আজ বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬
১৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ১৭ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬৯%

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া আত্মঘাতী: বাংলাদেশ ন্যাপ

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:45:51 pm, Tuesday, 11 August 2026
  • 55

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া আত্মঘাতী: বাংলাদেশ ন্যাপ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার শামিল। এর ফলে স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব এবং ঘুষ-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র আবারও ফিরে আসবে।

জনস্বার্থবিরোধী এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে শিক্ষক নিয়োগে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে কেন্দ্রীয়, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে’ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষা খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। মেধার মূল্যায়ন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা অনেকাংশেই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ চালু হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছিল।

নেতৃদ্বয় বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে। বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও জটিলতাগুলো দূর করে এনটিআরসিকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে বাধ্য।

তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির হাতে ছেড়ে দিলে যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে অর্থ, রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং স্থানীয় প্রভাব নিয়োগের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। এতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হাজারো প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হবে না।

নিয়োগপ্রত্যাশী তরুণদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। নিয়োগের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা সংকুচিত করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে নিয়োগের ক্ষমতা তুলে দিলে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট আরও গভীর হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটির হাতে দেওয়া আত্মঘাতী: বাংলাদেশ ন্যাপ

Update Time : 03:45:51 pm, Tuesday, 11 August 2026

বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা ম্যানেজিং কমিটি ও গভর্নিং বডির হাতে ফিরিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত মূলত দুর্নীতিকে উৎসাহিত করার শামিল। এর ফলে স্বজনপ্রীতি, দলীয় প্রভাব এবং ঘুষ-বাণিজ্যের পুরোনো চক্র আবারও ফিরে আসবে।

জনস্বার্থবিরোধী এই সিদ্ধান্ত বাতিল করে শিক্ষক নিয়োগে জাতীয় শিক্ষক নিবন্ধন ও প্রত্যায়ন কর্তৃপক্ষের (এনটিআরসিএ) মাধ্যমে কেন্দ্রীয়, স্বচ্ছ ও মেধাভিত্তিক ব্যবস্থা বহাল রাখার দাবি জানিয়েছে’ বাংলাদেশ ন্যাশনাল আওয়ামী পার্টি-বাংলাদেশ ন্যাপ। মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে বাংলাদেশ ন্যাপ চেয়ারম্যান জেবেল রহমান গানি ও মহাসচিব এম. গোলাম মোস্তফা ভুইয়া এ দাবি জানিয়েছেন।

তারা বলেন, শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্ত দেশের শিক্ষা খাতকে ধ্বংসের দিকে ঠেলে দেবে। মেধার মূল্যায়ন ও দুর্নীতিমুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করতে এনটিআরসিএর কেন্দ্রীয় সুপারিশ ব্যবস্থা অনেকাংশেই কার্যকর ভূমিকা রেখেছে। এনটিআরসিএর মাধ্যমে কেন্দ্রীয়ভাবে শিক্ষক নিয়োগের সুপারিশ চালু হওয়ায় বেসরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগে ঘুষ, স্বজনপ্রীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবের সুযোগ অনেকাংশে হ্রাস পেয়েছিল।

নেতৃদ্বয় বলেন, মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করার অন্যতম প্রধান শর্ত যোগ্য, মেধাবী ও দক্ষ শিক্ষক নিয়োগ। নিয়োগ প্রক্রিয়ার দায়িত্ব ম্যানেজিং কমিটির হাতে তুলে দেওয়া হলে শিক্ষক নিয়োগে রাজনৈতিক ও স্থানীয় প্রভাব বিস্তার এবং আর্থিক লেনদেনের সুযোগ তৈরি হবে। বিদ্যমান সীমাবদ্ধতা ও জটিলতাগুলো দূর করে এনটিআরসিকে আরও স্বচ্ছ, কার্যকর ও বাস্তবমুখী করার পরিবর্তে ম্যানেজিং কমিটির হাতে শিক্ষক নিয়োগের ক্ষমতা দেওয়া হলে অতীতের অনিয়ম ও দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হতে বাধ্য।

তারা বলেন, একটি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে শিক্ষক নিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ ও সংবেদনশীল বিষয় স্থানীয় ম্যানেজিং কমিটির হাতে ছেড়ে দিলে যোগ্যতা ও মেধার পরিবর্তে অর্থ, রাজনৈতিক পরিচয়, ব্যক্তিগত যোগাযোগ এবং স্থানীয় প্রভাব নিয়োগের প্রধান নিয়ামক হয়ে উঠতে পারে। এতে শিক্ষক নিবন্ধন পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হাজারো প্রার্থীর মেধা ও যোগ্যতার যথাযথ মূল্যায়ন হবে না।

নিয়োগপ্রত্যাশী তরুণদের মধ্যেও অনিশ্চয়তা তৈরি হবে। নিয়োগের প্রতিটি ক্ষেত্রে স্বচ্ছ ও প্রতিযোগিতামূলক ব্যবস্থা সংকুচিত করে স্থানীয় প্রভাবশালী মহলের হাতে নিয়োগের ক্ষমতা তুলে দিলে শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থানের সংকট আরও গভীর হবে।