আজ বৃহস্পতিবার, ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬
২৬ ভাদ্র, ১৪৩৩ | ২৭ রবিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৮°C
সর্বোচ্চ: ৩৩°C
সর্বনিম্ন: ২৬°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৯৮%

শ্রাবণদিনে মেঘবালিকার সাজবদল

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:42:13 am, Tuesday, 4 August 2026
  • 33

শ্রাবণদিনে মেঘবালিকার সাজবদল

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বর্ষা মানে চারপাশের রূপ বদলানো রিফ্রেশিং আবহাওয়া। কদম-কেয়ার গন্ধ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও টিনের চালে ঝুমঝুম শব্দ মনে দোলা দিয়ে যায়। কিন্তু এই মনকাড়া রূপের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কাদা, জমে থাকা পানি এবং গুমোট স্যাঁতসেঁতে ভাব। বর্ষার দিনে বাইরে বের হলেই পোশাকে কাদার ছিটে লাগা কিংবা হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হওয়ার ভয় থাকে। এমন আবহাওয়ায় সুন্দর পোশাক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি কমফোর্ট বা স্বাচ্ছন্দ্য এবং ব্যবহারযোগ্যতার মেলবন্ধন ঘটানো না যায়, তবে ঘোরার কিংবা দৈনন্দিন কাজের পুরো আনন্দটাই মাটি হয়ে যেতে পারে।

এই আবহাওয়াকে মেনে নিয়েই ফ্যাশন সচেতন মানুষদের এগিয়ে যেতে হয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশন ধারায় যে পরিবর্তন আসে, তা কেবল সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলে নিজেকে কতটা পরিপাটি রাখা যায়, সেটাও ফ্যাশনের অন্যতম প্রধান শর্ত। বর্ষায় ট্রেন্ড ও কমফোর্ট একই সঙ্গে ধরে রাখা খুব কঠিন কিছু নয়, যদি পোশাক থেকে শুরু করে জুতা ও অনুষঙ্গ নির্বাচনে কিছুটা বুদ্ধিমত্তা ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

কাপড়ের বুনন বর্ষাকালের পোশাক নির্বাচনের প্রথম ও প্রধান শর্ত সঠিক মেটেরিয়াল বা ফ্যাব্রিক বেছে নেওয়া। বছরের অন্যান্য সময়ে সুতি কাপড়ের জনপ্রিয়তা থাকলেও, বৃষ্টি-কাদার এই দিনে ভারী সুতি কাপড় এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। সুতি কাপড় পানিতে ভিজলে ভারী হয়ে যায়, সহজে শুকাতে চায় না এবং গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকে, যা মারাত্মক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাই এই ঋতুতে এমন সব ফেব্রিক বেছে নিতে হবে যা ওজনে হালকা এবং দ্রুত শুকিয়ে যায়। যেমনÑ জর্জেট ও শিফন : হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলেও খুব দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং কাপড়ের রং ও গঠন নষ্ট হয় না। নিট ও লিনেন : পরতে অত্যন্ত আরামদায়ক, বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ভেজা ভাব বেশিক্ষণ ধরে রাখে না। সিন্থেটিক ব্লেন্ড ও আধুনিক মসলিন : উৎসব বা কোনো অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য মানানসই এবং পানি প্রতিরোধী গুণসম্পন্ন।

ফেব্রিকের পাশাপাশি রঙের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। বর্ষায় সাদা, প্যাস্টেল বা যেকোনো হালকা রঙের পোশাকে রাস্তার কাদার দাগ খুব সহজে ফুটে ওঠে, যা ধুয়ে ফেলাও বেশ কঠিন। তাই বর্ষার কালার প্যালেটে প্রাধান্য দেওয়া উচিত গাঢ় ও সমৃদ্ধ রংগুলোকে। নেভি ব্লু, বোটল গ্রিন, মেজেন্টা, ডিপ মেরুন কিংবা ওয়াইন রেড রঙের পোশাক এ সময় দেখতে যেমন আকর্ষণীয় লাগে, তেমনি কাদার ছোটখাট দাগকেও বেশ সুন্দরভাবে আড়াল করে রাখে।

কাটিং ও লেংথ বর্ষার দিনে পোশাকের ঝুল বা লেংথ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। অনভিজ্ঞতার কারণে অনেকে ফ্লোর-টাচ ম্যাক্সি ড্রেস, লম্বা সালোয়ার কিংবা মাটিতে লুটিয়ে পড়া গাউন পরে বাইরে বের হয়ে বিপদে পড়েন। রাস্তার কাদাপানি লেগে পোশাকের নিচের অংশ নিমেষেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ মৌসুমে পোশাকের কাটিং ও কাটে আনা চাই বিশেষ পরিবর্তন। হাঁটু বা অ্যাঙ্কেল-লেন্থ পোশাক বর্ষার ঘোরার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

হাঁটার সুবিধার জন্য মিডি ড্রেস, অ্যাঙ্কেল-লেন্থ সিগারেট প্যান্ট, চিনোস কিংবা শর্ট কুর্তি ও টপস বেছে নেওয়া যেতে পারে। এগুলো কাদার সীমানার ওপরে থাকে, ফলে পোশাক নোংরা হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। যারা বর্ষার ক্যানভাসে বাঙালি চিরায়ত রূপ ধরে রাখতে শাড়ি পরতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য আভিজাত্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের মেলবন্ধন ঘটানো সম্ভব ছোট কিছু কৌশলে।

যেমন- হালকা ফ্যাব্রিক : ভারী কাতান বা সুতির বদলে শিফন, জর্জেট বা হাফ-সিল্কের শাড়ি পরা। আঁচল পিনআপ : আঁচল উন্মুক্ত না রেখে ছোট করে বক্স প্লিট করে কাঁধে পিনআপ করে নেওয়া। উঁচু করে পরা : শাড়ির কুঁচি কিছুটা ওপরের দিকে তুলে পরা, যেন তা নিচের ভেজা মেঝেকে স্পর্শ না করে। সঠিক জুতা নির্বাচন ‘ফ্যাশন শুরু হয় পায়ের জুতা থেকে’Ñ এই কথাটি বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি সত্য।

কাদা আর জমে থাকা পানির দিনে জুতার ভুল নির্বাচনে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়। চামড়া বা ক্যানভাসের তৈরি জুতা বৃষ্টির পানিতে ভিজলে খুব দ্রুত নষ্ট হয়, চামড়ায় ফাঙ্গাস পড়ে এবং স্থায়িত্ব হারিয়ে ফেলে। তাই বর্ষায় চামড়ার জুতা একদম আলমারিতে তুলে রেখে বেছে নিতে হবে ওয়াটারপ্রুফ মেটেরিয়ালে তৈরি ফুটওয়্যার। বর্তমান ফ্যাশন বাজারে রাবার, পিভিসি, সিন্থেটিক কিংবা সিলিকনের তৈরি নানা ধরনের স্টাইলিশ স্যান্ডেল পাওয়া যায়, যা পানিতে নষ্ট হয় না এবং ধুয়ে ফেললে নিমেষেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

জুতার সোলের দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মসৃণ সোলের জুতা বা হাই হিল বর্ষার পিচ্ছিল রাস্তায় হাঁটার সময় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই শক্তিশালী নন-স্লিপ গ্রিপযুক্ত ফ্ল্যাট ফ্লিপ-ফ্লপ, ফ্যাশনেবল জেলি শু কিংবা ওয়াটারপ্রুফ স্নিকার্স ব্যবহার করা উচিত। এতে যেমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাঁটা যায়, তেমনি পোশাকে এক ধরনের ক্যাজুয়াল ও আধুনিক লুক চলে আসে।

প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ বর্ষায় কেবল মূল পোশাক নয়, বরঞ্চ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রও আপনার ফ্যাশনের অনন্য অংশ হয়ে উঠতে পারে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে যে ছাতা বা রেইনকোটটি ব্যবহার করছেন, সেটিকে একঘেয়ে না রেখে সামগ্রিক সাজের সঙ্গে মিলিয়ে স্টাইলিশ করে নেওয়া যায়। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মাঝে স্বচ্ছ বা ট্রান্সপারেন্ট ছাতার দারুণ চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া নিয়ন বা উজ্জ্বল রঙের ফ্যাশনেবল ছাতা বৃষ্টির দিনে ছবির ফ্রেমকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলে।

রেইনকোটের ক্ষেত্রেও এখন এসেছে নানা ধরনের আধুনিক কাট ও রঙের ট্রেন্ডি ওভারকোট ডিজাইন, যা মূল পোশাককে ঢেকে না দিয়ে বরং লুকে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে। ব্যাগের ক্ষেত্রে চামড়া বা কাপড়ের তৈরি টোট ব্যাগ একদমই ব্যবহার করা উচিত নয়। বৃষ্টির পানিতে ভেতরে থাকা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা দরকারি কাগজপত্র ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর বদলে ব্যবহার করা যেতে পারেÑ পিভিসি ও নাইলনের ব্যাগ : পানি নিরোধক এবং সহজে মুছে ফেলা যায়।

ওয়াটারপ্রুফ টোট ব্যাগ : ভেতরে ওয়াটারপ্রুফ লাইনিং থাকা ব্যাগ বেশ নিরাপদ। সিলিকন ক্রসবডি ব্যাগ : ছোটখাটো জিনিসপত্র নিরাপদে রাখতে ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে দারুণ মানায়। বর্ষার মেকআপ আর্দ্রতা ও বৃষ্টির দিনে অতিরিক্ত মেকআপ গলে গিয়ে এক বিশ্রী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই বর্ষার মেকআপ হওয়া উচিত যতটা সম্ভব হালকা, স্বাভাবিক এবং ওয়াটারপ্রুফ।

ত্বকে খুব বেশি ভারী ফাউন্ডেশনের প্রলেপ না দিয়ে হালকা ওয়াটারপ্রুফ বিবি ক্রিম বা সিসি ক্রিম ব্যবহার করাই যথেষ্ট। চোখের সাজে সাধারণ কাজল বা আইলাইনার ব্যবহারে তা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে লেপে যেতে পারে। তাই ওয়াটারপ্রুফ ও স্মাজ-প্রুফ কাজল, আইলাইনার এবং মাসকারা ব্যবহার করা উচিত। ঠোঁটের জন্য ম্যাট বা ওয়াটারপ্রুফ লিপস্টিক বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যা অনেকক্ষণ স্থায়ী থাকে এবং ভিজে গেলেও নষ্ট হয় না।

চুলের ক্ষেত্রে গুমোট আবহাওয়ায় ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে চুল ছেড়ে রাখা কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই মেসিবান, হাই পনিটেইল কিংবা সুন্দর কোনো বেণি করে নিলে তা যেমন দেখতে ট্রেন্ডি লাগে, তেমনি সারাদিন সতেজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় থাকা যায়। পরিচ্ছন্নতায় পূর্ণতা ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে ব্যক্তিগত সচেতনতায়। বর্ষার দিনে বাইরে থেকে ঘরে ফিরে পোশাক ও অনুষঙ্গের সঠিক যতœ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

ভিজে যাওয়া পোশাক বা জুতা ফেলে না রেখে দ্রুত ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে, তা না হলে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ তৈরি হতে পারে। আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজের স্বاচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দেওয়াটাই আসল ফ্যাশন। সঠিক ফেব্রিক, পারফেক্ট জুতা, মানানসই মেকআপ আর ট্রেন্ডি অনুষঙ্গের পারফেক্ট কম্বিনেশনে বর্ষার কাদা-জলকেও আপনি পরিণত করতে পারেন নিজের স্টাইল স্টেটমেন্টে।

মেঘলা দিনের ধূসরতাকে জয় করে ফ্যাশনেবল ও স্বস্তিদায়ক উপায়ে মেতে উঠুন বর্ষার আনন্দে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

ফেসবুক ও টেলিগ্রামে প্রলোভন: যেভাবে ছড়াচ্ছে অনলাইন জুয়ার অদৃশ্য সাম্রাজ্য

শ্রাবণদিনে মেঘবালিকার সাজবদল

Update Time : 02:42:13 am, Tuesday, 4 August 2026

বর্ষা মানে চারপাশের রূপ বদলানো রিফ্রেশিং আবহাওয়া। কদম-কেয়ার গন্ধ, গুঁড়ি গুঁড়ি বৃষ্টি ও টিনের চালে ঝুমঝুম শব্দ মনে দোলা দিয়ে যায়। কিন্তু এই মনকাড়া রূপের সঙ্গে জড়িয়ে থাকে কাদা, জমে থাকা পানি এবং গুমোট স্যাঁতসেঁতে ভাব। বর্ষার দিনে বাইরে বের হলেই পোশাকে কাদার ছিটে লাগা কিংবা হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে একাকার হওয়ার ভয় থাকে। এমন আবহাওয়ায় সুন্দর পোশাক বেছে নেওয়ার ক্ষেত্রে যদি কমফোর্ট বা স্বাচ্ছন্দ্য এবং ব্যবহারযোগ্যতার মেলবন্ধন ঘটানো না যায়, তবে ঘোরার কিংবা দৈনন্দিন কাজের পুরো আনন্দটাই মাটি হয়ে যেতে পারে।

এই আবহাওয়াকে মেনে নিয়েই ফ্যাশন সচেতন মানুষদের এগিয়ে যেতে হয়। ঋতু পরিবর্তনের সঙ্গে সঙ্গে ফ্যাশন ধারায় যে পরিবর্তন আসে, তা কেবল সৌন্দর্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে না; বরং আবহাওয়ার চ্যালেঞ্জ সামলে নিজেকে কতটা পরিপাটি রাখা যায়, সেটাও ফ্যাশনের অন্যতম প্রধান শর্ত। বর্ষায় ট্রেন্ড ও কমফোর্ট একই সঙ্গে ধরে রাখা খুব কঠিন কিছু নয়, যদি পোশাক থেকে শুরু করে জুতা ও অনুষঙ্গ নির্বাচনে কিছুটা বুদ্ধিমত্তা ও বাস্তবসম্মত সিদ্ধান্ত নেওয়া যায়।

কাপড়ের বুনন বর্ষাকালের পোশাক নির্বাচনের প্রথম ও প্রধান শর্ত সঠিক মেটেরিয়াল বা ফ্যাব্রিক বেছে নেওয়া। বছরের অন্যান্য সময়ে সুতি কাপড়ের জনপ্রিয়তা থাকলেও, বৃষ্টি-কাদার এই দিনে ভারী সুতি কাপড় এড়িয়ে চলাই বুদ্ধিমানের কাজ। সুতি কাপড় পানিতে ভিজলে ভারী হয়ে যায়, সহজে শুকাতে চায় না এবং গায়ের সঙ্গে লেপ্টে থাকে, যা মারাত্মক অস্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।

তাই এই ঋতুতে এমন সব ফেব্রিক বেছে নিতে হবে যা ওজনে হালকা এবং দ্রুত শুকিয়ে যায়। যেমনÑ জর্জেট ও শিফন : হঠাৎ বৃষ্টিতে ভিজে গেলেও খুব দ্রুত শুকিয়ে যায় এবং কাপড়ের রং ও গঠন নষ্ট হয় না। নিট ও লিনেন : পরতে অত্যন্ত আরামদায়ক, বাতাস চলাচল করতে পারে এবং ভেজা ভাব বেশিক্ষণ ধরে রাখে না। সিন্থেটিক ব্লেন্ড ও আধুনিক মসলিন : উৎসব বা কোনো অনুষ্ঠানে ব্যবহারের জন্য মানানসই এবং পানি প্রতিরোধী গুণসম্পন্ন।

ফেব্রিকের পাশাপাশি রঙের ক্ষেত্রেও বিশেষ নজর দেওয়া প্রয়োজন। বর্ষায় সাদা, প্যাস্টেল বা যেকোনো হালকা রঙের পোশাকে রাস্তার কাদার দাগ খুব সহজে ফুটে ওঠে, যা ধুয়ে ফেলাও বেশ কঠিন। তাই বর্ষার কালার প্যালেটে প্রাধান্য দেওয়া উচিত গাঢ় ও সমৃদ্ধ রংগুলোকে। নেভি ব্লু, বোটল গ্রিন, মেজেন্টা, ডিপ মেরুন কিংবা ওয়াইন রেড রঙের পোশাক এ সময় দেখতে যেমন আকর্ষণীয় লাগে, তেমনি কাদার ছোটখাট দাগকেও বেশ সুন্দরভাবে আড়াল করে রাখে।

কাটিং ও লেংথ বর্ষার দিনে পোশাকের ঝুল বা লেংথ একটি অত্যন্ত সংবেদনশীল বিষয়। অনভিজ্ঞতার কারণে অনেকে ফ্লোর-টাচ ম্যাক্সি ড্রেস, লম্বা সালোয়ার কিংবা মাটিতে লুটিয়ে পড়া গাউন পরে বাইরে বের হয়ে বিপদে পড়েন। রাস্তার কাদাপানি লেগে পোশাকের নিচের অংশ নিমেষেই নষ্ট হয়ে যায়। তাই এ মৌসুমে পোশাকের কাটিং ও কাটে আনা চাই বিশেষ পরিবর্তন। হাঁটু বা অ্যাঙ্কেল-লেন্থ পোশাক বর্ষার ঘোরার জন্য সবচেয়ে উপযুক্ত।

হাঁটার সুবিধার জন্য মিডি ড্রেস, অ্যাঙ্কেল-লেন্থ সিগারেট প্যান্ট, চিনোস কিংবা শর্ট কুর্তি ও টপস বেছে নেওয়া যেতে পারে। এগুলো কাদার সীমানার ওপরে থাকে, ফলে পোশাক নোংরা হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়। যারা বর্ষার ক্যানভাসে বাঙালি চিরায়ত রূপ ধরে রাখতে শাড়ি পরতে ভালোবাসেন, তাদের জন্য আভিজাত্য ও স্বাচ্ছন্দ্যের মেলবন্ধন ঘটানো সম্ভব ছোট কিছু কৌশলে।

যেমন- হালকা ফ্যাব্রিক : ভারী কাতান বা সুতির বদলে শিফন, জর্জেট বা হাফ-সিল্কের শাড়ি পরা। আঁচল পিনআপ : আঁচল উন্মুক্ত না রেখে ছোট করে বক্স প্লিট করে কাঁধে পিনআপ করে নেওয়া। উঁচু করে পরা : শাড়ির কুঁচি কিছুটা ওপরের দিকে তুলে পরা, যেন তা নিচের ভেজা মেঝেকে স্পর্শ না করে। সঠিক জুতা নির্বাচন ‘ফ্যাশন শুরু হয় পায়ের জুতা থেকে’Ñ এই কথাটি বর্ষাকালে সবচেয়ে বেশি সত্য।

কাদা আর জমে থাকা পানির দিনে জুতার ভুল নির্বাচনে মারাত্মক দুর্ঘটনার ঝুঁকি থেকে যায়। চামড়া বা ক্যানভাসের তৈরি জুতা বৃষ্টির পানিতে ভিজলে খুব দ্রুত নষ্ট হয়, চামড়ায় ফাঙ্গাস পড়ে এবং স্থায়িত্ব হারিয়ে ফেলে। তাই বর্ষায় চামড়ার জুতা একদম আলমারিতে তুলে রেখে বেছে নিতে হবে ওয়াটারপ্রুফ মেটেরিয়ালে তৈরি ফুটওয়্যার। বর্তমান ফ্যাশন বাজারে রাবার, পিভিসি, সিন্থেটিক কিংবা সিলিকনের তৈরি নানা ধরনের স্টাইলিশ স্যান্ডেল পাওয়া যায়, যা পানিতে নষ্ট হয় না এবং ধুয়ে ফেললে নিমেষেই পরিষ্কার হয়ে যায়।

জুতার সোলের দিকে নজর দেওয়া অত্যন্ত জরুরি। মসৃণ সোলের জুতা বা হাই হিল বর্ষার পিচ্ছিল রাস্তায় হাঁটার সময় বিপদের কারণ হতে পারে। তাই শক্তিশালী নন-স্লিপ গ্রিপযুক্ত ফ্ল্যাট ফ্লিপ-ফ্লপ, ফ্যাশনেবল জেলি শু কিংবা ওয়াটারপ্রুফ স্নিকার্স ব্যবহার করা উচিত। এতে যেমন আত্মবিশ্বাসের সঙ্গে হাঁটা যায়, তেমনি পোশাকে এক ধরনের ক্যাজুয়াল ও আধুনিক লুক চলে আসে।

প্রয়োজনীয় অনুষঙ্গ বর্ষায় কেবল মূল পোশাক নয়, বরঞ্চ আনুষঙ্গিক জিনিসপত্রও আপনার ফ্যাশনের অনন্য অংশ হয়ে উঠতে পারে। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে যে ছাতা বা রেইনকোটটি ব্যবহার করছেন, সেটিকে একঘেয়ে না রেখে সামগ্রিক সাজের সঙ্গে মিলিয়ে স্টাইলিশ করে নেওয়া যায়। বর্তমান তরুণ প্রজন্মের মাঝে স্বচ্ছ বা ট্রান্সপারেন্ট ছাতার দারুণ চাহিদা রয়েছে। এ ছাড়া নিয়ন বা উজ্জ্বল রঙের ফ্যাশনেবল ছাতা বৃষ্টির দিনে ছবির ফ্রেমকে দারুণভাবে ফুটিয়ে তোলে।

রেইনকোটের ক্ষেত্রেও এখন এসেছে নানা ধরনের আধুনিক কাট ও রঙের ট্রেন্ডি ওভারকোট ডিজাইন, যা মূল পোশাককে ঢেকে না দিয়ে বরং লুকে বাড়তি আকর্ষণ যোগ করে। ব্যাগের ক্ষেত্রে চামড়া বা কাপড়ের তৈরি টোট ব্যাগ একদমই ব্যবহার করা উচিত নয়। বৃষ্টির পানিতে ভেতরে থাকা মোবাইল ফোন, মানিব্যাগ কিংবা দরকারি কাগজপত্র ভিজে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এর বদলে ব্যবহার করা যেতে পারেÑ পিভিসি ও নাইলনের ব্যাগ : পানি নিরোধক এবং সহজে মুছে ফেলা যায়।

ওয়াটারপ্রুফ টোট ব্যাগ : ভেতরে ওয়াটারপ্রুফ লাইনিং থাকা ব্যাগ বেশ নিরাপদ। সিলিকন ক্রসবডি ব্যাগ : ছোটখাটো জিনিসপত্র নিরাপদে রাখতে ক্যাজুয়াল পোশাকের সঙ্গে দারুণ মানায়। বর্ষার মেকআপ আর্দ্রতা ও বৃষ্টির দিনে অতিরিক্ত মেকআপ গলে গিয়ে এক বিশ্রী পরিস্থিতির সৃষ্টি করতে পারে। তাই বর্ষার মেকআপ হওয়া উচিত যতটা সম্ভব হালকা, স্বাভাবিক এবং ওয়াটারপ্রুফ।

ত্বকে খুব বেশি ভারী ফাউন্ডেশনের প্রলেপ না দিয়ে হালকা ওয়াটারপ্রুফ বিবি ক্রিম বা সিসি ক্রিম ব্যবহার করাই যথেষ্ট। চোখের সাজে সাধারণ কাজল বা আইলাইনার ব্যবহারে তা বৃষ্টির পানিতে ধুয়ে লেপে যেতে পারে। তাই ওয়াটারপ্রুফ ও স্মাজ-প্রুফ কাজল, আইলাইনার এবং মাসকারা ব্যবহার করা উচিত। ঠোঁটের জন্য ম্যাট বা ওয়াটারপ্রুফ লিপস্টিক বেছে নেওয়াই বুদ্ধিমানের কাজ হবে, যা অনেকক্ষণ স্থায়ী থাকে এবং ভিজে গেলেও নষ্ট হয় না।

চুলের ক্ষেত্রে গুমোট আবহাওয়ায় ঘাম ও আর্দ্রতার কারণে চুল ছেড়ে রাখা কিছুটা অস্বস্তিকর হতে পারে। তাই মেসিবান, হাই পনিটেইল কিংবা সুন্দর কোনো বেণি করে নিলে তা যেমন দেখতে ট্রেন্ডি লাগে, তেমনি সারাদিন সতেজ ও স্বাচ্ছন্দ্যময় থাকা যায়। পরিচ্ছন্নতায় পূর্ণতা ফ্যাশন ও লাইফস্টাইলের প্রকৃত সৌন্দর্য লুকিয়ে থাকে ব্যক্তিগত সচেতনতায়। বর্ষার দিনে বাইরে থেকে ঘরে ফিরে পোশাক ও অনুষঙ্গের সঠিক যতœ নেওয়া অত্যন্ত প্রয়োজন।

ভিজে যাওয়া পোশাক বা জুতা ফেলে না রেখে দ্রুত ধুয়ে শুকিয়ে নিতে হবে, তা না হলে স্যাঁতসেঁতে গন্ধ তৈরি হতে পারে। আবহাওয়া যেমনই হোক না কেন, পরিবেশ ও পরিস্থিতির সঙ্গে খাপ খাইয়ে নিজের স্বاচ্ছন্দ্যকে প্রাধান্য দেওয়াটাই আসল ফ্যাশন। সঠিক ফেব্রিক, পারফেক্ট জুতা, মানানসই মেকআপ আর ট্রেন্ডি অনুষঙ্গের পারফেক্ট কম্বিনেশনে বর্ষার কাদা-জলকেও আপনি পরিণত করতে পারেন নিজের স্টাইল স্টেটমেন্টে।

মেঘলা দিনের ধূসরতাকে জয় করে ফ্যাশনেবল ও স্বস্তিদায়ক উপায়ে মেতে উঠুন বর্ষার আনন্দে।