7:37 am, Monday, 3 August 2026

দখল-দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে শতবর্ষী পুকুর

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:42:06 am, Sunday, 2 August 2026
  • 9
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর বাজারের কেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক শতবর্ষী পুকুরটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং চারপাশের অবৈধ দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রায় এক একর ৯৬ শতক আয়তনের এই বিশাল জলাশয়টি এখন কচুরিপানায় পরিপূর্ণ, চারপাশ আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে এবং দখলদারদের নানা স্থাপনায় পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে। ফলে পুকুরটি দ্রুত সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালালেও পুকুরটি পুনঃখনন, স্থায়ী সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জানা যায়, তৎকালে মধ্যনগর এলাকাটি জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জমিদারির অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৮৫-১৯২০ সালের মধ্যবর্তী সময় এ অঞ্চলে দেখা দেওয়া তীব্র খাবার পানির সংকট নিরসনে প্রজাসাধারণের জন্য এ পুকুরটি খনন করেন জমিদার। পুকুরের তোলা মাটি দিয়েই গড়ে ওঠে বর্তমান মধ্যনগর বাজারের বসতি। তৎকালীন সময়ে পুকুরটি পাহারার জন্য দুজন কর্মচারীও নিযুক্ত করা হয়েছিল। একসময় এ পুকুরের সুপেয় পানি স্থানীয়দের পানীয়, রান্নাবান্না, অজু ও গোসলের প্রধান ভরসা ছিল। তাছাড়া নদী শুকিয়ে গেলে বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের সময় এ পুকুরের পানি ব্যবহার করেই বাজার রক্ষা করা হতো। তবে সংস্কারের অভাবে গত তিন দশক ধরে পুকুরটির পানি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে রয়েছে। ইতিপূর্বে বাজার উন্নয়ন কমিটি দুই-তিনবার এটি আংশিক সংস্কার করলেও গত ৩০-৩৫ বছর ধরে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন পুকুরের কিছু অংশ থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করলেও সার্বিক অবস্থা অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। সহকারী অধ্যাপক গোলাম জিলানী বলেন, এ পুকুরটি মধ্যনগর বাজারের শতবর্ষী ঐতিহ্যের প্রতীক। অবহেলা ও দখলের কারণে এটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। দ্রুত পুকুরটি সংস্কার করে চারপাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে কিংবা শিশুদের জন্য মিনি পার্ক গড়ে তোলা সময়ের সামাজিক দাবিতে পরিণত হয়েছে। একই সুর মধ্যনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল বাসারের কণ্ঠেও। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে দেখে আসা ঐতিহ্যের এই পুকুরটি দ্রুত দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে বাজার তার সাবেক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরে পাবে। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও জনি রায় বলেন, শতবর্ষী এ পুকুর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং পুকুরটি সংস্কার ও খননের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

দখল-দূষণে হারিয়ে যাচ্ছে শতবর্ষী পুকুর

Update Time : 03:42:06 am, Sunday, 2 August 2026

সুনামগঞ্জের মধ্যনগর বাজারের কেন্দ্রে অবস্থিত ঐতিহাসিক শতবর্ষী পুকুরটি দীর্ঘদিনের অবহেলা, সঠিক রক্ষণাবেক্ষণের অভাব এবং চারপাশের অবৈধ দখলের কারণে অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। প্রায় এক একর ৯৬ শতক আয়তনের এই বিশাল জলাশয়টি এখন কচুরিপানায় পরিপূর্ণ, চারপাশ আবর্জনার স্তূপে পরিণত হয়েছে এবং দখলদারদের নানা স্থাপনায় পরিবেষ্টিত হয়ে পড়েছে। ফলে পুকুরটি দ্রুত সংকুচিত হওয়ার পাশাপাশি পার্শ্ববর্তী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানসহ স্থানীয় বাসিন্দাদের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা চরমভাবে ব্যাহত হচ্ছে। প্রশাসন মাঝেমধ্যে কিছু অবৈধ স্থাপনা উচ্ছেদে অভিযান চালালেও পুকুরটি পুনঃখনন, স্থায়ী সংস্কার ও সৌন্দর্যবর্ধনে দৃশ্যমান কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেয়নি বলে অভিযোগ স্থানীয়দের। জানা যায়, তৎকালে মধ্যনগর এলাকাটি জমিদার ব্রজেন্দ্র কিশোর রায় চৌধুরীর জমিদারির অন্তর্ভুক্ত ছিল। ১৮৮৫-১৯২০ সালের মধ্যবর্তী সময় এ অঞ্চলে দেখা দেওয়া তীব্র খাবার পানির সংকট নিরসনে প্রজাসাধারণের জন্য এ পুকুরটি খনন করেন জমিদার। পুকুরের তোলা মাটি দিয়েই গড়ে ওঠে বর্তমান মধ্যনগর বাজারের বসতি। তৎকালীন সময়ে পুকুরটি পাহারার জন্য দুজন কর্মচারীও নিযুক্ত করা হয়েছিল। একসময় এ পুকুরের সুপেয় পানি স্থানীয়দের পানীয়, রান্নাবান্না, অজু ও গোসলের প্রধান ভরসা ছিল। তাছাড়া নদী শুকিয়ে গেলে বাজারে ভয়াবহ অগ্নিকা-ের সময় এ পুকুরের পানি ব্যবহার করেই বাজার রক্ষা করা হতো। তবে সংস্কারের অভাবে গত তিন দশক ধরে পুকুরটির পানি সম্পূর্ণ ব্যবহার অনুপযোগী হয়ে পড়ে রয়েছে। ইতিপূর্বে বাজার উন্নয়ন কমিটি দুই-তিনবার এটি আংশিক সংস্কার করলেও গত ৩০-৩৫ বছর ধরে সরকারি বা বেসরকারি পর্যায়ে স্থায়ী কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি। সম্প্রতি উপজেলা প্রশাসন পুকুরের কিছু অংশ থেকে অবৈধ দখলদার উচ্ছেদ করলেও সার্বিক অবস্থা অপরিবর্তিতই রয়ে গেছে। সহকারী অধ্যাপক গোলাম জিলানী বলেন, এ পুকুরটি মধ্যনগর বাজারের শতবর্ষী ঐতিহ্যের প্রতীক। অবহেলা ও দখলের কারণে এটি আজ হারিয়ে যেতে বসেছে। দ্রুত পুকুরটি সংস্কার করে চারপাশে দৃষ্টিনন্দন ওয়াকওয়ে কিংবা শিশুদের জন্য মিনি পার্ক গড়ে তোলা সময়ের সামাজিক দাবিতে পরিণত হয়েছে। একই সুর মধ্যনগর বাজার বণিক সমিতির সভাপতি আবুল বাসারের কণ্ঠেও। তিনি জানান, ছোটবেলা থেকে দেখে আসা ঐতিহ্যের এই পুকুরটি দ্রুত দখলমুক্ত ও পুনঃখনন করা হলে বাজার তার সাবেক সৌন্দর্য ও পরিবেশগত ভারসাম্য ফিরে পাবে। ভারপ্রাপ্ত ইউএনও জনি রায় বলেন, শতবর্ষী এ পুকুর থেকে অবৈধ দখলদারদের উচ্ছেদ এবং পুকুরটি সংস্কার ও খননের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।