আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

নজিরবিহীন শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা, লাখো মানুষের সুরক্ষায় জাতিসংঘের জরুরি আহ্বান

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:58:13 am, Thursday, 22 October 2026
  • 19

নজিরবিহীন শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা, লাখো মানুষের সুরক্ষায় জাতিসংঘের জরুরি আহ্বান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে সম্ভাব্য নজিরবিহীন শক্তিশালী এল নিনো। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বুধবার বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানায়, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। ডিসেম্বরের দিকে এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো এবং জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার সরকার ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর ফলে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে। ডব্লিউএমওর সর্বশেষ মৌসুমি পূর্বাভাস অনুযায়ী, শক্তিশালী এল নিনো লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

এর ফলে কোথাও তীব্র গরম ও খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দিতে পারে। এসব পরিস্থিতি কৃষি উৎপাদন, পানির সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য, আবাসন এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে বড় ধরনের মানবিক সংকটের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখা, পানির উৎস সুরক্ষিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগে থেকেই খাদ্যসংকট, দুর্বল অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সেবার সীমিত সুযোগ রয়েছে, সেসব অঞ্চলে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো জরুরি।

লাতিন আমেরিকা : বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তনের কারণে কিছু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, অন্যদিকে কোথাও খরা তীব্র হতে পারে। এতে কৃষি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা খাদ্য উৎপাদন, পানির প্রাপ্যতা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন কৃষি উৎপাদন, পানির সরবরাহ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দুর্যোগ মোকাবিলায় সীমিত সক্ষমতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনো প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে আগাম পরিকল্পনা, কার্যকর সতর্কবার্তা এবং সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

এ কারণে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এখনই প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস বিশ্বজুড়ে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নজিরবিহীন শক্তিশালী এল নিনোর আশঙ্কা, লাখো মানুষের সুরক্ষায় জাতিসংঘের জরুরি আহ্বান

Update Time : 09:58:13 am, Thursday, 22 October 2026

বিশ্বজুড়ে চরম আবহাওয়ার ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে সম্ভাব্য নজিরবিহীন শক্তিশালী এল নিনো। এ পরিস্থিতিতে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন ও জীবিকা রক্ষায় দ্রুত আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।

বুধবার বিশ্ব আবহাওয়া সংস্থা (ডব্লিউএমও) জানায়, ২০২৬ সালের নভেম্বর থেকে ২০২৭ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত গ্রীষ্মমণ্ডলীয় প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের তুলনায় প্রায় ৩ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি হতে পারে। ডিসেম্বরের দিকে এই আবহাওয়াগত পরিস্থিতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাতে পারে বলে পূর্বাভাস দেওয়া হয়েছে। ডব্লিউএমওর মহাসচিব সেলেস্তে সাউলো এবং জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার সরকার ও মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলোকে আগাম প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানিয়েছেন।

এল নিনো একটি প্রাকৃতিক জলবায়ুগত ঘটনা। এর ফলে মধ্য ও পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরের সমুদ্রপৃষ্ঠের তাপমাত্রা বৃদ্ধি পায় এবং বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলের আবহাওয়ার স্বাভাবিক ধরনে পরিবর্তন ঘটে। ডব্লিউএমওর সর্বশেষ মৌসুমি পূর্বাভাস অনুযায়ী, শক্তিশালী এল নিনো লাতিন আমেরিকা, পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকা, এশিয়া এবং প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে।

এর ফলে কোথাও তীব্র গরম ও খরার ঝুঁকি বাড়তে পারে, আবার কোথাও ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা দেখা দিতে পারে। এসব পরিস্থিতি কৃষি উৎপাদন, পানির সরবরাহ, জনস্বাস্থ্য, আবাসন এবং স্থানীয় অর্থনীতির ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করতে পারে। জাতিসংঘের জরুরি ত্রাণ সমন্বয়কারী টম ফ্লেচার সতর্ক করে বলেছেন, সময়মতো পদক্ষেপ না নিলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীকে বড় ধরনের মানবিক সংকটের মুখোমুখি হতে হতে পারে।

জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোর প্রস্তুতি ও সক্ষমতা বাড়ানোর প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেছে জাতিসংঘ। ঝুঁকিপূর্ণ এলাকায় আগাম সতর্কবার্তা পৌঁছে দেওয়া, জরুরি খাদ্য ও চিকিৎসাসামগ্রী প্রস্তুত রাখা, পানির উৎস সুরক্ষিত করা এবং দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় অর্থায়ন নিশ্চিত করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। বিশেষ করে যেসব এলাকায় আগে থেকেই খাদ্যসংকট, দুর্বল অবকাঠামো এবং প্রয়োজনীয় সেবার সীমিত সুযোগ রয়েছে, সেসব অঞ্চলে দ্রুত সহায়তা পৌঁছানো জরুরি।

লাতিন আমেরিকা : বৃষ্টিপাতের ধরনে পরিবর্তনের কারণে কিছু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বাড়তে পারে, অন্যদিকে কোথাও খরা তীব্র হতে পারে। এতে কৃষি ও স্থানীয় জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। পূর্ব ও দক্ষিণ আফ্রিকার কিছু অঞ্চলে বৃষ্টিপাতের অনিশ্চয়তা খাদ্য উৎপাদন, পানির প্রাপ্যতা এবং মানবিক সহায়তা কার্যক্রমে চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে তাপমাত্রা বৃদ্ধি ও বৃষ্টিপাতের পরিবর্তন কৃষি উৎপাদন, পানির সরবরাহ এবং জনস্বাস্থ্যের জন্য নতুন ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। বিশেষ করে দুর্যোগ মোকাবিলায় সীমিত সক্ষমতাসম্পন্ন জনগোষ্ঠী বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। ডব্লিউএমও জানিয়েছে, এল নিনো প্রতিরোধ করা সম্ভব নয়। তবে আগাম পরিকল্পনা, কার্যকর সতর্কবার্তা এবং সমন্বিত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর ক্ষয়ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব।

এ কারণে সরকার, উন্নয়ন সহযোগী এবং আন্তর্জাতিক মানবিক সংস্থাগুলোকে এখনই প্রস্তুতি জোরদার করার আহ্বান জানানো হয়েছে। বিশেষজ্ঞদের পূর্বাভাস অনুযায়ী, আগামী কয়েক মাস বিশ্বজুড়ে জলবায়ুজনিত ঝুঁকি মোকাবিলায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হতে পারে। সময়মতো কার্যকর উদ্যোগ নেওয়া গেলে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর জীবন, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা সম্ভব।