আজ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যে কতটা ক্ষতিকর?

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:43:22 am, Tuesday, 4 August 2026
  • 22

পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যে কতটা ক্ষতিকর?

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণা, যা বর্তমানে আমাদের খাদ্য, পানি, বাতাস এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা পণ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। রান্নাঘরের চপিং বোর্ড, পানির বোতল, টিফিন বক্স, প্লাস্টিকের মোড়ক এমনকি কিছু রশিদেও এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। ফলে এটি পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

পরিবেশের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি দীর্ঘমেয়াদি হুমকি। প্লাস্টিক সহজে পচে না; বরং শত শত বছর ধরে টিকে থেকে ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। এসব কণা নদী, সমুদ্র ও মাটিতে জমে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে। মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণী খাবার ভেবে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে বা এতে জড়িয়ে পড়ে আহত হয়, এমনকি মৃত্যুবরণও করে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ মাটি ও পানিদূষণ বাড়িয়ে জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব উদ্বেগজনক। গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্য, পানীয় ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এটি হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং প্রজননস্বাস্থ্য, থাইরয়েড, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় মস্তিষ্ক, যকৃত ও কিডনিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

যদিও এসব কণার সঙ্গে ক্যানসার বা ডিমেনশিয়ার সরাসরি কারণ-সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত নয়, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এই ঝুঁকি কমাতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে না রাখা, কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের বোতল ও পাত্র ব্যবহার, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো, কাপড় বা পাটের ব্যাগ ব্যবহার এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ বিকল্প খেলনা বেছে নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপ।

পাশাপাশি অ্যান্থোসায়ানিনসমৃদ্ধ ফল ও সবজি যেমন ডালিম, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, চেরি ও লাল পেঁয়াজ, খাদ্যতালিকায় রাখা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক হতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সচেতন ব্যবহার, প্লাস্টিকের বিকল্প গ্রহণ এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

লেখক : পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফেসবুক ও টেলিগ্রামে প্রলোভন: যেভাবে ছড়াচ্ছে অনলাইন জুয়ার অদৃশ্য সাম্রাজ্য

পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যে কতটা ক্ষতিকর?

Update Time : 02:43:22 am, Tuesday, 4 August 2026

মাইক্রোপ্লাস্টিক হলো ৫ মিলিমিটারের কম আকারের প্লাস্টিক কণা, যা বর্তমানে আমাদের খাদ্য, পানি, বাতাস এবং দৈনন্দিন ব্যবহারের নানা পণ্যে ছড়িয়ে পড়েছে। রান্নাঘরের চপিং বোর্ড, পানির বোতল, টিফিন বক্স, প্লাস্টিকের মোড়ক এমনকি কিছু রশিদেও এর উপস্থিতি পাওয়া যায়। ফলে এটি পরিবেশ ও মানবস্বাস্থ্যের জন্য ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে।

পরিবেশের জন্য মাইক্রোপ্লাস্টিক একটি দীর্ঘমেয়াদি হুমকি। প্লাস্টিক সহজে পচে না; বরং শত শত বছর ধরে টিকে থেকে ধীরে ধীরে ক্ষুদ্র কণায় পরিণত হয়। এসব কণা নদী, সমুদ্র ও মাটিতে জমে বাস্তুতন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট করে। মাছ, পাখি ও অন্যান্য প্রাণী খাবার ভেবে প্লাস্টিক খেয়ে ফেলে বা এতে জড়িয়ে পড়ে আহত হয়, এমনকি মৃত্যুবরণও করে। একই সঙ্গে প্লাস্টিক থেকে নির্গত রাসায়নিক পদার্থ মাটি ও পানিদূষণ বাড়িয়ে জীববৈচিত্র্যের জন্য হুমকি সৃষ্টি করে।

মানবস্বাস্থ্যের ক্ষেত্রেও এর প্রভাব উদ্বেগজনক। গবেষণায় দেখা গেছে, খাদ্য, পানীয় ও শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে মাইক্রোপ্লাস্টিক শরীরে প্রবেশ করতে পারে। এটি হরমোনের স্বাভাবিক কার্যক্রমে বিঘ্ন ঘটাতে পারে এবং প্রজননস্বাস্থ্য, থাইরয়েড, অন্ত্রের মাইক্রোবায়োম ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে। সাম্প্রতিক গবেষণায় মস্তিষ্ক, যকৃত ও কিডনিতেও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি শনাক্ত হয়েছে।

যদিও এসব কণার সঙ্গে ক্যানসার বা ডিমেনশিয়ার সরাসরি কারণ-সম্পর্ক এখনো নিশ্চিত নয়, তবুও সম্ভাব্য ঝুঁকি নিয়ে বিজ্ঞানীরা সতর্ক থাকার পরামর্শ দিচ্ছেন। এই ঝুঁকি কমাতে কিছু সহজ অভ্যাস গড়ে তোলা জরুরি। গরম খাবার প্লাস্টিকের পাত্রে না রাখা, কাচ বা স্টেইনলেস স্টিলের বোতল ও পাত্র ব্যবহার, একবার ব্যবহারযোগ্য প্লাস্টিক কমানো, কাপড় বা পাটের ব্যাগ ব্যবহার এবং শিশুদের জন্য নিরাপদ বিকল্প খেলনা বেছে নেওয়া কার্যকর পদক্ষেপ।

পাশাপাশি অ্যান্থোসায়ানিনসমৃদ্ধ ফল ও সবজি যেমন ডালিম, স্ট্রবেরি, ব্লুবেরি, চেরি ও লাল পেঁয়াজ, খাদ্যতালিকায় রাখা অক্সিডেটিভ স্ট্রেস কমাতে সহায়ক হতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ একটি বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ। সচেতন ব্যবহার, প্লাস্টিকের বিকল্প গ্রহণ এবং সঠিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে এর ক্ষতিকর প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমানো সম্ভব।

লেখক : পুষ্টিবিদ, রাইয়ান হেলথ কেয়ার হসপিটাল অ্যান্ড রিসার্চ সেন্টার, দিনাজপুর