আজ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩১%

কুড়িগ্রামের চরে ছয় প্রতিবন্ধী নারীর মাঝে স্বাবলম্বী হওয়ার উপকরণ বিতরণ

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:57:22 pm, Wednesday, 28 October 2026
  • 26

কুড়িগ্রামের চরে ছয় প্রতিবন্ধী নারীর মাঝে স্বাবলম্বী হওয়ার উপকরণ বিতরণ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নদীভাঙন আর প্রতিকূল প্রকৃতির লড়াই পেরিয়ে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের জীবন যখন নানা বঞ্চনায় দীর্ণ, তখন আশার আলো নিয়ে পাশে দাঁড়াল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের এফডিআইডিপি প্রকল্প।

সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের ৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি করে সেলাই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় দর্জি সরঞ্জাম। ফ্রেন্ডশিপ এফডিআইডিপি প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

নির্বাচিত প্রত্যেক উপকারভোগীকে একটি করে উচ্চমানের সেলাই মেশিন ও স্ট্যান্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁদের সেলাই কাজের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে কাপড় কাটার কাঁচি, দুই রোল সুতা, মাপার ফিতা, স্কেল এবং অতিরিক্ত মেশিনের সুই। এর ফলে উপকরণ পাওয়ার পর পরই তাঁরা কোনো ধরনের বাড়তি খরচ ছাড়াই কাজ শুরু করতে পারবেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ফ্রেন্ডশিপ অফিস চত্বরে আয়োজিত এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মশিউর রহমান মন্ডল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফ্রেন্ডশিপ ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রজেক্ট ম্যানেজার আশরাফ মল্লিক এবং এফডিআইডিপি প্রজেক্ট ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম। এ সময় ফ্রেন্ডশিপের অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের প্রতিবন্ধী মানুষেরা সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত অংশের অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের পেছনে ফেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সামান্য একটু সুযোগ ও সহযোগিতার ছোঁয়া পেলে এই মানুষগুলোও যে সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হতে পারে, আজকের এই উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব প্রমাণ। ফ্রেন্ডশিপের এই ইতিবাচক প্রয়াস চরের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনপদের জীবনমান উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপকরণ হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা।

তাঁদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আগামী দিনে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এক নতুন প্রত্যয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, চরের পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক জনপদে এ ধরনের জীবনমুখী ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কুড়িগ্রামের অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ডেঙ্গু ও হামের উপসর্গে আরও ১১ জনের মৃত্যু

কুড়িগ্রামের চরে ছয় প্রতিবন্ধী নারীর মাঝে স্বাবলম্বী হওয়ার উপকরণ বিতরণ

Update Time : 03:57:22 pm, Wednesday, 28 October 2026

নদীভাঙন আর প্রতিকূল প্রকৃতির লড়াই পেরিয়ে কুড়িগ্রামের চরাঞ্চলের মানুষের জীবন যখন নানা বঞ্চনায় দীর্ণ, তখন আশার আলো নিয়ে পাশে দাঁড়াল বেসরকারি উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেন্ডশিপের এফডিআইডিপি প্রকল্প।

সদর উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চলের ৬ জন প্রতিবন্ধী ব্যক্তিকে স্বাবলম্বী করে তোলার লক্ষ্যে তাঁদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে একটি করে সেলাই মেশিনসহ প্রয়োজনীয় দর্জি সরঞ্জাম। ফ্রেন্ডশিপ এফডিআইডিপি প্রকল্প সূত্রে জানা যায়, কুড়িগ্রাম সদর উপজেলার দুর্গম চরাঞ্চলের প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক সচ্ছলতা ও আত্মমর্যাদা প্রতিষ্ঠার কথা চিন্তা করে এই বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়।

নির্বাচিত প্রত্যেক উপকারভোগীকে একটি করে উচ্চমানের সেলাই মেশিন ও স্ট্যান্ড দেওয়া হয়েছে। এর পাশাপাশি তাঁদের সেলাই কাজের পূর্ণাঙ্গ প্রস্তুতি হিসেবে প্রদান করা হয়েছে কাপড় কাটার কাঁচি, দুই রোল সুতা, মাপার ফিতা, স্কেল এবং অতিরিক্ত মেশিনের সুই। এর ফলে উপকরণ পাওয়ার পর পরই তাঁরা কোনো ধরনের বাড়তি খরচ ছাড়াই কাজ শুরু করতে পারবেন। বুধবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরে ফ্রেন্ডশিপ অফিস চত্বরে আয়োজিত এই উপকরণ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন উপজেলা সমাজসেবা অফিসার মশিউর রহমান মন্ডল।

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি ছিলেন ফ্রেন্ডশিপ ক্লাইমেট অ্যাকশন প্রজেক্ট ম্যানেজার আশরাফ মল্লিক এবং এফডিআইডিপি প্রজেক্ট ম্যানেজার শফিকুল ইসলাম। এ সময় ফ্রেন্ডশিপের অন্যান্যরা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, চরাঞ্চলের প্রতিবন্ধী মানুষেরা সমাজের সবচেয়ে সুবিধাবঞ্চিত অংশের অন্তর্ভুক্ত। তাঁদের পেছনে ফেলে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন সম্ভব নয়।

সামান্য একটু সুযোগ ও সহযোগিতার ছোঁয়া পেলে এই মানুষগুলোও যে সমাজের বোঝা না হয়ে সম্পদে পরিণত হতে পারে, আজকের এই উদ্যোগ তারই একটি বাস্তব প্রমাণ। ফ্রেন্ডশিপের এই ইতিবাচক প্রয়াস চরের পিছিয়ে পড়া প্রান্তিক জনপদের জীবনমান উন্নয়নে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তাঁরা আশাবাদ ব্যক্ত করেন। উপকরণ হাতে পেয়ে আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন উপকারভোগী প্রতিবন্ধী ব্যক্তিরা।

তাঁদের চোখে-মুখে ফুটে ওঠে আগামী দিনে নিজের পায়ে দাঁড়ানোর এক নতুন প্রত্যয়। স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছেন, চরের পিছিয়ে থাকা প্রান্তিক জনপদে এ ধরনের জীবনমুখী ও কল্যাণমূলক উদ্যোগ অব্যাহত থাকলে কুড়িগ্রামের অবহেলিত চরাঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উল্লেখযোগ্যভাবে বদলে যাবে।