আজ রবিবার, ৪ অক্টোবর ২০২৬
১৯ আশ্বিন, ১৪৩৩ | ২১ রবিউস সানি ১৪৪৮
ঢাকা
গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি
৩৪°C
সর্বোচ্চ: ৩৫°C
সর্বনিম্ন: ২৮°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৭৩%

বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার মনে করে ইইউ: রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:06:46 pm, Sunday, 4 October 2026
  • 10

বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার মনে করে ইইউ: রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানিয়েছেন, ইইউ এখন বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি বলেন, বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের কর্ম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাইকেল মিলার বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশটি বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির একটি এবং সম্ভবত ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির মধ্যে স্থান করে নিতে পারে।

’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়ন অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুজ্জীবন, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ুগত ঝুঁকি এবং জটিল বৈশ্বিক পরিবেশ মোকাবিলা। ’ ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই পটভূমিতে আমরা বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে দেখছি, দাতা ও গ্রহীতার দৃষ্টিকোণ থেকে নয়।

’ তিনি বলেন,‘ যদিও আমাদের অস্ত্র ছাড়া সবকিছু একতরফা বাণিজ্য অগ্রাধিকার ব্যবস্থার অভাবনীয় সাফল্য রয়েছে, যা বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। ’ মাইকেল মিলার বলেন, ‘দাতা-গ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে ইইউ এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও উচ্চাভিলাষী পর্যায়ে যেতে চায়।

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে কাজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। ’ তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ এখনো সম্পন্ন করেনি- এমন একটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের প্রস্তাব এবারই প্রথম দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ’ বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মাইকেল মিলার।

বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো বহুমুখী চাপ মোকাবিলা করতে বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং অনুমানযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। ’ তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া, আধুনিকায়ন এবং দেশটিকে উন্মুক্ত, সার্বভৌম, স্থিতিস্থাপক ও সংযুক্ত রাখতে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে।

তার বক্তব্যে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হলেও তা এখনো শেষ হয়নি। এই সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রয়োজন। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এ বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

এমপি হিসেবে প্রত্যাশিত কাজ করার সুযোগ পাননি বলে অভিযোগ মাহমুদা মিতুর

বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার মনে করে ইইউ: রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার

Update Time : 02:06:46 pm, Sunday, 4 October 2026

ঢাকায় নিযুক্ত ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) রাষ্ট্রদূত মাইকেল মিলার জানিয়েছেন, ইইউ এখন বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে বিবেচনা করে। তিনি বলেন, বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম।

রোববার (৪ অক্টোবর) রাজধানীর একটি হোটেলে বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনের কর্ম অধিবেশনে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। মাইকেল মিলার বলেন, ‘দক্ষিণ এশিয়া, বঙ্গোপসাগর এবং বৃহত্তর ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে বাংলাদেশের গুরুত্ব অপরিসীম। দেশটি বিশ্বের অন্যতম গতিশীল অর্থনীতির একটি এবং সম্ভবত ২০৩০ সালের মধ্যে বিশ্বের শীর্ষ ৩০ অর্থনীতির মধ্যে স্থান করে নিতে পারে।

’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ বর্তমানে উন্নয়ন অভিযাত্রার একটি গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণে এসে পৌঁছেছে। এর মধ্যে রয়েছে স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে উত্তরণ, রাজনৈতিক রূপান্তর, জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলোর পুনরুজ্জীবন, অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ুগত ঝুঁকি এবং জটিল বৈশ্বিক পরিবেশ মোকাবিলা। ’ ইইউ রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এই পটভূমিতে আমরা বাংলাদেশকে ক্রমবর্ধমান কৌশলগত গুরুত্বের অংশীদার হিসেবে দেখছি, দাতা ও গ্রহীতার দৃষ্টিকোণ থেকে নয়।

’ তিনি বলেন,‘ যদিও আমাদের অস্ত্র ছাড়া সবকিছু একতরফা বাণিজ্য অগ্রাধিকার ব্যবস্থার অভাবনীয় সাফল্য রয়েছে, যা বাংলাদেশের অভূতপূর্ব উন্নয়ন অগ্রযাত্রাকে গতিশীল রাখতে সহায়তা করেছে। ’ মাইকেল মিলার বলেন, ‘দাতা-গ্রহীতার দৃষ্টিভঙ্গি থেকে বেরিয়ে এসে ইইউ এখন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে আরও উচ্চাভিলাষী পর্যায়ে যেতে চায়।

এলডিসি থেকে বাংলাদেশের মসৃণ ও সফল উত্তরণ নিশ্চিত করতে কাজ করার পাশাপাশি ভবিষ্যতে একটি মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) সম্ভাবনাও যাচাই করা হচ্ছে। ’ তিনি বলেন, ‘এলডিসি উত্তরণ এখনো সম্পন্ন করেনি- এমন একটি দেশের সঙ্গে এ ধরনের প্রস্তাব এবারই প্রথম দিয়েছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন। ’ বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়নের ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য সমান সুযোগ নিশ্চিত করার প্রয়োজনীয়তার কথাও তুলে ধরেন মাইকেল মিলার।

বলেন, ‘ভূ-রাজনৈতিক ও ভূ-অর্থনৈতিক চাপ, জলবায়ু পরিবর্তন, সামাজিক ও প্রযুক্তিগত পরিবর্তনের মতো বহুমুখী চাপ মোকাবিলা করতে বাংলাদেশের শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক ভিত্তি, স্বাধীন তদারকি ব্যবস্থা এবং অনুমানযোগ্য ও অন্তর্ভুক্তিমূলক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া প্রয়োজন। ’ তিনি জানান, বৈশ্বিক প্রতিযোগিতার মধ্যে বাংলাদেশকে এগিয়ে নেওয়া, আধুনিকায়ন এবং দেশটিকে উন্মুক্ত, সার্বভৌম, স্থিতিস্থাপক ও সংযুক্ত রাখতে সহায়তার জন্য ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিভিন্ন প্রস্তাব নিয়ে কাজ করছে।

তার বক্তব্যে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পর দেশের সংবিধান সংস্কার প্রক্রিয়ার বিষয়টিও উঠে আসে। বলেন, বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারের গুরুত্বপূর্ণ কাজ শুরু হলেও তা এখনো শেষ হয়নি। এই সংস্কার প্রক্রিয়া এগিয়ে নিতে রাজনৈতিক অঙ্গনে বৃহত্তর ঐকমত্য গড়ে তোলার উদ্যোগ প্রয়োজন। গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত তিন দিনব্যাপী বে অব বেঙ্গল কনভারসেশন-২০২৬-এ বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন।