ভোলার ৭ উপজেলায় সরকারি নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে মা-ইলিশ শিকার, মজুত ও পাচারের অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের ম্যানেজ করে নদীতে অবাধে মা-ইলিশ শিকার ও পাচার করছে অসাধু চক্রটি।
প্রতিটি উপজেলার মাছ ঘাটে প্রতিদিন সকাল-বিকেল হাঁকডাক দিয়ে মা-ইলিশ বেচাকেনা চলছে। সদরের জংশন, পূর্বইলিশা, কাঠির মাথা, নাছির মাঝি, তুলাতুলি, ভোলার খালসহ প্রায় সব ঘাটে লাখ লাখ টাকার মা-ইলিশ বেচাকেনা চলতে দেখা গেছে। স্থানীয় জেলেদের সঙ্গে আলাপ করে জানা গেছে, ২৯ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার হওয়ার কথা থাকলেও ২৫ অক্টোবর থেকে নিষেধাজ্ঞা শেষ ঘোষণা দিয়ে চক্রটি প্রশাসনের সামনেই মাছ শিকার করে অবাধে বিক্রি করছে।
চরফ্যাশনের কুকরী-মুকরী থেকে প্রায় ৮ বস্তা মা-ইলিশ জব্দ করে দক্ষিণ আইচা থানা পুলিশ। তবে এ ঘটনায় কাউকে আটক করেনি তারা। দক্ষিণ আইচা থানার ওসি আহসান কবির মাছ জব্দের বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, বিষয়টি মৎস্য কর্মকর্তাকে জানানো হয়েছে। কিছুক্ষণের মধ্যে মাছগুলো গায়েব হয়ে যায়। একইদিনে হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের খজুরগাছিয়া এলাকায় বরফভর্তি গাড়ি স্থানীয়রা আটকে রাখার খবর পেয়ে শশীভূষণ থানা পুলিশ গিয়ে তা জব্দ করে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, নিষেধাজ্ঞা উপেক্ষা করে নদী থেকে শিকার করা ইলিশ বিভিন্ন জেলায় পাচারের উদ্দেশ্যে গাড়িটি আনা হয়েছিল। এদিকে, মেঘনা নদীর ডাকাতিয়া মোহনা থেকে কুকরী-মুকরীর দক্ষিণ পাশ পর্যন্ত বিস্তীর্ণ এলাকায় মা-ইলিশ নিধনের মচ্ছব চলছে বলে অভিযোগ রয়েছে, স্পিডবোটযোগে গলাচিপা দিয়ে বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় ইলিশ পাচার করা হচ্ছে। এ ছাড়া, মেঘনা এবং বঙ্গোপসাগরের কোলঘেঁষে বিচ্ছিন্ন চর কুকরী-মুকরী ইউনিয়নের অনেকের বাড়িতে বড় বড় ফ্রিজে ইলিশ মজুত এবং লবণ দিয়ে সংরক্ষণের অভিযোগ পাওয়া গেছে।
স্থানীয়রা জানান, মাহফুজ, মঞ্জু বকস, মাহাবুব বকস ও আব্বাস বকসের নেতৃত্বে শতাধিক জেলে মাছ শিকার করছেন। অভিযোগের বিষয়ে মাহফুজ বলেন, এখানে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে কিছু জেলে নদীতে মাছ শিকার করছে, এটা সত্য, তবে আমি এই ঘটনার সঙ্গে জড়িত নই। তিনি নিশ্চিত করে বলেন, মাছ ধরার বিষয়টি মঞ্জু, আব্বাস ও মাহাবুব বকস জড়িত। এ বিষয়ে জেলা মৎস্য কর্মকর্তা মোহাম্মদ দেলোয়ার হোসাইন মা-ইলিশ ধরার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা অস্বীকার করে বলেন, জনবল কমের মধ্যও সরকারের নির্দেশ বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ কাজ করার চেষ্টা করছি।
তবে পূজার মধ্যে অভিযানে একটু গাফলতির কথা স্বীকার করেন তিনি। মা-ইলিশের নিরাপদ প্রজনন নিশ্চিত করা এবং ইলিশের বংশবিস্তার রক্ষায় ২২ দিনের নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে পালন করছি এবং সরকারের বেঁধে দেওয়া ইলিশ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রার চেয়েও আগামীতে আরও বেশি ইলিশ উৎপাদনের আশা প্রকাশ করেন এই কর্মকর্তা। মা-ইলিশ রক্ষায় উপকূলীয় জেলা ভোলার ৭ উপজেলায় মেঘনা ও তেঁতুলিয়া নদীতে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত অভিযান জোরদার, মা-ইলিশ শিকার ও পাচারের সঙ্গে জড়িতদের শনাক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের দাবি জানান স্থানীয় জনগণ।





















