২০২৬-২৭ অর্থবছরে ছয় লাখ কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে চায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এ লক্ষ্যে গত মঙ্গলবার ২১ সদস্যের একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আগামী ৩১ আগস্টের মধ্যে এই কমিটিকে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। এদিকে তামাক খাত থেকে বছরে ৪০ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণ করে সরকার। এই খাত থেকে আরও রাজস্ব আদায় বৃদ্ধির কৌশল নির্ধারণ ও তামাক খাতে বিগত ৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে এনবিআর। সরকার ও এনবিআরের শীর্ষ কর্মকর্তারা চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরে লক্ষ্যমাত্রার ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা অর্জন করা সম্ভব বলে মনে করছে। তবে গত বছরের চেয়ে বর্ধিত রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা অর্জন নিয়ে সংশয়ে আছেন মাঠপর্যায়ের কর্মকর্তারা। বিগত দিনের ‘এনবিআর সংস্কার ঐক্য পরিষদ’-এর আন্দোলন হওয়ায় এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি তারা। সদ্যসমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে এনবিআরের রাজস্ব আদায় সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে প্রায় ৯৩ হাজার কোটি টাকা কম হয়েছে। গত অর্থবছরের সংশোধিত বাজেটে এনবিআরের জন্য পাঁচ লাখ তিন হাজার কোটি টাকা আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছিল। ২০২৫-২৬ অর্থবছরে রাজস্ব আদায় হয়েছে চার লাখ ১০ হাজার ৩৯০ কোটি টাকা, যা সংশোধিত লক্ষ্যমাত্রার ৮১ দশমিক ছয় শতাংশ। লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৯২ হাজার ৬১০ কোটি টাকা আদায়ে পিছিয়ে ছিল এনবিআর। বৈঠক সূত্রে জানা যায়, নতুন অর্থবছরে বর্ধিত লক্ষ্যমাত্রা ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা অর্জন করা সম্ভব বলে আশাবাদী অর্থমন্ত্রী ও শীর্ষ কর্মকর্তারা। এ জন্য তামাক খাতের বর্ধিত কর আদায়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তামাক খাতে রাজস্ব ফাঁকি প্রতিরোধ এবং যথাযথ রাজস্ব আদায় নিশ্চিত করতে হবে। সেজন্য পাঁচ বছরের তামাকের উৎপাদন, পরিমাণ, গ্রাহকের তালিকা, বিড়ি ও সিগারেট উৎপাদনকারী পর্যন্ত সরবরাহের বিস্তারিত তথ্য বিশ্লেষণ করবে এনবিআর। মূলত সিগারেট খাতে রাজস্ব আহরণ বাড়াতে এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এনবিআর জানায়, লক্ষ্য অর্জনে মনিটরিং পদ্ধতি এবং মতামত দেওয়ার জন্য ২১ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। তাদের ৩১ আগস্টের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বিগত পাঁচ বছরের তামাকের উৎপাদন, পরিমাণ, গ্রাহকের তালিকা, বিড়ি ও সিগারেট উৎপাদনকারী পর্যন্ত সরবরাহের বিস্তারিত তথ্যসহ প্রতিবেদন দিতে বলা হয়েছে তাদের। মিথ্যা ঘোষণা বা অবৈধভাবে দেশে আনা টোব্যাকো পণ্য প্রতিরোধ ব্যবস্থা পর্যালোচনা করবে কমিটি। অনলাইনে বিজ্ঞাপনের মাধ্যমে বিদেশি ও নকল সিগারেটের সরবরাহ, বিপণন প্রতিরোধে সুপারিশ প্রণয়ন করবে তারা। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) কমিটির কার্যক্রম তদারক করবেন। কমিটিকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড চেয়ারম্যানের কাছে প্রতিবেদন জমা দিতে হবে। কমিটিতে নিরীক্ষা গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের (ভ্যাট গোয়েন্দা) মহাপরিচালককে আহ্বায়ক ও জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের দ্বিতীয় সচিবকে (মূসক বাস্তবায়ন : পণ্য) সদস্যসচিব করা হয়েছে। কমিটির সদস্যরা হলেন— সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেলের (সিআইসি) মহাপরিচালক, কাস্টমস গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের মহাপরিচালক (চলতি দায়িত্ব); কাস্টমস, এক্সাইজ ও ভ্যাট কমিশনারেট চট্টগ্রাম, রংপুর, যশোর, গাজীপুর, ঢাকা (পূর্ব), রাজশাহী এবং বৃহৎ করদাতা ইউনিটের (মূল্য সংযোজন কর) কমিশনার। এনবিআরের একাধিক সদস্য রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘৬৬ হাজার করদাতার স্বয়ংক্রিয় (অটোমেটেড) পদ্ধতিতে নির্বাচিত ফাইলের অডিট দ্রুত সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’ বিদায়ি অর্থবছরে পিছিয়ে পড়লেও চলতি অর্থবছরে এনবিআরকে ছয় লাখ চার হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আদায় করতে হবে, যা সদ্যসমাপ্ত অর্থবছরের তুলনায় প্রায় ৪৫ শতাংশ বেশি। তবে এনবিআরের সেই সক্ষমতা আছে বলে সম্প্রতি রাজস্ব ভবনে মন্তব্য করেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের রাজস্ব আদায় নিয়ে তিনি বলেন, ‘জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর্মকর্তারা এ লক্ষ্য অর্জনে প্রস্তুত আছেন। রাজস্ব আদায় ভালো হবে। এনবিআরের সবাই প্রস্তুত। আমরা যে রাজস্ব লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছি, তা পূরণ হবে।’ জানতে চাইলে জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের সদস্য (মূসক বাস্তবায়ন ও আইটি) সৈয়দ মুসফিকুর রহমান রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, ‘সিগারেট খাতের একটা উল্লেখযোগ্য অংশ গ্রে মার্কেট রয়েছে, যেখান থেকে কর পায় না সরকার। ফলে যারা ট্যাক্স দিয়ে সিগারেট বিক্রি করে, তাদের বেচাকেনা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।’ মনিটরিং কমিটির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘সেজন্য আমরা চেষ্টা করছি তামাক পাতা উৎপাদন থেকে শুরু করে ফ্যাক্টরিতে যাওয়া পর্যন্ত মনিটরিং সিস্টেমের মধ্যে আনতে। যেখানে যা সিগারেট, তামাক পাতা বিক্রি হচ্ছে, সে অনুযায়ী যেন আমরা সঠিক রাজস্ব আহরণ করতে পারি। এই উদ্দেশ্যে মনিটরিং কমিটি করা হয়েছে।’
5:15 am, Saturday, 1 August 2026
শিরোনাম :












