আজ বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩২°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৭°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৩১%

ডিভি লটারি পুনরায় চালুর নির্দেশ মার্কিন আদালতের

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:11:54 pm, Wednesday, 28 October 2026
  • 21

ডিভি লটারি পুনরায় চালুর নির্দেশ মার্কিন আদালতের

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু থাকতে পারে। তবে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

রেড ঈগল ল নামের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান এ মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত কর্মসূচিটি আটকে রেখেছে। এতে আবেদনকারীদের পাশাপাশি লটারি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়। ডিভি লটারি সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত।

এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্বাচিত হলে আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মতো এ লটারিতে অংশ নিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন হয় না।

তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়। আবেদনের জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এ কর্মসূচির সূচনা করেন।

১৯৬৫ সালের পরবর্তী অভিবাসন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, তা কমানোর লক্ষ্যেই মূলত কর্মসূচিটি চালু করা হয়। পরিবারভিত্তিক কিংবা পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে অভিবাসনের সুযোগের বাইরে থাকা অনগ্রসর ও কম প্রতিনিধিত্বশীল জনগোষ্ঠীর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাও ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ করা ভিসার সংখ্যার মধ্যে মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি তার স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত থাকে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

দুপচাঁচিয়ায় উন্মুক্ত লটারির মাধ্যমে মহিলা কর্মী নিয়োগ সম্পন্ন

ডিভি লটারি পুনরায় চালুর নির্দেশ মার্কিন আদালতের

Update Time : 05:11:54 pm, Wednesday, 28 October 2026

২০২৭ সালের ডাইভারসিটি ভিসা (ডিভি) লটারি কার্যক্রম পুনরায় শুরু করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন দেশটির একটি ফেডারেল আদালত। যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর নাগরিকদের জন্য এ কর্মসূচি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করে।

ফোর্বসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, আগামী ২৯ অক্টোবরের মধ্যে নিবন্ধনের সময়সূচি ঘোষণা এবং ১ নভেম্বরের মধ্যে আবেদন গ্রহণ শুরু করতে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত। গত ১৪ অক্টোবর ক্যালিফোর্নিয়ার ফেডারেল আদালতের বিচারক জিনসুক ওহতা এ আদেশ দেন। আদালতের নির্দেশ অনুযায়ী, নিবন্ধন কার্যক্রম ৩০ দিন চালু থাকতে পারে। তবে আবেদনকারীদের চূড়ান্ত সময়সূচি, যোগ্যতার শর্ত ও আবেদনপদ্ধতি সম্পর্কে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের আনুষ্ঠানিক ঘোষণার জন্য অপেক্ষা করতে বলা হয়েছে।

রেড ঈগল ল নামের একটি আইনি প্রতিষ্ঠান এ মামলা করে। প্রতিষ্ঠানটির অভিযোগ, নির্ধারিত সময়ে আবেদন গ্রহণ শুরু না করে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর কার্যত কর্মসূচিটি আটকে রেখেছে। এতে আবেদনকারীদের পাশাপাশি লটারি-সংক্রান্ত আইনি সহায়তা দেওয়া প্রতিষ্ঠানটিরও আর্থিক ক্ষতি হয়েছে বলে আদালতে দাবি করা হয়। ডিভি লটারি সাধারণভাবে গ্রিন কার্ড লটারি নামে পরিচিত।

এ কর্মসূচির আওতায় যুক্তরাষ্ট্রে তুলনামূলকভাবে কম অভিবাসী পাঠায়—এমন দেশগুলোর যোগ্য নাগরিকদের জন্য প্রতিবছর সর্বোচ্চ ৫৫ হাজার অভিবাসী ভিসা বরাদ্দ দেওয়া হয়। নির্বাচিত হলে আবেদনকারীরা যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সুযোগ পেতে পারেন। অন্যান্য অনেক কর্মভিত্তিক অভিবাসন প্রক্রিয়ার মতো এ লটারিতে অংশ নিতে সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রের কোনো প্রতিষ্ঠানের চাকরির প্রস্তাব বা নিয়োগকর্তার পৃষ্ঠপোষকতা প্রয়োজন হয় না।

তবে লটারিতে নির্বাচিত হলেই গ্রিন কার্ড নিশ্চিত হয় না। আবেদনকারীদের নির্ধারিত যোগ্যতা পূরণ, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা এবং অভিবাসন ও নিরাপত্তা যাচাই সম্পন্ন করতে হয়। আবেদনের জন্য সাধারণত উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষা বা সমমানের যোগ্যতা থাকতে হয়। বিকল্প হিসেবে নির্ধারিত শর্ত পূরণকারী পেশায় কাজের অভিজ্ঞতাও গ্রহণযোগ্য হতে পারে। ১৯৯০ সালের ইমিগ্রেশন অ্যাক্টে স্বাক্ষরের মাধ্যমে তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জর্জ এইচ ডব্লিউ বুশ এ কর্মসূচির সূচনা করেন।

১৯৬৫ সালের পরবর্তী অভিবাসন ব্যবস্থায় নির্দিষ্ট কিছু দেশের নাগরিকদের ক্ষেত্রে যে বৈষম্য তৈরি হয়েছিল, তা কমানোর লক্ষ্যেই মূলত কর্মসূচিটি চালু করা হয়। পরিবারভিত্তিক কিংবা পেশাগত দক্ষতার ভিত্তিতে অভিবাসনের সুযোগের বাইরে থাকা অনগ্রসর ও কম প্রতিনিধিত্বশীল জনগোষ্ঠীর যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়ার সুযোগ তৈরি করাও ছিল এর অন্যতম উদ্দেশ্য।

এ কর্মসূচিতে বরাদ্দ করা ভিসার সংখ্যার মধ্যে মূল আবেদনকারীর পাশাপাশি তার স্বামী বা স্ত্রী এবং সন্তানদের হিসাবও অন্তর্ভুক্ত থাকে।