হবিগঞ্জে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাকর্মীদের সঙ্গে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের সংঘর্ষ ও মারপিটের ঘটনায় ছাত্রদল নেতাদের বিরুদ্ধে মামলা করেছে এনসিপি। এবার এনসিপির ১০ নেতার নাম উল্লেখ করে পাল্টা অভিযোগ করেছে ছাত্রদল। গত বৃহস্পতিবার রাতে জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন রুকন হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদ হোসেনের কাছে লিখিত অভিযোগটি দেন। অভিযোগে অজ্ঞাতপরিচয় আরও ৫০ জনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান জানান, এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ দলটির ১০ নেতার নাম অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। অভিযোগে বলা হয়েছে, গত মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের কর্মসূচির অংশ হিসেবে জুলাই আন্দোলনের শহিদ রিপন শীলের পরিবারের সঙ্গে সাক্ষাৎ এবং শোকসভায় অংশ নিতে নেতাকর্মীরা হবিগঞ্জ পৌরসভার কোর্ট মসজিদের সামনে জড়ো হন। এ সময় এনসিপির কেন্দ্রীয় মুখ্য সংগঠক নাসীরুদ্দীন পাটোয়ারী, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ অন্যরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালায়। এতে জেলা ছাত্রদলের নেতা মাহফুজ চৌধুরী, মোজাক্কির হোসেন ইমনসহ কয়েকজন আহত হন। হামলার সময় ছাত্রদল নেতাদের চারটি আইফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নেওয়া হয় বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে। এর আগে এনসিপির নেতাকর্মীদের ওপর হামলার অভিযোগে জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শাহ রাজীব আহমেদ রিংগনসহ ১১ জনের নাম উল্লেখ করে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় একটি মামলা করা হয়। মামলার বাদী হয়েছেন জেলা যুব শক্তির আহ্বায়ক তন্ময় তানভীর রুয়েল। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় হবিগঞ্জ শহরের টাউন হলের সামনে পদযাত্রা শেষে ফেরার পথে জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) নেতাদের বহনকারী গাড়িতে স্থানীয় ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা অতর্কিত হামলা চালায় বলে অভিযোগ ওঠে। পরে এ হামলার প্রতিবাদে বুধবার এনসিপি ও যুবদল-ছাত্রদলের ঘোষিত পাল্টাপাল্টি কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে সকাল থেকেই থমথমে হয়ে ওঠে হবিগঞ্জ শহর। এ ঘটনা নিয়ে বিএনপি ও এনসিপির মধ্যে টানটান উত্তেজনার মধ্যে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে সকাল ১০টার পর হবিগঞ্জ পৌর এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করেন জেলা প্রশাসক। শহরের গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে মোড়ে পুলিশ মোতায়েন করা হয়। পাশাপাশি নিরাপত্তা জোরদারে দায়িত্ব পালন করে বিজিবি। পরে বুধবার বিকেলে ১৪৪ ধারা উপেক্ষা করেই হবিগঞ্জে প্রবেশের চেষ্টা করেন এনসিপির কেন্দ্রীয় নেতারা। এ সময় গাড়িবহরে দলের আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, সদস্যসচিব আখতার হোসেন, মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম, হাসনাত আবদুল্লাহ, সারওয়ার তুষার এবং জাতীয় নারী শক্তির সদস্যসচিব মাহমুদা মিতুসহ কেন্দ্রীয় নেতারা ছিলেন। তবে বাহুবল উপজেলার পুরাতন ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের রশীদপুর এলাকায় পৌঁছালে তাদের গাড়িবহরের গতি রোধ করে পুলিশ। এ সময় পুলিশ ও এনসিপির নেতাকর্মীদের মধ্যে কথা কাটাকাটি এবং ধাক্কাধাক্কির ঘটনা ঘটে। পরে সেখানে দীর্ঘ দুই ঘণ্টারও বেশি সময় ধরে আলোচনা ও উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতি বিরাজ করে। পরিস্থিতি বিবেচনায় শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভ কর্মসূচি স্থগিত করার ঘোষণা দেয় এনসিপি। এরপর মঙ্গলবারের হামলার ঘটনায় মামলার জন্য পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদলকে হবিগঞ্জ সদর থানায় যাওয়ার অনুমতি চায় দলটি। তবে নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে সেই অনুমতি দেয়নি পুলিশ। পরে উভয় পক্ষের সমঝোতায় আহ্বায়ক নাহিদ ইসলামের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের প্রতিনিধিদল কামাইছড়া পুলিশ ক্যাম্পে উপস্থিত হয়ে লিখিত অভিযোগ দেন এনসিপি নেতারা। পরে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, অভিযোগটি মামলা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছে। এনসিপি নেতাদের মারধরের ঘটনায় ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও দেখে জড়িতদের শনাক্ত করা হবে। গত বৃহস্পতিবার ছাত্রদলের অভিযোগে এনসিপির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক আবু হেনা মোস্তফা কামাল, সদস্যসচিব মাহবুবুল বারী চৌধুরী মুবিন, প্রধান সমন্বয়কারী নাহিদ উদ্দিন তারেক, জাতীয় শক্তির হবিগঞ্জ জেলা শাখার আহ্বায়ক নুর আলম চৌধুরী, ফখরুদ্দিন জাকি, মো. আব্দুল হাই কামাল, রুহাম গাজী ও ওয়াদুদ মাহমুদ চৌধুরীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। হবিগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক মো. জিল্লুর রহমান বলেন, ‘এনসিপির নেতাকর্মীরা আমাদের নেতাকর্মীদের ওপর হামলা চালিয়ে কয়েকটি আইফোন ও নগদ অর্থ ছিনিয়ে নিয়েছে। আহতদের চিকিৎসা দেওয়া হয়েছে। এ ঘটনায় হবিগঞ্জ সদর মডেল থানায় অভিযোগ করা হয়েছে।’ এ বিষয়ে জানতে চাইলে হবিগঞ্জ সদর মডেল থানার ওসি জাহিদ হোসেন বলেন, ‘গভীর রাতে অভিযোগটি পেয়েছি। বিষয়টি তদন্ত করে মামলা নেওয়া হবে।’
4:38 am, Saturday, 1 August 2026
শিরোনাম :
হবিগঞ্জে সারজিসসহ ১০ জনের নামে পাল্টা অভিযোগ
-
MIT ERP
- Update Time : 03:21:16 am, Saturday, 1 August 2026
- 3
Tag :
Popular Post











