মতিঝিল থানায় ২০১৮ সালে আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদিউর রহমানের বিরুদ্ধে অর্থ পাচারের অভিযোগে মামলা করেছিল দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। ওই মামলার এজাহারে বলা হয়, অবৈধ উপায়ে সিঙ্গাপুরে ১ কোটি ৬৮ লাখ টাকা পাচার করা হয়েছে। সেই অর্থ সিঙ্গাপুরে এমএস এরিয়াল মেরিটাইম লিমিটেডে বিনিয়োগ করেন তিনি। আট বছর আগের মামলাটির গতি ফেরাতে নতুন করে তদন্তে নথিপত্র তলব করেছে সংস্থাটি। দুদকের সহকারী পরিচালক (জনসংযোগ) তানজীর আহমেদ বলেন, আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংকের চেয়ারম্যান বদিউর রহমানের বিরুদ্ধে সিঙ্গাপুরে অর্থ পাচারের মাধ্যমে কোম্পানি প্রতিষ্ঠার অভিযোগে করা মামলার তদন্তের স্বার্থে বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ নথি তলব করে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকে চিঠি দেওয়া হয়েছে। আগামী ১০ আগস্টের মধ্যে সাত ধরনের নথি দুদক বরাবর পাঠাতে বলা হয়েছে। কপিগুলো পেলে তদন্ত কর্মকর্তা পরবর্তী পদক্ষেপ নেবে। নথিপত্র তলব করে বুধবার দেওয়া দুদকের চিঠিতে বলা হয়, বদিউর রহমানের বিরুদ্ধে দুর্নীতির মাধ্যমে ১ কোটি ৬৮ লাখ ৩৮ হাজার ৮০০ টাকা সিঙ্গাপুরে পাচারের অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগে বলা হয়, ওই অর্থের অবৈধ প্রকৃতি, উৎস, অবস্থান ও মালিকানা গোপন করতে বিনিয়োগের ছদ্মাবরণে সিঙ্গাপুরে এম/এস এরিয়াল মেরিটাইম প্রাইভেট লিমিটেড নামের কোম্পানি প্রতিষ্ঠা ও ভোগদখলের মাধ্যমে বদিউর রহমান মানিলন্ডারিংয়ের অপরাধ করেছেন। দুদকের চিঠিতে সূত্র হিসেবে ২০১৮ সালের ২৬ জুন করা মতিঝিল থানার একটি মামলা এবং ২০২৫ সালের ১৩ নভেম্বর দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে দেওয়া একটি চিঠির কথা বলা আছে। তদন্তের জন্য বদিউর রহমানের ১৯৯৫ সালের ১ জুলাই থেকে ২০০৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত আয়কর নথি এবং একই সময়ে সিঙ্গাপুরের বাসিন্দা হিসেবে সেখানে জমা দেওয়া আয়কর রিটার্নের সত্যায়িত অনুলিপি চাওয়া হয়েছে। এ ছাড়া ২০০৩ সালে সিঙ্গাপুরে নিবন্ধিত এম/এস এরিয়াল মেরিটাইম প্রাইভেট লিমিটেডের সার্টিফিকেট অব ইনকরপোরেশন, বিজনেস প্রোফাইল, শেয়ার সনদ, মেমোরেন্ডাম অ্যান্ড আর্টিকেলস অব অ্যাসোসিয়েশন এবং পরিচালক ও সদস্যদের নিবন্ধনের সত্যায়িত অনুলিপি চেয়েছে দুদক। কোম্পানিতে বিনিয়োগ করা ৫ লাখ সিঙ্গাপুরি ডলার ব্যাংকিং চ্যানেলে পরিশোধের টিটি বা সুইফট কপি এবং মূলধন জমার ব্যাংক হিসাব বিবরণীও চাওয়া হয়েছে। পাশাপাশি ২০০৩ থেকে ২০০৬ অর্থবছর পর্যন্ত সিঙ্গাপুরের ইনল্যান্ড রেভিনিউ অথরিটিতে জমা দেওয়া কোম্পানির আয়কর বিবরণী, নিরীক্ষিত আর্থিক প্রতিবেদন এবং বদিউর রহমানের ধারণ করা শেয়ারের বিপরীতে ইস্যু করা শেয়ার সনদের সত্যায়িত অনুলিপি জমা দিতে বলেছে দুদক। প্রায় দুই বছর বাংলাদেশ ব্যাংকের বসানো স্বতন্ত্র পরিচালকদের নেতৃত্বে চলছিল আল-আরাফাহ ইসলামী ব্যাংক। গত ১৫ জুলাই ব্যাংকটির ১৪ জন শেয়ারহোল্ডারকে পরিচালক করার অনুমোদন দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। এর মধ্যে ছয়জন কেডিএস গ্রুপের। অন্যদের বেশির ভাগই ব্যাংকটির উদ্যোক্তা পরিচালক। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এ সিদ্ধান্তের দুই দিন পর নতুন নেতৃত্ব বেছে নেয় ব্যাংকটির পরিচালনা পর্ষদ। তাতে চেয়ারম্যান পদে ফেরেন বদিউর রহমান। তিনি ২০০৮ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন সময়ে ব্যাংকটির চেয়ারম্যান ছিলেন।
5:15 am, Saturday, 1 August 2026
শিরোনাম :
চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ
-
MIT ERP
- Update Time : 03:51:48 am, Saturday, 1 August 2026
- 3
Tag :
Popular Post











