চাঁদপুরের শাহরাস্তি উপজেলার আয়নাতলী এলাকায় জনতার হাতে আটক এক মাদক কারবারির মোবাইল ফোনে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথন, অর্থ লেনদেনসংক্রান্ত হোয়াটসঅ্যাপ চ্যাট ও ভয়েস ক্লিপ পাওয়ার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় এলাকায় ব্যাপক চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। মঙ্গলবার বেলা ১১টার দিকে স্থানীয় বাসিন্দারা আয়নাতলী এলাকার মাদক কারবারি মিজানুর রহমানকে আটক করে ইউনিয়ন পরিষদে নিয়ে যান। এ সময় উপস্থিত লোকজন তার ব্যবহৃত মোবাইল ফোন পরীক্ষা করে কয়েকজন পুলিশ সদস্যের সঙ্গে কথোপকথনের তথ্য পান। পরে ভবিষ্যতে আর কখনো মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত হবেন না এমন প্রতিশ্রুতি দিয়ে ক্ষমা প্রার্থনা করলে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়। স্থানীয়ভাবে আটকের পর ধারণ করা ভিডিওতে দেখা যায়, মিজানুর রহমানের মোবাইল ফোনে উপ-পরিদর্শক (এসআই) আরিফ হোসেন, এসআই মিঠু দাস, সহকারী উপ-পরিদর্শক (এএসআই) সহিদুল্লাহ, এএসআই এরশাদ মিয়া, এসআই রফিকুল ইসলাম এবং পুলিশ সদস্য শরিফুল ইসলামের সঙ্গে অসংখ্য চ্যাট ও ভয়েস ক্লিপ রয়েছে। কয়েকটি কথোপথনে অর্থ লেনদেনের বিষয়ও উঠে এসেছে বলে অভিযোগ করা হয়েছে। একটি ভয়েস ক্লিপে মিজানুর রহমান একজন পুলিশ কর্মকর্তাকে বলেন, ভাই, বিকাশে খরচসহ ১০ হাজার টাকা পাঠিয়েছি। অপর একটি কথোপকথনে এএসআই সহিদুল্লাহকে ১০ হাজার ২০০ টাকা দিয়েছি, বাকিটা পরে দেব বলে উল্লেখ করা হয়েছে বলে দাবি করা হয়। এ ছাড়া পুলিশ সদস্য শরিফুল ইসলামকে ৫ হাজার ১০০ টাকা খরচসহ দিয়েছি বলেও একটি ভয়েস ক্লিপে শোনা যায়। একটি চ্যাটে এএসআই সহিদুল্লাহর নামে আগামীকালের মধ্যে ৫০ শেষ করবি—এমন একটি বার্তাও পাওয়া গেছে বলে দাবি করা হয়। আটকের পর মাদক কারবারি মিজানুর রহমান স্থানীয়দের কাছে দাবি করেন, মাদকের কারবার পরিচালনার জন্য তিনি নিয়মিত পাঁচজনকে মাসোহারা (চাঁদা) দিতেন এবং তার ৪১ জন নিয়মিত ক্রেতা রয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, মিজানুর রহমান দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক কারবারের সঙ্গে জড়িত। এর আগে তিনি একাধিকবার আটক হয়েছেন এবং তার বিরুদ্ধে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে কয়েকটি মামলা রয়েছে। ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেও বিষয়টি নিয়ে প্রতিক্রিয়া দেখা যায়। ফেসবুকে হাজী আল সুলতান নামে এক ব্যক্তি শাহরাস্তি থানার এক পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে মাদক উদ্ধার অভিযানে অনিয়মের অভিযোগ তুলে পোস্ট করেন। তবে ওই অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এলাকাবাসীর পক্ষে সালেহ আহমেদ বলেন, আমরা সবার উপস্থিতিতে যা পেয়েছি, তা অনেকেই দেখেছেন। আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের বিরুদ্ধেই যদি এমন অভিযোগ ওঠে, তাহলে সাধারণ মানুষ কোথায় যাবে? আমরা এখন নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছি। ইউপি চেয়ারম্যান জোবায়েদ কবির বাহাদুর বলেন, এর আগেও তাকে আটক করে সেনাবাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়েছিল। তাকে সতর্ক করা হয়েছিল, কিন্তু সে আবারো মাদক ব্যবসায় জড়িয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। শাহরাস্তি মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মীর মাহবুবুর রহমান বলেন, যেসব পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠেছে, সে বিষয়ে তিনি অবগত নন। কোনো পুলিশ সদস্যের মাদক কারবারির সঙ্গে সম্পর্ক থাকা উচিত নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
4:20 am, Friday, 31 July 2026
শিরোনাম :
চাঁদপুরে পুলিশের সঙ্গে মাদক কারবারির অর্থ লেনদেনের অভিযোগ
-
MIT ERP
- Update Time : 01:33:01 am, Thursday, 30 July 2026
- 5
Tag :
Popular Post












