1:17 am, Monday, 3 August 2026

অচল সিলেট হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ ফেরাতে নতুন করে সরকারের তৎপরতা

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:30:54 pm, Sunday, 2 August 2026
  • 10
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সিলেটের সীমান্তঘেঁষা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চেলা নদীর তীরবর্তী বর্ণি এলাকা। সেখানকার ১৬৩ একর বিস্তৃত প্রান্তর একসময় থৈথৈ পানি, পাথর আর নীরব হাওর-জলাভূমি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে ২০১৬ সালে আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানের তথ্যপ্রযুক্তির হাব গড়ার বিশাল অথচ উচ্চাকাক্সক্ষী পরিকল্পনা হাতে নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ভিত্তি তৈরি করা, যা পুরো সিলেট অঞ্চলের হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর ভাগ্য বদলে দেবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইটি আউটসোর্সিং ও সফটওয়্যার রপ্তানির বাজারে বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবে। প্রথমে এর নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক’। পরে ‘শেখ হাসিনা আইটি পার্ক’ করা হলেও বর্তমানে রাজনৈতিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নাম পরিহার করে এলাকাভিত্তিক পরিচিতি হিসেবে ‘সিলেট হাইটেক পার্ক’ নামে মেগা উদ্যোগটির জন্য জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে প্রকল্পের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান সম্পন্ন করা হয়। এই প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৩৩৬ কোটি টাকারও বেশি। যার মূল লক্ষ্য ছিল হাওরের মাঝে মাটি ভরাট করে বিশ্বমানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক বহুতল প্রশাসনিক ভবন, কালভার্ট, সংযোগ সেতু এবং প্রশস্ত অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক নির্মাণ করা। প্রাথমিক নির্মাণকাজ শেষে ২০২১ সালের মে মাসে উদ্বোধনের পর একই বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রকল্পের সূচনালগ্নে পুরো সিলেটবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নতুন স্বপ্নের জাগরণ দেখা গিয়েছিল। পূর্বাঞ্চলীয় এই প্রান্তিক সীমান্তে তথ্যপ্রযুক্তির এমন একটি আধুনিক ও সুবিশাল কেন্দ্র স্থাপন যে পুরো অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া স্থানীয় অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক গতি আনবে, তা নিয়ে কারো মনে সংশয় ছিল না। বিশেষ করে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে পাস করা তরুণ প্রকৌশলী, ফ্রিল্যান্সার ও উঠতি উদ্যোক্তারা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, নিজ ভূমিতে থেকে তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, হাই-স্পিড ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও আধুনিক স্টার্টআপ সুবিধা পাবেন। কিন্তু সরকারি ব্যর্থতায় তা আর হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পার্কে শিল্পকারখানা ও আইটি হাব স্থাপনে আটটি দেশি-উচ্চপর্যায়ের এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৩ দশমিক ৮ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর ও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশাসনিক বহুতল ভবনের ভেতর তিনটি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৯ হাজার ১০ বর্গফুট স্পেস প্রস্তুত করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। নকশা অনুযায়ী, পার্কের ভেতর নতুন অবকাঠামো দৃশ্যমান হতে শুরু করায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা ধরে নিয়েছিলেন, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ খুব দ্রুতই দেশের অন্যতম প্রধান সিলিকন ভ্যালিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। চোখ কাড়ে সড়কের পাশে থাকা প্রবেশ গেটটিও। তবে এই বাহ্যিক কাঠামোগত সৌন্দর্য ও চকচকে ভবনের পেছনে গোপনে এবং ধীরে ধীরে জমে উঠছিল অনিয়ম, প্রশাসনিক অদূরদর্শিতা এবং নজিরবিহীন ইউটিলিটি সংকটের ইতিহাস। বাস্তবায়নের প্রাথমিক উন্মাদনা ও উদ্বোধনী আলোড়ন শেষ হতে না হতেই পার্কটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক খাতের চরম দুর্বলতা একে একে প্রকাশ পেতে শুরু করে। সুবিশাল বহুতল ভবন ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মিত হলেও আন্তর্জাতিক মানের হাইটেক পার্ক সাফল্যের সঙ্গে সচল রাখতে যেসব মৌলিক ও জরুরি ইউটিলিটি সুবিধা প্রয়োজন, তা নিশ্চিতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও পার্কে ভারী শিল্পকারখানা কিংবা উচ্চক্ষমতার ডেটা সেন্টার চালানোর মতো নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের সংস্থান করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে কারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনে শিল্পমানের গ্যাস সরবরাহের বিষয়টিও পুরোপুরি ফাইলবন্দি ও ঝুলন্ত অবস্থায় আটকে থাকে। ফলে বরাদ্দ পাওয়ার পর বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে আসা অধিকাংশ দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে পারেনি এবং কার্যক্রম শুরু না করেই পার্ক ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি কতটা করুণ ছিল তা বোঝা যায় একমাত্র সচল হওয়া প্রতিষ্ঠান র‌্যাংগস ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের অবস্থা পর্যালোচনা করলে। অপূর্ণতার মাঝেও পার্কে তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টের কাজ শুরু করে র‌্যাংগস। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও পাইপলাইনের নির্ধারিত শিল্প গ্যাস পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ, অনিরাপদ এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যয়বহুল এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বাইরে থেকে কিনে উৎপাদন চালিয়ে যেতে হচ্ছিল। ফলে একদিকে উৎপাদনের খরচ সীমাহীনভাবে বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ে তাদের সার্বিক কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে পুরো পার্ক প্রকল্প একটি ভূতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়েছে। সূত্র জানায়, অবকাঠামোগত স্থবিরতা ও মৌলিক সেবার অভাবের পাশাপাশি প্রকল্পটি ঘিরে বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাস্তবায়নের নানামুখী দুর্নীতির অভিযোগও চারদিকে জোরালো হতে থাকে। কালক্ষেপণ করে বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং প্রতিবারই প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্মাণ খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি দেখানো হয়, যা কার্যত জাতীয় কোষাগারের ওপর বিশাল ও অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। এতে পকেট ভারি হয়েছিল সরকারের ওপর মহলের। কোনো ধরনের জবাবদিহিতা ও সঠিক তদারকি না থাকায় শত শত কোটি রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচের পর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো এবং সুউচ্চ ভবনগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একইসঙ্গে বৃষ্টি ও রোদ-বাতাসে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল কীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা, সঠিক অবকাঠামোগত পরিকল্পনার অভাব এবং হরিলুটের কারণে অচল হয়ে যেতে পারে, কোম্পানীগঞ্জের এই হাইটেক পার্ক পুরো দেশে তার জ্বলন্ত ও চরম দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা, বিপুল আর্থিক অপচয় ও হতাশার পটভূমিতে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা হাইটেক পার্ক ও মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তব কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়নের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কার্যালয় এবং আইসিটি বিভাগের গভীর পর্যালোচনায় কোম্পানীগঞ্জের পার্কটির অকার্যকারিতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার লেজেগোবরে অবস্থা পরিষ্কারভাবে উঠে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় অন্তর্বর্তী সরকার সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসন ও আইসিটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ সভা ও বৈঠকের আয়োজন করে। তারা অব্যবহৃত বিশাল জমিতে বিকল্প কোনো বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ আনা যায় কি না- তা নিয়ে নতুন নীতি প্রণয়নের চেষ্টা চালায়। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার সরকারি পরিকাঠামো যেন একেবারে পরিত্যক্ত হয়ে ধ্বংস না হয়ে যায়, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকার পার্কটির প্রযুক্তিভিত্তিক মডেলকে পুনর্মূূল্যায়ন করে একে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তরের সমন্বিত একটি রূপরেখা তৈরি করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, বিশাল ভবনগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা, যাতে সিলেটের বিদেশগামী বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা যায়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সংক্ষিপ্ত মেয়াদের কারণে এই রূপান্তর প্রস্তাবটি চূড়ান্ত প্রশাসনিক বাস্তবায়নের মুখ দেখতে পারেনি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিলেটের এই মেগা প্রকল্পের ভাগ্য নিয়ে নতুন ও জোরদার প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল সরকারি পরিকাঠামোকে ফেলে না রেখে একে পুনরায় পুরোপুরি সচল, পুনর্বাসিত ও কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজে কোম্পানীগঞ্জে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে পুরো সিলেট হাইটেক পার্ক এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি পার্কের সুউচ্চ ভবন, প্লট, সংযোগ সড়ক এবং ঝুলন্ত থাকা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগস্থলের বর্তমান ভৌত অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনার আওতায় আনেন। আরিফুল হক চৌধুরী দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে- অতীতের ব্যর্থতাগুলো দূর করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের মতো জরুরি ইউটিলিটি সংযোগ স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা। সরকার এখন দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে; একদিকে পূর্বে স্থগিত ও থমকে যাওয়া আইটি আউটসোর্সিং প্রকল্পগুলোকে সুবিধাদি দিয়ে ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে সিলেটের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করতে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের অবকাঠামোকে এর সঙ্গে সমন্বিত করা। তিনি জানান, পার্কটিকে দ্রুত পুনর্গঠন ও সচল করতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বিশেষ সরকারি তদারকি ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, কোম্পানীগঞ্জের চেলা নদীর তীরের এই বর্ণিল প্রান্তরটির সূচনা হয়েছিল আন্তর্জাতিক আইটি বিপ্লবের এক বুক ভরা আশাজাগানিয়া স্বপ্ন দিয়ে, যা মাঝপথে অদূরদর্শিতা আর অব্যবস্থাপনার কারণে চরম হতাশায় রূপ নিয়েছিল। সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সরেজমিন উদ্যোগ, নতুন দিকনির্দেশনা ও বিশেষ তদারকি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে এটি আজ ফের নতুন করে সচল হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। স্থানীরা আশা প্রকাশ করেন, অতীতের নীতিগত ভুল ও ইউটিলিটি সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার যদি দ্রুত গ্যাস-বিদ্যুতের স্থায়ী সংস্থান করে নতুন কর্মপরিকল্পনাগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে দীর্ঘদিনের স্বপ্নভঙ্গ ও হতাশার অন্ধকার পেছনে ফেলে সিলেট অঞ্চল এক নতুন অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা দেখতে পাবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

অচল সিলেট হাইটেক পার্কে বিনিয়োগ ফেরাতে নতুন করে সরকারের তৎপরতা

Update Time : 10:30:54 pm, Sunday, 2 August 2026

সিলেটের সীমান্তঘেঁষা কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চেলা নদীর তীরবর্তী বর্ণি এলাকা। সেখানকার ১৬৩ একর বিস্তৃত প্রান্তর একসময় থৈথৈ পানি, পাথর আর নীরব হাওর-জলাভূমি অঞ্চল হিসেবে পরিচিত ছিল। দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের এই প্রাকৃতিক পরিবেশের মাঝে ২০১৬ সালে আধুনিক এবং আন্তর্জাতিক মানের তথ্যপ্রযুক্তির হাব গড়ার বিশাল অথচ উচ্চাকাক্সক্ষী পরিকল্পনা হাতে নেয় তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকার। মূল উদ্দেশ্য ছিল একটি শক্তিশালী অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত ভিত্তি তৈরি করা, যা পুরো সিলেট অঞ্চলের হাজার হাজার বেকার যুবক-যুবতীর ভাগ্য বদলে দেবে। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইটি আউটসোর্সিং ও সফটওয়্যার রপ্তানির বাজারে বাংলাদেশকে শক্তিশালী ও প্রতিযোগিতামূলক অবস্থানে নিয়ে যাবে। প্রথমে এর নামকরণ করা হয় ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব হাইটেক পার্ক’। পরে ‘শেখ হাসিনা আইটি পার্ক’ করা হলেও বর্তমানে রাজনৈতিক ব্যক্তিকেন্দ্রিক নাম পরিহার করে এলাকাভিত্তিক পরিচিতি হিসেবে ‘সিলেট হাইটেক পার্ক’ নামে মেগা উদ্যোগটির জন্য জমি অধিগ্রহণ থেকে শুরু করে প্রকল্পের প্রাতিষ্ঠানিক রূপদান সম্পন্ন করা হয়। এই প্রকল্পের প্রাথমিক বাজেট ধরা হয়েছিল ৩৩৬ কোটি টাকারও বেশি। যার মূল লক্ষ্য ছিল হাওরের মাঝে মাটি ভরাট করে বিশ্বমানের ড্রেনেজ ব্যবস্থা, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ উপকেন্দ্র, দৃষ্টিনন্দন ও আধুনিক বহুতল প্রশাসনিক ভবন, কালভার্ট, সংযোগ সেতু এবং প্রশস্ত অভ্যন্তরীণ পাকা সড়ক নির্মাণ করা। প্রাথমিক নির্মাণকাজ শেষে ২০২১ সালের মে মাসে উদ্বোধনের পর একই বছরের ডিসেম্বরে প্রকল্পটির আনুষ্ঠানিক কার্যক্রম শুরুর ঘোষণা দেওয়া হয়। প্রকল্পের সূচনালগ্নে পুরো সিলেটবাসীর মধ্যে উৎসাহ-উদ্দীপনা ও নতুন স্বপ্নের জাগরণ দেখা গিয়েছিল। পূর্বাঞ্চলীয় এই প্রান্তিক সীমান্তে তথ্যপ্রযুক্তির এমন একটি আধুনিক ও সুবিশাল কেন্দ্র স্থাপন যে পুরো অঞ্চলের পিছিয়ে পড়া স্থানীয় অর্থনীতিতে বৈপ্লবিক গতি আনবে, তা নিয়ে কারো মনে সংশয় ছিল না। বিশেষ করে সিলেটের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে পাস করা তরুণ প্রকৌশলী, ফ্রিল্যান্সার ও উঠতি উদ্যোক্তারা আশায় বুক বেঁধেছিলেন। তারা ভেবেছিলেন, নিজ ভূমিতে থেকে তারা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে কাজ করার জন্য প্রয়োজনীয় সরকারি পৃষ্ঠপোষকতা, হাই-স্পিড ইন্টারনেট, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও আধুনিক স্টার্টআপ সুবিধা পাবেন। কিন্তু সরকারি ব্যর্থতায় তা আর হয়ে ওঠেনি। বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, পার্কে শিল্পকারখানা ও আইটি হাব স্থাপনে আটটি দেশি-উচ্চপর্যায়ের এবং বিদেশি প্রতিষ্ঠানকে মোট ৪৩ দশমিক ৮ একর জমি আনুষ্ঠানিকভাবে হস্তান্তর ও বরাদ্দ দেওয়া হয়েছিল। একই সঙ্গে প্রশাসনিক বহুতল ভবনের ভেতর তিনটি তথ্যপ্রযুক্তিভিত্তিক প্রতিষ্ঠানকে প্রায় ৯ হাজার ১০ বর্গফুট স্পেস প্রস্তুত করে বরাদ্দ দেওয়া হয়। নকশা অনুযায়ী, পার্কের ভেতর নতুন অবকাঠামো দৃশ্যমান হতে শুরু করায় সাধারণ মানুষ থেকে শুরু করে বিশিষ্টজনেরা ধরে নিয়েছিলেন, সিলেটের কোম্পানীগঞ্জ খুব দ্রুতই দেশের অন্যতম প্রধান সিলিকন ভ্যালিতে পরিণত হতে যাচ্ছে। চোখ কাড়ে সড়কের পাশে থাকা প্রবেশ গেটটিও। তবে এই বাহ্যিক কাঠামোগত সৌন্দর্য ও চকচকে ভবনের পেছনে গোপনে এবং ধীরে ধীরে জমে উঠছিল অনিয়ম, প্রশাসনিক অদূরদর্শিতা এবং নজিরবিহীন ইউটিলিটি সংকটের ইতিহাস। বাস্তবায়নের প্রাথমিক উন্মাদনা ও উদ্বোধনী আলোড়ন শেষ হতে না হতেই পার্কটির সার্বিক ব্যবস্থাপনা এবং প্রশাসনিক খাতের চরম দুর্বলতা একে একে প্রকাশ পেতে শুরু করে। সুবিশাল বহুতল ভবন ও অভ্যন্তরীণ সড়ক নির্মিত হলেও আন্তর্জাতিক মানের হাইটেক পার্ক সাফল্যের সঙ্গে সচল রাখতে যেসব মৌলিক ও জরুরি ইউটিলিটি সুবিধা প্রয়োজন, তা নিশ্চিতে প্রকল্প কর্তৃপক্ষ চূড়ান্ত ব্যর্থতার পরিচয় দেয়। বছরের পর বছর পার হয়ে গেলেও পার্কে ভারী শিল্পকারখানা কিংবা উচ্চক্ষমতার ডেটা সেন্টার চালানোর মতো নিরবচ্ছিন্ন ও নির্ভরযোগ্য উচ্চক্ষমতাসম্পন্ন বিদ্যুৎ সংযোগের সংস্থান করা সম্ভব হয়নি। একই সঙ্গে কারখানা ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের জন্য প্রয়োজনীয় পাইপলাইনে শিল্পমানের গ্যাস সরবরাহের বিষয়টিও পুরোপুরি ফাইলবন্দি ও ঝুলন্ত অবস্থায় আটকে থাকে। ফলে বরাদ্দ পাওয়ার পর বিশাল প্রত্যাশা নিয়ে আসা অধিকাংশ দেশি-বিদেশি প্রতিষ্ঠান তাদের কোটি কোটি টাকার যন্ত্রপাতি স্থাপন করতে পারেনি এবং কার্যক্রম শুরু না করেই পার্ক ত্যাগ করতে বাধ্য হয়। পরিস্থিতি কতটা করুণ ছিল তা বোঝা যায় একমাত্র সচল হওয়া প্রতিষ্ঠান র‌্যাংগস ইলেকট্রনিক্স লিমিটেডের অবস্থা পর্যালোচনা করলে। অপূর্ণতার মাঝেও পার্কে তাদের ম্যানুফ্যাকচারিং প্ল্যান্টের কাজ শুরু করে র‌্যাংগস। কিন্তু দীর্ঘ প্রতীক্ষার পরও পাইপলাইনের নির্ধারিত শিল্প গ্যাস পায়নি প্রতিষ্ঠানটি। বাধ্য হয়ে প্রতিষ্ঠানটিকে ঝুঁকিপূর্ণ, অনিরাপদ এবং বাণিজ্যিকভাবে ব্যয়বহুল এলপিজি সিলিন্ডার গ্যাস বাইরে থেকে কিনে উৎপাদন চালিয়ে যেতে হচ্ছিল। ফলে একদিকে উৎপাদনের খরচ সীমাহীনভাবে বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে চরম আর্থিক লোকসানের মুখে পড়ে তাদের সার্বিক কার্যক্রম স্তিমিত হয়ে পড়ে। বর্তমানে পুরো পার্ক প্রকল্প একটি ভূতুড়ে এলাকায় পরিণত হয়েছে। সূত্র জানায়, অবকাঠামোগত স্থবিরতা ও মৌলিক সেবার অভাবের পাশাপাশি প্রকল্পটি ঘিরে বিগত সরকারের অর্থনৈতিক ও বাস্তবায়নের নানামুখী দুর্নীতির অভিযোগও চারদিকে জোরালো হতে থাকে। কালক্ষেপণ করে বারবার প্রকল্পের মেয়াদ বাড়ানো হয় এবং প্রতিবারই প্রকল্পের রক্ষণাবেক্ষণ ও নির্মাণ খরচ বহুগুণ বৃদ্ধি দেখানো হয়, যা কার্যত জাতীয় কোষাগারের ওপর বিশাল ও অযৌক্তিক আর্থিক চাপ সৃষ্টি করেছিল। এতে পকেট ভারি হয়েছিল সরকারের ওপর মহলের। কোনো ধরনের জবাবদিহিতা ও সঠিক তদারকি না থাকায় শত শত কোটি রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচের পর নির্মিত দৃষ্টিনন্দন অবকাঠামো এবং সুউচ্চ ভবনগুলো সম্পূর্ণ ফাঁকা ও অব্যবহৃত অবস্থায় পড়ে রয়েছে। একইসঙ্গে বৃষ্টি ও রোদ-বাতাসে ধীরে ধীরে ধ্বংসের মুখে পড়ছে। দেশের অত্যন্ত সম্ভাবনাময় অঞ্চল কীভাবে দায়িত্বপ্রাপ্তদের অবহেলা, সঠিক অবকাঠামোগত পরিকল্পনার অভাব এবং হরিলুটের কারণে অচল হয়ে যেতে পারে, কোম্পানীগঞ্জের এই হাইটেক পার্ক পুরো দেশে তার জ্বলন্ত ও চরম দৃষ্টান্তে পরিণত হয়েছে। তবে এই দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা, বিপুল আর্থিক অপচয় ও হতাশার পটভূমিতে ২০২৪ সালে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর দেশের বিভিন্ন স্থানে ছড়িয়ে থাকা হাইটেক পার্ক ও মেগা প্রকল্পগুলোর বাস্তব কার্যকারিতা পুনর্মূল্যায়নের বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করে। অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি সংক্রান্ত কার্যালয় এবং আইসিটি বিভাগের গভীর পর্যালোচনায় কোম্পানীগঞ্জের পার্কটির অকার্যকারিতা ও সার্বিক ব্যবস্থাপনার লেজেগোবরে অবস্থা পরিষ্কারভাবে উঠে আসে। পরিস্থিতি সামাল দিতে সে সময় অন্তর্বর্তী সরকার সিলেটের তৎকালীন জেলা প্রশাসন ও আইসিটি বিভাগের যৌথ উদ্যোগে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে বিশেষ সভা ও বৈঠকের আয়োজন করে। তারা অব্যবহৃত বিশাল জমিতে বিকল্প কোনো বাণিজ্য খাতে বিনিয়োগ আনা যায় কি না- তা নিয়ে নতুন নীতি প্রণয়নের চেষ্টা চালায়। একই সঙ্গে কোটি কোটি টাকার সরকারি পরিকাঠামো যেন একেবারে পরিত্যক্ত হয়ে ধ্বংস না হয়ে যায়, সে জন্য অন্তর্বর্তী সরকার পার্কটির প্রযুক্তিভিত্তিক মডেলকে পুনর্মূূল্যায়ন করে একে প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের অধীনে হস্তান্তরের সমন্বিত একটি রূপরেখা তৈরি করে। তাদের পরিকল্পনা ছিল, বিশাল ভবনগুলোকে আন্তর্জাতিক মানের কারিগরি ও ভোকেশনাল প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে রূপান্তর করা, যাতে সিলেটের বিদেশগামী বিপুল জনগোষ্ঠীকে দক্ষ মানবসম্পদে পরিণত করা যায়। তবে অন্তর্বর্তী সরকারের সংক্ষিপ্ত মেয়াদের কারণে এই রূপান্তর প্রস্তাবটি চূড়ান্ত প্রশাসনিক বাস্তবায়নের মুখ দেখতে পারেনি। রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তন এবং পরবর্তীতে নির্বাচিত বিএনপি সরকার ক্ষমতায় আসার পর সিলেটের এই মেগা প্রকল্পের ভাগ্য নিয়ে নতুন ও জোরদার প্রশাসনিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। বিএনপি সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই রাষ্ট্রের শত শত কোটি টাকা ব্যয়ে নির্মিত এই বিশাল সরকারি পরিকাঠামোকে ফেলে না রেখে একে পুনরায় পুরোপুরি সচল, পুনর্বাসিত ও কার্যকর করার সুনির্দিষ্ট নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। সরকারের উচ্চপর্যায়ের নির্দেশনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরী নিজে কোম্পানীগঞ্জে সরেজমিনে উপস্থিত হয়ে পুরো সিলেট হাইটেক পার্ক এলাকা পরিদর্শন করেন। তিনি পার্কের সুউচ্চ ভবন, প্লট, সংযোগ সড়ক এবং ঝুলন্ত থাকা বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংযোগস্থলের বর্তমান ভৌত অবস্থা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ এবং পর্যালোচনার আওতায় আনেন। আরিফুল হক চৌধুরী দৈনিক রূপালী বাংলাদেশকে বলেন, বর্তমান বিএনপি সরকারের প্রধান লক্ষ্য হচ্ছে- অতীতের ব্যর্থতাগুলো দূর করে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্যাস ও নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুতের মতো জরুরি ইউটিলিটি সংযোগ স্থায়ীভাবে নিশ্চিত করা। সরকার এখন দ্বিমুখী কৌশল নিয়ে এগোচ্ছে; একদিকে পূর্বে স্থগিত ও থমকে যাওয়া আইটি আউটসোর্সিং প্রকল্পগুলোকে সুবিধাদি দিয়ে ফিরিয়ে আনা, অন্যদিকে সিলেটের বিশাল তরুণ জনগোষ্ঠীকে বৈশ্বিক শ্রমবাজারের উপযোগী করতে আধুনিক কারিগরি প্রশিক্ষণের অবকাঠামোকে এর সঙ্গে সমন্বিত করা। তিনি জানান, পার্কটিকে দ্রুত পুনর্গঠন ও সচল করতে এরই মধ্যে বাংলাদেশ হাইটেক পার্ক কর্তৃপক্ষের সমন্বয়ে বিশেষ সরকারি তদারকি ও বাস্তবায়ন কমিটি গঠন করা হয়েছে। সূত্র জানায়, কোম্পানীগঞ্জের চেলা নদীর তীরের এই বর্ণিল প্রান্তরটির সূচনা হয়েছিল আন্তর্জাতিক আইটি বিপ্লবের এক বুক ভরা আশাজাগানিয়া স্বপ্ন দিয়ে, যা মাঝপথে অদূরদর্শিতা আর অব্যবস্থাপনার কারণে চরম হতাশায় রূপ নিয়েছিল। সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর প্রাতিষ্ঠানিক পর্যালোচনা এবং বর্তমান বিএনপি সরকারের সরেজমিন উদ্যোগ, নতুন দিকনির্দেশনা ও বিশেষ তদারকি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে এটি আজ ফের নতুন করে সচল হওয়ার দোরগোড়ায় দাঁড়িয়ে। স্থানীরা আশা প্রকাশ করেন, অতীতের নীতিগত ভুল ও ইউটিলিটি সংকট থেকে শিক্ষা নিয়ে বর্তমান সরকার যদি দ্রুত গ্যাস-বিদ্যুতের স্থায়ী সংস্থান করে নতুন কর্মপরিকল্পনাগুলো মাঠে বাস্তবায়ন করতে পারে, তবে দীর্ঘদিনের স্বপ্নভঙ্গ ও হতাশার অন্ধকার পেছনে ফেলে সিলেট অঞ্চল এক নতুন অর্থনৈতিক ও বৈশ্বিক কর্মসংস্থানের নতুন সম্ভাবনা দেখতে পাবে।