্কিন পক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মাহ্দী আমিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আস্থার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) সর্বশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইজারিতে বাংলাদেশকে মার্কিন বিনিয়োগকারী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এসে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করতে পারবেন। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাহ্দী আমিন বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ খাতে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার তা কাটিয়ে উঠতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি নিরসন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর ও শুল্ক সংস্কার এবং বেজা ও বিইপিজেডএসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দেশে একটি ‘প্রো-বিজনেস’ ও ‘প্রো-ইনভেস্টমেন্ট’ পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। মাহদী আমিন জানান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সহজ করতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন (২৪/৭) সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে দ্রুত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদ ও আত্মকর্মসংস্থানে সক্ষম করে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখে জনবান্ধব বাজেট ও নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

আগামী সপ্তাহে বাংলাদেশে আসছে যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিদল

Update Time : 06:11:08 pm, Saturday, 1 August 2026

বিনিয়োগের সুযোগ অনুসন্ধান এবং বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদারের লক্ষ্যে আগামী সপ্তাহের শেষ নাগাদ যুক্তরাষ্ট্রের ২৫টি শীর্ষস্থানীয় কোম্পানির প্রায় ৪৫ জন জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বাংলাদেশ সফরে আসবেন। এ সময় তারা সরকারের বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও সংস্থার কর্মকর্তাদের সঙ্গে ধারাবাহিক বৈঠক করবেন। পাশাপাশি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গেও তাদের বৈঠক হওয়ার কথা রয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন। শনিবার (১ আগস্ট) বিকেলে তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের বাইরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান। দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়াবিষয়ক যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত সার্জিও গরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের বৈঠক শেষে এ ব্রিফিং অনুষ্ঠিত হয়। মাহ্দী আমিন বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদলের সফর বাংলাদেশে মার্কিন বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং দুই দেশের অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও গভীর করার ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। তিনি বলেন, সকালের বৈঠকে মার্কিন প্রতিনিধিরা বাংলাদেশের নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বের প্রতি দৃঢ় আস্থা প্রকাশ করেছেন। তারা উল্লেখ করেছেন, প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ফিরে এসেছে এবং গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা অব্যাহত রয়েছে। গত পাঁচ মাসে সরকারের গৃহীত নীতি ও পদক্ষেপের প্রশংসা করেছে মার্কিন পক্ষ উল্লেখ করে তিনি বলেন, বহুমাত্রিক ও বহুপাক্ষিক সম্পর্ককে আরও শক্তিশালী অর্থনৈতিক অংশীদারত্বে রূপ দেওয়ার বিষয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। মাহ্দী আমিন আরও বলেন, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে বাংলাদেশ সরকারের প্রতি আস্থার প্রতিফলন স্পষ্টভাবে দেখা যাচ্ছে। মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের (স্টেট ডিপার্টমেন্ট) সর্বশেষ ট্রাভেল অ্যাডভাইজারিতে বাংলাদেশকে মার্কিন বিনিয়োগকারী ও সাধারণ নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে। এর ফলে মার্কিন উদ্যোক্তারা বাংলাদেশে এসে নতুন বিনিয়োগের সম্ভাবনা অনুসন্ধান করতে পারবেন। এই সফরের মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধি পাবে এবং দেশে ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন। এদিকে, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে দেশের শীর্ষস্থানীয় ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদেরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। বৈঠকে সরকারের কয়েকজন মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা এবং বিভিন্ন সরকারি দপ্তরের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। মাহ্দী আমিন বলেন, অতীতের স্বৈরাচারী শাসনের কারণে রাষ্ট্রব্যবস্থা এবং বাণিজ্য-বিনিয়োগ খাতে যে জটিলতা সৃষ্টি হয়েছিল, বর্তমান নির্বাচিত বিএনপি সরকার তা কাটিয়ে উঠতে নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করছে। বৈঠকে ব্যবসায়ীরা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের দীর্ঘমেয়াদি ঘাটতি নিরসন, জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, কর ও শুল্ক সংস্কার এবং বেজা ও বিইপিজেডএসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিক অঞ্চলে বিনিয়োগ-সংক্রান্ত জটিলতা দূর করার দাবি জানান। জবাবে প্রধানমন্ত্রী তাদের বক্তব্য মনোযোগ দিয়ে শোনেন এবং দেশে একটি ‘প্রো-বিজনেস’ ও ‘প্রো-ইনভেস্টমেন্ট’ পরিবেশ নিশ্চিত করার আশ্বাস দেন। মাহদী আমিন জানান, আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম আরও দ্রুত ও সহজ করতে ব্যবসায়ীদের প্রস্তাবের ভিত্তিতে প্রধানমন্ত্রী তাৎক্ষণিক কয়েকটি সিদ্ধান্ত গ্রহণ করেছেন। বিশেষ করে চট্টগ্রাম বন্দর, ঢাকা বিমানবন্দরসহ দেশের অন্যান্য বন্দরে বাণিজ্যিক কার্যক্রম সচল রাখতে ২৪ ঘণ্টা, সপ্তাহে সাত দিন (২৪/৭) সেবা নিশ্চিত করার জন্য সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরকে দ্রুত নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। তিনি পুনর্ব্যক্ত করেন, দেশের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদ ও আত্মকর্মসংস্থানে সক্ষম করে তোলাই সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য। ‘করব কাজ, গড়ব দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই নীতিকে সামনে রেখে জনবান্ধব বাজেট ও নীতিমালার সফল বাস্তবায়নে সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ বলেও জানান তিনি। সংবাদ সম্মেলনে প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন, উপ-প্রেস সচিব জাহিদুল ইসলাম রনি এবং সহকারী প্রেস সচিব কে এম নাজমুল হক উপস্থিত ছিলেন। সূত্র : বাসস