আজ মঙ্গলবার, ১৮ আগস্ট ২০২৬
৩ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ০৪ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ১০০%

তানোরে নারী এনজিওকর্মীর কক্ষে কর্মকর্তা আটক, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:12:09 pm, Tuesday, 18 August 2026
  • 9

তানোরে নারী এনজিওকর্মীর কক্ষে কর্মকর্তা আটক, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা পৌর সদরে একটি এনজিও কার্যালয়ের ভবনে নারী সহকর্মীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় এক কর্মকর্তাকে স্থানীয় লোকজন আটক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) সদস্যের উপস্থিতি এবং পরবর্তীতে কথিত বৈঠক নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্ডুমালা পৌর সদরের একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় ফেমাস নামে একটি এনজিওর কার্যালয় রয়েছে। ভবনের তৃতীয় তলায় ওই প্রতিষ্ঠানের এক নারী মাঠকর্মী বসবাস করেন। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ছুটির দিনে এনজিওটির পরিচালক আশরাফুল ইসলাম ওই নারী কর্মীর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভবনের সামনে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন এবং আশরাফুল ইসলাম ও ওই নারীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন মুন্ডুমালা বাজারে গিয়ে ফেমাস কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল ও আশরাফুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) সদস্য আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করেন। পরে ওই নারীকে নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যার পর ডিএসবির দুই সদস্য ও বিএনপির স্থানীয় দুই নেতার উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ নেতা বিশালের বাড়ির প্রধান ফটকে তালা দিয়ে তৃতীয় তলায় ওই নারী কর্মীর কক্ষে আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করা হয়।

বৈঠক শেষে আশরাফুল ইসলামকে সেখানে রেখে সংশ্লিষ্টরা বেরিয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন ডিএসবি সদস্য আবুল কালাম আজাদের পথরোধ করে ওই নারীকে কেন সেখান থেকে বের করে নেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চান। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পরদিনই ডিএসবি সদস্য আবুল কালাম আজাদকে রাজশাহীতে ক্লোজ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ঘটনার পর থেকে এনজিও কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি।

পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। রাজশাহী জেলা ডিএসবির ইন্সপেক্টর খায়রুল ইসলামকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

চাঁদপুরে খাদ্যে ভেজাল ও ভুয়া ‘ডা.’ পদবি ব্যবহারের দায়ে তিন প্রতিষ্ঠানকে জরিমানা

তানোরে নারী এনজিওকর্মীর কক্ষে কর্মকর্তা আটক, ঘটনা ধামাচাপা দেওয়ার অভিযোগ

Update Time : 08:12:09 pm, Tuesday, 18 August 2026

রাজশাহীর তানোরের মুন্ডুমালা পৌর সদরে একটি এনজিও কার্যালয়ের ভবনে নারী সহকর্মীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় এক কর্মকর্তাকে স্থানীয় লোকজন আটক করেছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ঘটনাস্থলে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) সদস্যের উপস্থিতি এবং পরবর্তীতে কথিত বৈঠক নিয়ে এলাকায় নানা আলোচনা-সমালোচনা চলছে।

স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মুন্ডুমালা পৌর সদরের একটি তিনতলা ভবনের নিচতলায় ফেমাস নামে একটি এনজিওর কার্যালয় রয়েছে। ভবনের তৃতীয় তলায় ওই প্রতিষ্ঠানের এক নারী মাঠকর্মী বসবাস করেন। গত শুক্রবার (১৪ আগস্ট) সকালে ছুটির দিনে এনজিওটির পরিচালক আশরাফুল ইসলাম ওই নারী কর্মীর কক্ষে অবস্থান করছিলেন। এ সময় স্থানীয় কয়েকজন তাদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান বলে অভিযোগ করা হয়েছে।

বিষয়টি দ্রুত ছড়িয়ে পড়লে ভবনের সামনে স্থানীয় লোকজন জড়ো হন এবং আশরাফুল ইসলাম ও ওই নারীকে অবরুদ্ধ করে রাখেন বলে জানা গেছে। পরে বিক্ষুব্ধ লোকজন মুন্ডুমালা বাজারে গিয়ে ফেমাস কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নিয়ে প্রতিষ্ঠানটির লাইসেন্স বাতিল ও আশরাফুল ইসলামের শাস্তির দাবিতে বিভিন্ন স্লোগান দেন। এতে এলাকায় উত্তেজনাকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।

খবর পেয়ে পুলিশের গোয়েন্দা শাখার (ডিএসবি) সদস্য আবুল কালাম আজাদ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন। তিনি দীর্ঘ সময় সেখানে অবস্থান করেন। পরে ওই নারীকে নিয়ে সেখান থেকে বেরিয়ে আসেন বলে স্থানীয়রা জানান। স্থানীয়দের অভিযোগ, ওই দিন সন্ধ্যার পর ডিএসবির দুই সদস্য ও বিএনপির স্থানীয় দুই নেতার উপস্থিতিতে ছাত্রলীগ নেতা বিশালের বাড়ির প্রধান ফটকে তালা দিয়ে তৃতীয় তলায় ওই নারী কর্মীর কক্ষে আশরাফুল ইসলামের সঙ্গে প্রায় এক ঘণ্টা রুদ্ধদ্বার বৈঠক করা হয়।

বৈঠক শেষে আশরাফুল ইসলামকে সেখানে রেখে সংশ্লিষ্টরা বেরিয়ে আসেন বলে অভিযোগ রয়েছে। এ সময় বিক্ষুব্ধ লোকজন ডিএসবি সদস্য আবুল কালাম আজাদের পথরোধ করে ওই নারীকে কেন সেখান থেকে বের করে নেওয়া হয়েছিল, তা জানতে চান। পরে তিনি সেখান থেকে চলে যান বলে স্থানীয়রা জানান। এদিকে স্থানীয়দের দাবি, ঘটনার পরদিনই ডিএসবি সদস্য আবুল কালাম আজাদকে রাজশাহীতে ক্লোজ করা হয়েছে।

তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিক বক্তব্য পাওয়া যায়নি। ঘটনার এক সপ্তাহ পার হলেও কোনো দৃশ্যমান ব্যবস্থা না নেওয়ায় এলাকায় ক্ষোভ ও উত্তেজনা বিরাজ করছে বলে স্থানীয়রা জানিয়েছেন। অন্যদিকে ঘটনার পর থেকে এনজিও কর্মকর্তা আশরাফুল ইসলাম আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। এ বিষয়ে আশরাফুল ইসলামের বক্তব্য জানতে মুঠোফোনে একাধিকবার যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কল গ্রহণ করেননি।

পরে ক্ষুদে বার্তা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া পাওয়া যায়নি। রাজশাহী জেলা ডিএসবির ইন্সপেক্টর খায়রুল ইসলামকে বিষয়টি জানানো হলে তিনি খোঁজখবর নিয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার কথা জানান। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, আশরাফুল ইসলামের বিরুদ্ধে এর আগেও বিভিন্ন অভিযোগ উঠেছিল। তবে এসব অভিযোগের সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি। এ ঘটনায় সুষ্ঠু তদন্ত করে প্রকৃত ঘটনা উদঘাটন এবং অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্থানীয়রা।