সেন্টার ফর রিসার্চ অ্যান্ড ইনফরমেশন (সিআরআই) নামের প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অবৈধ কর সুবিধা গ্রহণ, ক্ষমতার অপব্যবহার ও শত শত কোটি টাকার সন্দেহজনক লেনদেনের অভিযোগে দায়ের করা মামলায় প্রতিষ্ঠানটির আয়কর নথি জব্দের আবেদন করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুদকের সহকারী পরিচালক ও মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ঢাকার সিনিয়র স্পেশাল জজ আদালতে এ আবেদন করেন। মামলার এজাহারে সিআরআইর ট্রাস্টি ও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের পাশাপাশি নীতিবহির্ভূতভাবে কর সুবিধা দেওয়ার অভিযোগে সরকারি কর্মকর্তাদেরও আসামি করা হয়েছে। অভিযুক্তদের মধ্যে রয়েছেন— ১. সজীব আহমেদ ওয়াজেদ জয়, সিআরআইর চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তিবিষয়ক উপদেষ্টা।
২. সায়মা ওয়াজেদ, সিআরআইর ভাইস চেয়ারম্যান ও ট্রাস্টি। ৩. রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিক, সিআরআইর ট্রাস্টি। ৪. নসরুল হামিদ বিপু, সিআরআইর ট্রাস্টি ও সাবেক প্রতিমন্ত্রী। ৫. শাব্বির বিন শামস, সিআরআইর নির্বাহী পরিচালক। ৬. রওশন আরা আক্তার, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) কর আপিলের সদস্য। ৭. মোশারফ হোসেন ভূঁইয়া, এনবিআরের সাবেক চেয়ারম্যান।
৮. আ. হ. ম. মোস্তফা কামাল, সাবেক অর্থমন্ত্রী। দুদকের নথিপত্র অনুযায়ী, সমাজসেবা অধিদপ্তর থেকে নিবন্ধিত না হওয়া সত্ত্বেও সিআরআই ক্ষমতার অপব্যবহার করে বিশেষ প্রজ্ঞাপন বা এসআরও জারির মাধ্যমে অবৈধ কর সুবিধা গ্রহণ করে বলে অভিযোগ রয়েছে। অভিযোগ অনুযায়ী, ২০১৩-২০১৪ থেকে ২০২৩-২০২৪ করবর্ষ পর্যন্ত বিভিন্ন কোম্পানির ওপর চাপ প্রয়োগ করে অনুদান হিসেবে প্রায় ৪৫ কোটি ৩৫ লাখ ৯৫ হাজার টাকা গ্রহণ করে প্রতিষ্ঠানটি।
এ সময়ে অবৈধভাবে আয় করা অর্থের পরিমাণ দাঁড়ায় মোট ১০০ কোটি ৩১ লাখ ৪০ হাজার ৮৪৬ টাকা। তদন্তে বিভিন্ন ব্যাংক হিসাবের মাধ্যমে ৪৩৯ কোটি টাকার বেশি অস্বাভাবিক লেনদেনের তথ্য পাওয়া গেছে বলে জানিয়েছে দুদক। এ ছাড়া ৩৬ লাখ ৫২ হাজার ৭৪২ টাকা আয়কর ফাঁকি দিয়ে সরকারের আর্থিক ক্ষতিসাধনের অভিযোগ রয়েছে। পরবর্তী সময়ে এসব অর্থ স্থানান্তর, রূপান্তর ও আত্মসাতের মাধ্যমে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনসহ বিভিন্ন আইনের ধারায় অপরাধ সংঘটিত হয়েছে বলে মামলার অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
আবেদনে বলা হয়েছে, মামলার সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে সিআরআইর (টিআইএন: ৫৭৫৯৪১৯১৬৩০৪, সার্কেল-১১৬, কর অঞ্চল-০৬, ঢাকা) প্রতিষ্ঠালগ্ন থেকে ২০২৫-২০২৬ করবর্ষ পর্যন্ত আয়কর নথির স্থায়ী ও বিবিধ অংশসহ সংশ্লিষ্ট যাবতীয় রেকর্ডপত্র জব্দ করা জরুরি। এসব নথি সংগ্রহ ও পরীক্ষা করে মামলার তদন্ত এগিয়ে নেওয়ার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করে আদালতের কাছে আবেদন জানিয়েছে দুদক।



























