বিলুপ্ত না করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন (র‌্যাব) নতুন নামে মাঠে নামছে। প্রস্তাবিত নতুন নাম এসআরবি করে র‌্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব) নাম পরির্বতনের পক্ষে মত দিয়েছেন নীতিনির্ধারকেরা। গতকাল বুধবার বিকেলে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে বিভিন্ন বাহিনীর অংশগ্রহণে এ নামকরণের বিষয়ে অধিকাংশ মত দিয়েছেন। যদিও এ বিষয়ে চূড়ান্ত কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, গতকাল ও আগের দিন মঙ্গলবার র‌্যাব বিলুপ্ত হবে, নাকি নতুন নামে আইনের সংশোধীনর মাধ্যমে মাঠে থাকবেÑ এ বিষয়ে যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। সভায় পুলিশ, বিজিবি, আনসার, ফায়ার সার্ভিসসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বিভিন্ন বাহিনীর প্রধানেরা অংশ নেন। পাশাপাশি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিবসহ দায়িত্বশীল কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে র‌্যাবকে পুরোপুরি বিলুপ্ত না করে প্রস্তাবিত দুটি নামের মধ্যে যেকোনো একটি নামে মাঠে রাখার বিষয়ে সবাই একমত হন। পাশাপাশি আইনের কিছু দিক পরিবর্তন করে র‌্যাবকে মানবিক ও মানবাধিকার রক্ষায় জবাবদিহির মধ্যে রেখে নতুন নামে রাখার বিষয়ে প্রস্তাব আসে। এর মধ্যে এসআরবি নামের পক্ষেই অধিকাংশ মত দিয়েছেন। জানা গেছে, র‌্যাবের নাম পরিবর্তন করে বাহিনীটিকে নতুনরূপে সাজিয়ে রেখে দিতে চায় সরকার। এজন্য নতুন করে একটি আইন তৈরির প্রক্রিয়া শুরু করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেই আইনের খসড়ায় সামরিক ও অন্যান্য শৃঙ্খলা বাহিনী থেকে সদস্য নেওয়ার সুযোগ বহাল রাখা হয়েছে। স্পেশাল রেসপন্স ফোর্স (এসআরএফ) অথবা স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন (এসআরবি) নামে পুলিশের অধীনে নতুন ইউনিট গঠনের প্রস্তাব দিয়ে পৃথক আইনের খসড়া তৈরি করছে মন্ত্রণালয়। আগে আর্মড পুলিশ ব্যাটালিয়ন (সংশোধনী) আইন, ২০০৩-এর মাধ্যমে র‌্যাব গঠন করা হয়েছিল। নতুন দুটি নাম থেকে যেকোনো একটি চূড়ান্ত হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো। নতুন আইনের খসড়া নিয়ে গতকাল বুধবার স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সভায় সভাপতিত্ব করেন সিনিয়র সচিব। এ সভায় পুলিশ-প্রধান, র‌্যাবের মহাপরিচালকসহ (ডিজি) সংশ্লিষ্টরা উপস্থিত ছিলেন। সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা জানান, র‌্যাবের নতুন দুটি নামের মধ্যে ‘এসআরবি’ রাখার ব্যাপারে অধিকাংশই মতামত প্রকাশ করেন। খসড়া আইন নিয়ে সংশ্লিষ্টদের মধ্যে কেউ কেউ আরও সময় নিয়ে চিন্তাভাবনা করে প্রস্তাব উপস্থাপনের পক্ষে মতামত ব্যক্ত করে বলেন, নতুন যে আইনে এবং নতুন নামে র‌্যাবের কার্যক্রম শুরু হবে তা যেন বিগত দিনের বদনামকে সঙ্গী করতে না পারে, সে জন্য যুগোপযোগী আইন করতে হবে। খসড়া আইনটি নিয়ে আরও বিশদ আলোচনা, পর্যালোচনা করা দরকার বলে সভায় উপস্থিত একাধিক কর্মকর্তা মত প্রকাশ করেন। সংশ্লিষ্ট সূত্রটি জানিয়েছে, খসড়াটি চূড়ান্ত করতে সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে আরেকটি সভা করবে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সেখানে সবার মতামত নিয়ে নতুন নামে আসা আইনের খসড়া চূড়ান্ত করা হবে। খসড়ায় মোট ৯টি অধ্যায়ে ২৯টি ধারা রাখা হয়েছে। এর মধ্যে ইউনিটের গঠন, দায়িত্ব, তল্লাশি ও গ্রেপ্তার, ফৌজদারি অপরাধের তদন্ত, সদস্যদের অপরাধ ও শাস্তি, শৃঙ্খলা, অভিযোগ প্রতিকার, প্রশিক্ষণ এবং পুরোনো র‌্যাবের সম্পদ ও সদস্য স্থানান্তরের বিধান রয়েছে। প্রস্তাবিত কাঠামো কার্যকর হলে র‌্যাব নামটি বিলুপ্ত হলেও বাহিনীটির সদস্য, স্থাপনা, অস্ত্র, সরঞ্জাম, মামলা, চুক্তি, দায়দেনা ও কার্যক্রম নতুন ইউনিটের অধীনে চলে যাবে। ফলে এটি কার্যত র‌্যাবের বিলুপ্তি নয়; বরং নাম বদলে পৃথক আইনের অধীনে পুনর্গঠন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। গুম, বিচারবহির্ভূত হত্যাকা-সহ মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত থাকায় জাতিসংঘ, গুমসংক্রান্ত তদন্ত কমিশন এবং বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থা র‌্যাব বিলুপ্তির সুপারিশ করেছিল। এই বাস্তবতার মধ্যে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এমন আইন প্রণয়নের চিন্তা করছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে বিএনপিও অন্তর্বর্তী সরকারের সময় সংবাদ সম্মেলন করে র‌্যাব বিলুপ্ত করার সুপারিশ করেছিল।
5:17 am, Thursday, 30 July 2026
শিরোনাম :








