আজ সোমবার, ২৬ অক্টোবর ২০২৬
১০ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৪ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৬°C
সর্বোচ্চ: ৩৬°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪%

শীতের আগেই তাড়াইল উপজেলার বাজারে লেপ তৈরির ধুম

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:36:01 am, Monday, 26 October 2026
  • 12

শীতের আগেই তাড়াইল উপজেলার বাজারে লেপ তৈরির ধুম

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠতে শুরু করেছে লেপ-তোশকের বাজার। শীত মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে লেপ, তোশক ও বালিশ তৈরি করাতে দোকানগুলোয় ভিড় করছেন ক্রেতারা।

এতে ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের। তবে তুলার দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-১০০ টাকা হওয়ায় বেড়েছে খরচ। ফলে চাহিদা বাড়তে শুরু করলেও বাড়তি দামের কারণে বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানান ব্যবসায়ী ও কারিগরেরা। হেমন্তের শুরুতেই দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা আর ভোরে ঘাস-লতাপাতার ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

পৌষ ও মাঘ দুই মাস শীতকাল হিসেবে পরিচিত হলেও আগেভাগেই শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে লেপ, তোশক ও বালিশ তৈরি করাচ্ছেন তারা। এতে ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ-তোশক তৈরির কারিগর ও দোকানিদের। তবে বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সদর বাজারের বড় মসজিদ রোড এলাকার তুলার দোকান ও লেপ-তোশক তৈরির দোকানগুলোয় ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায়।

কেউ পরিবারের জন্য, আবার কেউ মেয়ের সংসারের জন্য লেপ, তোশক ও বালিশ তৈরি করাতে এসেছেন। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কারিগরেরা। জাওয়ার ইউনিয়নের বোরগাঁও গ্রামের লেপ-তোশকের কারিগর মুহাম্মাদ আলী ও রোকন মিয়া বলেন, বছরের বেশির ভাগ সময় তাদের অলস সময় কাটাতে হয়। শীতের দুই থেকে তিন মাসই তাদের মূল মৌসুম। গত কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ায় কাজের চাপও বেড়েছে।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী লেপ-তোশক তৈরি করে সরবরাহ করতে হচ্ছে। তারা আরও বলেন, তোশকে ২০০, লেপে ২০০ ও জাজিম তৈরিতে ৩০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। দুজন কারিগর মিলে প্রায় ৩০ মিনিটেই এসব তৈরি করতে পারেন। প্রত্যেকের প্রতিদিন ছয়-সাতটি লেপ তৈরি করে প্রায় এক-দেড় হাজার টাকা আয় হয়। শীতের তীব্রতা বাড়লে কাজের চাপ ও আয়Ñ দুটিই বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

রাউতি ইউনিয়নের ভাওয়াল গ্রামের আশরাফ বলেন, এবার কিছুটা আগেভাগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। তাই পরিবারের জন্য লেপ-তোশক তৈরি করতে বাজারে এসেছেন তারা। পাশাপাশি মেয়ের বিয়েতে লেপ-তোশক ও বালিশ কিনতে হচ্ছে। তবে তুলাসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বাড়ছে। বাজারের তুলার দোকানি তাজুল ইসলাম ও আবদুল হাই বলেন, বছরের দু-তিন মাস ব্যবসার মূল মৌসুম।

এ সময় লেপ-তোশকের চাহিদা বাড়ে এবং কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করেন। গত কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ায় লেপ-তোশক বিক্রি শুরু হয়েছে। শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

তিস্তার তীব্র ভাঙনে বিলীন হচ্ছে ঘরবাড়ি ও ফসলি জমি

শীতের আগেই তাড়াইল উপজেলার বাজারে লেপ তৈরির ধুম

Update Time : 04:36:01 am, Monday, 26 October 2026

কিশোরগঞ্জের তাড়াইলে শীতের আগমনী বার্তার সঙ্গে সঙ্গে জমে উঠতে শুরু করেছে লেপ-তোশকের বাজার। শীত মোকাবিলায় আগাম প্রস্তুতি নিতে লেপ, তোশক ও বালিশ তৈরি করাতে দোকানগুলোয় ভিড় করছেন ক্রেতারা।

এতে ব্যস্ততা বেড়েছে কারিগরদের। তবে তুলার দাম প্রতি কেজি ৬০ টাকা থেকে বেড়ে ৯০-১০০ টাকা হওয়ায় বেড়েছে খরচ। ফলে চাহিদা বাড়তে শুরু করলেও বাড়তি দামের কারণে বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানান ব্যবসায়ী ও কারিগরেরা। হেমন্তের শুরুতেই দিনে গরম, রাতে ঠান্ডা আর ভোরে ঘাস-লতাপাতার ওপর জমে থাকা শিশিরবিন্দু জানান দিচ্ছে শীতের আগমনী বার্তা।

পৌষ ও মাঘ দুই মাস শীতকাল হিসেবে পরিচিত হলেও আগেভাগেই শীত মোকাবিলার প্রস্তুতি নিচ্ছেন অনেকে। পরিবারের প্রয়োজন মেটাতে লেপ, তোশক ও বালিশ তৈরি করাচ্ছেন তারা। এতে ব্যস্ততা বেড়েছে লেপ-তোশক তৈরির কারিগর ও দোকানিদের। তবে বিভিন্ন উপকরণের দাম বাড়ায় বেচাকেনা এখনো আশানুরূপ নয় বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা। সদর বাজারের বড় মসজিদ রোড এলাকার তুলার দোকান ও লেপ-তোশক তৈরির দোকানগুলোয় ক্রেতাদের আনাগোনা দেখা যায়।

কেউ পরিবারের জন্য, আবার কেউ মেয়ের সংসারের জন্য লেপ, তোশক ও বালিশ তৈরি করাতে এসেছেন। ক্রেতাদের চাহিদা পূরণে সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করছেন কারিগরেরা। জাওয়ার ইউনিয়নের বোরগাঁও গ্রামের লেপ-তোশকের কারিগর মুহাম্মাদ আলী ও রোকন মিয়া বলেন, বছরের বেশির ভাগ সময় তাদের অলস সময় কাটাতে হয়। শীতের দুই থেকে তিন মাসই তাদের মূল মৌসুম। গত কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ায় কাজের চাপও বেড়েছে।

সকাল থেকে রাত পর্যন্ত কাজ করে ক্রেতাদের চাহিদা অনুযায়ী লেপ-তোশক তৈরি করে সরবরাহ করতে হচ্ছে। তারা আরও বলেন, তোশকে ২০০, লেপে ২০০ ও জাজিম তৈরিতে ৩০০ টাকা মজুরি পাওয়া যায়। দুজন কারিগর মিলে প্রায় ৩০ মিনিটেই এসব তৈরি করতে পারেন। প্রত্যেকের প্রতিদিন ছয়-সাতটি লেপ তৈরি করে প্রায় এক-দেড় হাজার টাকা আয় হয়। শীতের তীব্রতা বাড়লে কাজের চাপ ও আয়Ñ দুটিই বাড়বে বলে আশা করছেন তারা।

রাউতি ইউনিয়নের ভাওয়াল গ্রামের আশরাফ বলেন, এবার কিছুটা আগেভাগেই শীত পড়তে শুরু করেছে। তাই পরিবারের জন্য লেপ-তোশক তৈরি করতে বাজারে এসেছেন তারা। পাশাপাশি মেয়ের বিয়েতে লেপ-তোশক ও বালিশ কিনতে হচ্ছে। তবে তুলাসহ বিভিন্ন উপকরণের দাম বেড়ে যাওয়ায় খরচও বাড়ছে। বাজারের তুলার দোকানি তাজুল ইসলাম ও আবদুল হাই বলেন, বছরের দু-তিন মাস ব্যবসার মূল মৌসুম।

এ সময় লেপ-তোশকের চাহিদা বাড়ে এবং কারিগরেরা ব্যস্ত সময় পার করেন। গত কয়েক দিন ধরে শীতের অনুভূতি বাড়ায় লেপ-তোশক বিক্রি শুরু হয়েছে। শীতের তীব্রতা আরও বাড়লে এসব পণ্যের চাহিদা ও বিক্রি বাড়বে বলে তারা আশা করছেন।