বান্দরবানের আলীকদমে সামাজিক বনায়নের উপকারভোগীদের জন্য নির্ধারিত বনভূমি দখলের সুযোগ করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে লামা বিভাগীয় বন কর্মকর্তা (ডিএফও) মোস্তাফিজুর রহমানের বিরুদ্ধে। উপকারভোগীদের অভিযোগ, সামাজিক বনায়নের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হওয়ার পর ডিএফওর নির্দেশে তা বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।
এতে ওই এলাকায় বনভূমি দখলের সুযোগ তৈরি হয়েছে বলে দাবি তাঁদের। স্থানীয় সূত্র ও উপকারভোগীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, আলীকদমের বাবু পাড়া কবরস্থান এলাকায় ২০০২-০৩ অর্থবছরে ‘এ’ ব্লকে সামাজিক বনায়নের আওতায় উপকারভোগীদের নিয়ে বাগান করা হয়। পরে ২০১২-১৩ সালে ওই বাগানের গাছ বিক্রি করা হয়। এরপর ২০১৬-১৭ সালে বন বিভাগ ও ‘এ’ ব্লকের উপকারভোগীরা যৌথভাবে সেখানে পুনরায় বাগান করার উদ্যোগ নেয়।
তবে পরবর্তীতে স্থানীয় প্রভাবশালীদের বিরুদ্ধে ওই বাগানের গাছ কেটে নেওয়ার অভিযোগ ওঠে। উপকারভোগীদের দাবি, এরপর প্রায় ৫০ হেক্টর বনভূমি একটি সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণে চলে যায়। সম্প্রতি উপকারভোগীরা ওই এলাকায় সামাজিক বনায়ন পুনরায় চালুর উদ্যোগ নেন। উপকারভোগী মাহ্লাচিং ও ওহায়মং বলেন, গত সেপ্টেম্বরে সাবেক মাতামুহুরী রেঞ্জের সাবেক ও বর্তমান রেঞ্জ কর্মকর্তার উপস্থিতিতে সামাজিক বনায়নের চারা রোপণ কার্যক্রম শুরু হয়।
কিন্তু কিছুদিন পর ডিএফওর নির্দেশে কাজ বন্ধ হয়ে যায়। তাঁদের অভিযোগ, ঘুষের বিনিময়ে চারা রোপণ বন্ধ রেখে বহিরাগতদের বনভূমি দখলের সুযোগ করে দেওয়া হচ্ছে। আরেক উপকারভোগী নুহ্লাচিং মারমা বলেন, আমরা সামাজিক বনায়নের উপকারভোগী। বন বিভাগ কাজ বন্ধ রাখায় বহিরাগতরা জমি দখলের সুযোগ পাচ্ছে। টাকা নিয়ে সামাজিক বনায়ন বন্ধ রাখা হয়েছে বলে আমাদের অভিযোগ।
আরেক উপকারভোগী অভিযোগ করে বলেন, বনভূমি দখলদাররা যদি ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানকে ম্যানেজ করতে পারে, তাহলে তাঁদের চাওয়া অনুযায়ী কাজ বন্ধ রাখা হয়। এভাবে বনভূমি দখল হয়ে গেলে কাগজে-কলমে বন বিভাগের থাকলেও বাস্তবে দখলদারদের নিয়ন্ত্রণে চলে যাবে। মাতামুহুরী রেঞ্জ কর্মকর্তা মো. রেদোয়ান বলেন, ডিএফও স্যারের নির্দেশে কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে।
অন্যদিকে, সামাজিক বনায়ন নিয়ে অভিযোগের বিষয়ে আলীকদম উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মনজুর আলম বলেন, অভিযোগ ওঠার পর বন বিভাগের কর্মকর্তাদের দ্রুত সামাজিক বনায়ন কার্যক্রম শুরু করতে বলা হয়েছে। তা না হলে বন বিভাগকে নিজেদের উদ্যোগে জায়গাটি নিয়ন্ত্রণে নিয়ে বাগান করার জন্য বলা হয়েছে। তবে এরপর কী পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে, সে বিষয়ে বন বিভাগ তাঁকে অবহিত করেনি।
এদিকে, ডিএফও মোস্তাফিজুর রহমানের বক্তব্য জানতে গত তিন দিন ধরে তাঁর সঙ্গে মুঠোফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি। দপ্তরে গেলেও পাওয়া যায় নি।
























