8:02 am, Monday, 3 August 2026

সমকামিতা-সংক্রান্ত ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই: শহীদুল্লাহ হলের এজিএস

  • MIT ERP
  • Update Time : 08:01:58 am, Monday, 3 August 2026
  • 0

সমকামিতা-সংক্রান্ত ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই: শহীদুল্লাহ হলের এজিএস

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিম খলিল দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সমকামিতা-সংক্রান্ত ঘটনায় তাকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই; বরং বিষয়টি জানার পর থেকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম খলিল জানান, অভিযুক্তদের একজন তার মায়ের মামাতো ভাই। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে থাকার জায়গা না থাকায় মানবিক বিবেচনায় তাকে নিজের কক্ষে থাকার অনুমতি দেন। তবে ওই ব্যক্তি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসবেন- এ বিষয়ে তাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ২৬ তারিখে সে আমাকে ফোন করে জানায়, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসবে কিন্তু থাকার জায়গা নেই। আমি তাকে আমার রুমে থাকতে বলি। পরদিন হলে এসে দেখি, তার সঙ্গে আরও একজন এসেছে। তখন আমি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা জানায়, একজন মেঝেতে ঘুমাবে এবং বিকেলে ডাক্তার দেখিয়ে চলে যাবে। ইব্রাহিম খলিলের ভাষ্য, পরদিন সকালে তিনি ক্লাসে চলে যান। তার অনুপস্থিতিতে রুমমেট অতিথিদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু বিষয়টি তাকে বা হল প্রশাসনকে না জানিয়ে অতিথিদের চলে যেতে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমার রুমমেট যদি তখনই আমাকে বা হল প্রশাসনকে জানাতেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। এজিএসের দাবি, কয়েক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে প্রথম তিনি পুরো ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, সমকামিতার বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেদিন বিষয়টি জানতে পেরেছি, সেদিন থেকেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। প্রকৃত অভিযুক্তদের পরিবর্তে তাকে সামনে এনে প্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ইব্রাহিম খলিল। তার প্রশ্ন, যিনি ঘটনাটি দেখেছেন, তিনি সেদিনই কেন আইনের আশ্রয় নিলেন না? কেন অভিযুক্তদের ছেড়ে দিয়ে কয়েক দিন পর ভিডিও প্রকাশ করা হলো? যদি উদ্দেশ্য অপরাধীর বিচার হতো, তাহলে প্রথমেই তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হতো। কিন্তু তা না করে আমাকে সামনে আনা হয়েছে। আমি মনে করি, এটি আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর একটি পরিকল্পিত চেষ্টা।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সমকামিতা-সংক্রান্ত ঘটনায় আমার কোনো সম্পৃক্ততা নেই: শহীদুল্লাহ হলের এজিএস

Update Time : 08:01:58 am, Monday, 3 August 2026

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) ড. মুহাম্মদ শহীদুল্লাহ হল সংসদের এজিএস ইব্রাহিম খলিল দাবি করেছেন, সাম্প্রতিক সমকামিতা-সংক্রান্ত ঘটনায় তাকে পরিকল্পিতভাবে রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে জড়ানোর চেষ্টা করা হচ্ছে। তিনি বলেন, ঘটনার সঙ্গে তার কোনো সম্পৃক্ততা নেই; বরং বিষয়টি জানার পর থেকেই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছেন। রোববার রাত সাড়ে ১১টায় ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন তিনি। সংবাদ সম্মেলনে ইব্রাহিম খলিল জানান, অভিযুক্তদের একজন তার মায়ের মামাতো ভাই। চিকিৎসার জন্য ঢাকায় এসে থাকার জায়গা না থাকায় মানবিক বিবেচনায় তাকে নিজের কক্ষে থাকার অনুমতি দেন। তবে ওই ব্যক্তি আরেকজনকে সঙ্গে নিয়ে আসবেন- এ বিষয়ে তাকে আগে থেকে কিছু জানানো হয়নি। তিনি বলেন, ২৬ তারিখে সে আমাকে ফোন করে জানায়, চিকিৎসার জন্য ঢাকায় আসবে কিন্তু থাকার জায়গা নেই। আমি তাকে আমার রুমে থাকতে বলি। পরদিন হলে এসে দেখি, তার সঙ্গে আরও একজন এসেছে। তখন আমি বিষয়টি নিয়ে প্রশ্ন করলে তারা জানায়, একজন মেঝেতে ঘুমাবে এবং বিকেলে ডাক্তার দেখিয়ে চলে যাবে। ইব্রাহিম খলিলের ভাষ্য, পরদিন সকালে তিনি ক্লাসে চলে যান। তার অনুপস্থিতিতে রুমমেট অতিথিদের আপত্তিকর অবস্থায় দেখতে পান। কিন্তু বিষয়টি তাকে বা হল প্রশাসনকে না জানিয়ে অতিথিদের চলে যেতে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, আমার রুমমেট যদি তখনই আমাকে বা হল প্রশাসনকে জানাতেন, তাহলে সঙ্গে সঙ্গে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া যেত। কিন্তু আমাকে কিছুই জানানো হয়নি। এজিএসের দাবি, কয়েক দিন পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভিডিও প্রকাশের মাধ্যমে প্রথম তিনি পুরো ঘটনাটি জানতে পারেন। এরপরই অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার উদ্যোগ নেন। তিনি বলেন, সমকামিতার বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। যেদিন বিষয়টি জানতে পেরেছি, সেদিন থেকেই আইনি পদক্ষেপ নেওয়ার চেষ্টা করেছি। ভবিষ্যতেও অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে আইনগত প্রক্রিয়ায় সর্বোচ্চ সহযোগিতা করব। প্রকৃত অভিযুক্তদের পরিবর্তে তাকে সামনে এনে প্রচার চালানো হয়েছে বলেও অভিযোগ করেন ইব্রাহিম খলিল। তার প্রশ্ন, যিনি ঘটনাটি দেখেছেন, তিনি সেদিনই কেন আইনের আশ্রয় নিলেন না? কেন অভিযুক্তদের ছেড়ে দিয়ে কয়েক দিন পর ভিডিও প্রকাশ করা হলো? যদি উদ্দেশ্য অপরাধীর বিচার হতো, তাহলে প্রথমেই তাদের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর হাতে তুলে দেওয়া হতো। কিন্তু তা না করে আমাকে সামনে আনা হয়েছে। আমি মনে করি, এটি আমাকে রাজনৈতিকভাবে ফাঁসানোর একটি পরিকল্পিত চেষ্টা।