আজ বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর ২০২৬
৩০ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ০৩ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩০°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৪৫%

স্বামীর প্রথম বিয়ের কথা জানার জেরে খুন হন জান্নাতুল

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:21:00 pm, Thursday, 15 October 2026
  • 13

স্বামীর প্রথম বিয়ের কথা জানার জেরে খুন হন জান্নাতুল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

স্বামীর প্রথম বিয়ের কথা জেনে যাওয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যার শিকার হন জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮)। বেড়ানোর কথা বলে তাকে সাম্পান নৌকায় তুলে শিকলবাহা খালে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পরে হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি মরদেহ খালে ফেলে দেন স্বামী রাজা মিয়া ওরফে রাজু এবং তার সহযোগীরা। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটিও জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন এসব তথ্য জানান।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতুল ফেরদৌস চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শিলকূপ ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন। সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় ভাড়া বাসায় দ্বিতীয় স্বামী রাজা মিয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন জান্নাতুল।

বিয়ের সময় রাজা নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর জান্নাতুল জানতে পারেন, রাজা মিয়ার আগের স্ত্রী রয়েছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে রাজা তার পূর্বপরিচিত মো. মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরে তারা কালুরঘাট সেতু এলাকার এক কবিরাজের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক ও তান্ত্রিক পদ্ধতির আশ্রয় নেন।

এতে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজা। সেখানে আগে থেকেই সাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মুসলিম উদ্দিন, রাজার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদ এবং অজ্ঞাতনামা আরেক ব্যক্তি।

পরে জান্নাতুলকে নিয়ে তারা নৌকায় ওঠেন। নৌকাটি কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালে প্রবেশ করে। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাত ৮টার পর নৌকায় রাজা মিয়ার সঙ্গে জান্নাতুলের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজা জান্নাতুলের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। এরপর তার মুখ চেপে ধরেন। এ সময় এক সহযোগী নৌকায় রাখা ব্যাগ থেকে রশি ও বস্তা বের করেন।

রশি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরলে জান্নাতুলের মৃত্যু হয়। পরে তার হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি করে কর্ণফুলী থানাধীন কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনে শিকলবাহা খালে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা নৌকা নিয়ে ব্রিজঘাট এলাকায় ফিরে যান। পরে আত্মগোপনে চলে যান তারা। গত ২ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন খালে ভাসমান অবস্থায় বস্তাবন্দি এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ-পুলিশ।

মরদেহটির হাত-পা বাঁধা ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটি নিখোঁজ জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে রাজা মিয়া ওরফে রাজু এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন। গত ৬ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালান।

একপর্যায়ে গত ১৩ অক্টোবর টেকনাফ থানা এলাকায় আত্মগোপনে থাকা মো. মুসলিম উদ্দিনকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুকুর আহম্মদকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটিও উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ১৪ অক্টোবর মুসলিম উদ্দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এতে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। গ্রেপ্তার শুকুর আহম্মদকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

মেসেঞ্জারে পাঠানো সালামের উত্তর দেওয়া কি ওয়াজিব?

স্বামীর প্রথম বিয়ের কথা জানার জেরে খুন হন জান্নাতুল

Update Time : 07:21:00 pm, Thursday, 15 October 2026

স্বামীর প্রথম বিয়ের কথা জেনে যাওয়ায় পারিবারিক বিরোধের জেরে হত্যার শিকার হন জান্নাতুল ফেরদৌস (২৮)। বেড়ানোর কথা বলে তাকে সাম্পান নৌকায় তুলে শিকলবাহা খালে নিয়ে শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়।

পরে হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি মরদেহ খালে ফেলে দেন স্বামী রাজা মিয়া ওরফে রাজু এবং তার সহযোগীরা। ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর এ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্‌ঘাটন করেছে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট। এ ঘটনায় দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটিও জব্দ করেছে পুলিশ। বৃহস্পতিবার (১৫ অক্টোবর) পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন এসব তথ্য জানান।

পিবিআই সূত্রে জানা গেছে, জান্নাতুল ফেরদৌস চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার শিলকূপ ইউনিয়নের বাসিন্দা ছিলেন। তিনি একটি জুতার কারখানায় চাকরি করতেন। সাত বছর বয়সী মেয়েকে নিয়ে চান্দগাঁও থানার বাহির সিগন্যাল এলাকার ব্যাপারীপাড়ায় ভাড়া বাসায় দ্বিতীয় স্বামী রাজা মিয়ার সঙ্গে বসবাস করতেন তিনি। প্রথম স্বামীর সঙ্গে বিবাহবিচ্ছেদের পর ২০২৫ সালের ৪ সেপ্টেম্বর রাজা মিয়াকে বিয়ে করেন জান্নাতুল।

বিয়ের সময় রাজা নিজেকে অবিবাহিত বলে পরিচয় দেন। তবে বিয়ের কিছুদিন পর জান্নাতুল জানতে পারেন, রাজা মিয়ার আগের স্ত্রী রয়েছেন। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে বিরোধ শুরু হয়। একপর্যায়ে জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন রাজা। তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, হত্যার পরিকল্পনা নিয়ে রাজা তার পূর্বপরিচিত মো. মুসলিম উদ্দিনের সঙ্গে পরামর্শ করেন। পরে তারা কালুরঘাট সেতু এলাকার এক কবিরাজের মাধ্যমে ঝাড়ফুঁক ও তান্ত্রিক পদ্ধতির আশ্রয় নেন।

এতে সমস্যার সমাধান না হওয়ায় জান্নাতুলকে হত্যার পরিকল্পনা করেন তারা। পরিকল্পনা অনুযায়ী, গত ২৮ জুলাই সন্ধ্যা ৬টার দিকে বেড়ানোর কথা বলে জান্নাতুলকে কর্ণফুলী নদীর অপর পাড়ে ব্রিজঘাট এলাকায় নিয়ে যান রাজা। সেখানে আগে থেকেই সাম্পান নৌকা নিয়ে অপেক্ষা করছিলেন মুসলিম উদ্দিন, রাজার প্রথম স্ত্রীর ভাই শুকুর আহম্মদ এবং অজ্ঞাতনামা আরেক ব্যক্তি।

পরে জান্নাতুলকে নিয়ে তারা নৌকায় ওঠেন। নৌকাটি কর্ণফুলী সেতুর নিচ দিয়ে শিকলবাহা খালে প্রবেশ করে। পিবিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, রাত ৮টার পর নৌকায় রাজা মিয়ার সঙ্গে জান্নাতুলের বাকবিতণ্ডা হয়। একপর্যায়ে রাজা জান্নাতুলের মুঠোফোন কেড়ে নিয়ে খালে ফেলে দেন। এরপর তার মুখ চেপে ধরেন। এ সময় এক সহযোগী নৌকায় রাখা ব্যাগ থেকে রশি ও বস্তা বের করেন।

রশি দিয়ে গলা পেঁচিয়ে ধরলে জান্নাতুলের মৃত্যু হয়। পরে তার হাত-পা বেঁধে বস্তাবন্দি করে কর্ণফুলী থানাধীন কালারপোল এলাকায় এস আলম কোল্ড রোল্ড স্টিলস লিমিটেডের পেছনে শিকলবাহা খালে মরদেহ ফেলে দেওয়া হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে। হত্যাকাণ্ডের পর আসামিরা নৌকা নিয়ে ব্রিজঘাট এলাকায় ফিরে যান। পরে আত্মগোপনে চলে যান তারা। গত ২ আগস্ট দুপুর ১২টার দিকে শিকলবাহা বিদ্যুৎকেন্দ্রের লঞ্চঘাটসংলগ্ন খালে ভাসমান অবস্থায় বস্তাবন্দি এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করে সদরঘাট নৌ-পুলিশ।

মরদেহটির হাত-পা বাঁধা ছিল। পরে পরিবারের সদস্যরা সেটি নিখোঁজ জান্নাতুলের বলে শনাক্ত করেন। এ ঘটনায় জান্নাতুলের মা ছায়রা খাতুন বাদী হয়ে রাজা মিয়া ওরফে রাজু এবং অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের আসামি করে কর্ণফুলী থানায় হত্যা মামলা করেন। গত ৬ অক্টোবর মামলাটির তদন্তভার গ্রহণ করে পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রো ইউনিট। পুলিশ সুপারের তত্ত্বাবধানে মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আব্দুর রহিম তথ্যপ্রযুক্তি ও গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে অভিযান চালান।

একপর্যায়ে গত ১৩ অক্টোবর টেকনাফ থানা এলাকায় আত্মগোপনে থাকা মো. মুসলিম উদ্দিনকে (৩৯) গ্রেপ্তার করা হয়। তার দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে শুকুর আহম্মদকে (২৪) গ্রেপ্তার করা হয়। এ ছাড়া হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সাম্পান নৌকাটিও উদ্ধার করে জব্দ করা হয়। পিবিআই চট্টগ্রাম মেট্রোর পুলিশ সুপার এম কে এইচ জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ১৪ অক্টোবর মুসলিম উদ্দিন আদালতে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিয়েছেন।

এতে তিনি নিজের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করে হত্যাকাণ্ডের বিস্তারিত বর্ণনা দিয়েছেন। গ্রেপ্তার শুকুর আহম্মদকে পুলিশ হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। মামলাটির তদন্ত চলমান রয়েছে।