আজ বৃহস্পতিবার, ২২ অক্টোবর ২০২৬
৬ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১০ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩৪°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

রাজস্থলী ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:05:30 am, Thursday, 22 October 2026
  • 23

রাজস্থলী ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মান, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ, রোগীবাহী গাড়ির ব্যবহার এবং হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলন, রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম, জেনারেটর ব্যবহার না করা ও প্রয়োজনের সময় রোগীবাহী গাড়ির চালককে না পাওয়ার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রোগীর স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় কয়েকজন কর্মচারীর প্রভাব ও দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

এমনকি হাসপাতালের কিছু আর্থিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে নামে-বেনামে বিল তৈরি এবং আপ্যায়ন ও অন্যান্য ব্যয়ের ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। জানা গেছে, এ হাসপাতালটি উপজেলার সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান ভরসা।

প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন মেটাতে এ প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শয্যাসংখ্যা ১০-৫০-এ উন্নীত হওয়ার পরও চিকিৎসাসেবার মান, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নানা অভিযোগ স্থানীয়দের। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যায় না।

চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের খুঁজে পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ সব সময় পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কোনো রোগীর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রয়োজন হলে দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি।

কিন্তু রোগীবাহী গাড়ির চালককে সময়মতো পাওয়া যায় না। অভিযোগ রয়েছে, নামে-বেনামে টেন্ডার, আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতের বিল তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এসব বিলের বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা হয়েছে কি না এবং ব্যয়ের যথাযথ প্রমাণ রয়েছে কি নাÑ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতালের রোগীদের খাবার সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে খাবার প্রস্তুত ও বিতরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের দায়িত্ব অন্যের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে খাবারের মান, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং সরবরাহের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, তিনি সপ্তাহে ২-৩ দিন হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান জানান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিমকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রোগীদের কয়েকজন জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে কখনো কখনো মোমবাতির ওপর নির্ভর করতে হয়। জেনারেটর থাকার পরও সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না। জরুরি সেবা, রাতের চিকিৎসা, প্রসূতি বিভাগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে।

অ্যাম্বুলেন্স চালকের দায়িত্ব পালন নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, চালক নিয়মিত মদপান করে কর্মস্থলে আসেন। জরুরি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে অনেক সময় তাকে পাওয়া যায় না। এতে রোগী পরিবহনে সংকট তৈরি ও স্বজনদের উদ্বেগ বাড়ে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের কথা স্বীকার ও নিয়মবহির্ভূত বলেও উল্লেখ করেন।

তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচার, ক্রয়সংক্রান্ত নথি, সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলনের হিসাব, উপস্থিতি রেজিস্টার এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

পাকিস্তানে সন্ত্রাসবিরোধী অভিযান: সামরিক সাফল্য মিললেও স্থায়ী শান্তি নিয়ে সংশয়

রাজস্থলী ৫০ শয্যার স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনিয়ম ও অব্যবস্থাপনার অভিযোগ

Update Time : 07:05:30 am, Thursday, 22 October 2026

রাঙামাটির রাজস্থলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাসেবার মান, চিকিৎসক ও কর্মচারীদের কর্মস্থলে উপস্থিতি, ওষুধ সরবরাহ, রোগীবাহী গাড়ির ব্যবহার এবং হাসপাতালের আর্থিক ব্যবস্থাপনা নিয়ে নানা অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে।

বিশেষ করে ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি অর্থ উত্তোলন, রোগীদের খাবার সরবরাহে অনিয়ম, জেনারেটর ব্যবহার না করা ও প্রয়োজনের সময় রোগীবাহী গাড়ির চালককে না পাওয়ার অভিযোগে উদ্বেগ প্রকাশ করেন রোগীর স্বজনরা। অভিযোগ রয়েছে, হাসপাতালের অভ্যন্তরীণ ব্যবস্থাপনায় কয়েকজন কর্মচারীর প্রভাব ও দীর্ঘদিন একই কর্মস্থলে দায়িত্ব পালনের সুযোগকে কেন্দ্র করে নানা অনিয়মের ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে।

এমনকি হাসপাতালের কিছু আর্থিক কার্যক্রম ও প্রশাসনিক সিদ্ধান্তে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তার ভূমিকা নিয়েও প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা। সবচেয়ে গুরুতর অভিযোগ হলো, হাসপাতালের বিভিন্ন খাতে নামে-বেনামে বিল তৈরি এবং আপ্যায়ন ও অন্যান্য ব্যয়ের ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। জানা গেছে, এ হাসপাতালটি উপজেলার সাধারণ মানুষের অন্যতম প্রধান ভরসা।

প্রায় ৪০ হাজার মানুষের স্বাস্থ্যসেবার প্রয়োজন মেটাতে এ প্রতিষ্ঠানটির ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু শয্যাসংখ্যা ১০-৫০-এ উন্নীত হওয়ার পরও চিকিৎসাসেবার মান, জনবল ব্যবস্থাপনা এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা নিয়ে নানা অভিযোগ স্থানীয়দের। রোগী ও তাদের স্বজনদের অভিযোগ, হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে এসে অনেক সময় প্রত্যাশিত সেবা পাওয়া যায় না।

চিকিৎসক বা সংশ্লিষ্ট কর্মীদের খুঁজে পেতে ভোগান্তিতে পড়তে হয়। প্রয়োজনীয় ওষুধ সব সময় পাওয়া যায় না বলে অভিযোগ রয়েছে। ফলে অনেক রোগীকে বাইরে থেকে ওষুধ কিনতে হচ্ছে। বিশেষ করে জরুরি রোগীদের ক্ষেত্রে পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক বলে জানিয়েছেন স্থানীয়রা। কোনো রোগীর উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কিংবা চন্দ্রঘোনা খ্রিষ্টিয়ান হাসপাতালের মতো প্রতিষ্ঠানে পাঠানোর প্রয়োজন হলে দ্রুত পরিবহন নিশ্চিত করা জরুরি।

কিন্তু রোগীবাহী গাড়ির চালককে সময়মতো পাওয়া যায় না। অভিযোগ রয়েছে, নামে-বেনামে টেন্ডার, আপ্যায়নসহ বিভিন্ন খাতের বিল তৈরি করে সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে। এসব বিলের বিপরীতে প্রকৃতপক্ষে কাজ সম্পন্ন হয়েছে কি না, পণ্য বা সেবা সরবরাহ করা হয়েছে কি না এবং ব্যয়ের যথাযথ প্রমাণ রয়েছে কি নাÑ তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন অভিযোগকারীরা।

অভিযোগকারীদের দাবি, হাসপাতালের রোগীদের খাবার সরবরাহের দায়িত্বপ্রাপ্ত ঠিকাদারের মাধ্যমে খাবার প্রস্তুত ও বিতরণ করা হচ্ছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। খাবার প্রস্তুত ও সরবরাহের দায়িত্ব অন্যের মাধ্যমে সম্পন্ন করা হচ্ছে। এতে খাবারের মান, স্বাস্থ্যসম্মত পরিবেশ এবং সরবরাহের স্বচ্ছতা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিম উদ্দিনের বিরুদ্ধেও অনিয়মিত উপস্থিতির অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয়রা।

তাদের দাবি, তিনি সপ্তাহে ২-৩ দিন হাসপাতালে উপস্থিত থাকেন। স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান জানান, মেডিকেল টেকনোলজিস্ট জসিমকে কয়েকবার কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। রোগীদের কয়েকজন জানান, বিদ্যুৎ চলে গেলে কখনো কখনো মোমবাতির ওপর নির্ভর করতে হয়। জেনারেটর থাকার পরও সেটি নিয়মিত ব্যবহার করা হয় না। জরুরি সেবা, রাতের চিকিৎসা, প্রসূতি বিভাগ এবং অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমের জন্য উদ্বেগজনক হতে পারে।

অ্যাম্বুলেন্স চালকের দায়িত্ব পালন নিয়েও রয়েছে গুরুতর অভিযোগ। স্থানীয়দের অভিযোগ, চালক নিয়মিত মদপান করে কর্মস্থলে আসেন। জরুরি রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর প্রয়োজন হলে অনেক সময় তাকে পাওয়া যায় না। এতে রোগী পরিবহনে সংকট তৈরি ও স্বজনদের উদ্বেগ বাড়ে। এ বিষয়ে স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. নওশাদ খান ভুয়া বিল-ভাউচারের মাধ্যমে অর্থ উত্তোলনের কথা স্বীকার ও নিয়মবহির্ভূত বলেও উল্লেখ করেন।

তবে এসব অভিযোগের পূর্ণাঙ্গ সত্যতা নির্ধারণে সংশ্লিষ্ট বিল-ভাউচার, ক্রয়সংক্রান্ত নথি, সরকারি কোষাগার থেকে অর্থ উত্তোলনের হিসাব, উপস্থিতি রেজিস্টার এবং অন্যান্য প্রশাসনিক নথি স্বাধীনভাবে যাচাই করা প্রয়োজন।