12:05 am, Friday, 31 July 2026

স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:51:02 pm, Thursday, 30 July 2026
  • 6
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নরসিংদীতে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আলী আহসান এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা পলাশ উপজেলার উত্তর মিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল থানার তালজাঙ্গা গ্রামের ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের সঙ্গে নূর আলম রূপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সুমির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন রূপা। একপর্যায়ে সুমি বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে স্বামীকে দেন। তবে কিছুদিন পর আবারও আরও টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। সুমির বাবার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। পরবর্তীতে স্বামী-সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সুমি বিদেশে পাড়ি জমান। প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থের প্রায় সবই তিনি স্বামীর কাছে পাঠাতেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পর মোটরসাইকেল কেনার জন্য আবারও সুমির কাছে টাকা দাবি করেন রূপা। এ সময় বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসাব চাইলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে নূর আলম রূপা সুমিকে এলোপাতাড়ি মারধর ও গলা টিপে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরদিন ১৯ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ২০ নভেম্বর নিহতের বাবা ফজলু মিয়া বাদী হয়ে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্ত নূর আলম রূপাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামীর যাবজ্জীবন কারাদণ্ড

Update Time : 09:51:02 pm, Thursday, 30 July 2026

নরসিংদীতে স্ত্রীকে গলা টিপে হত্যার দায়ে স্বামী নূর আলম রূপাকে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাকে এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) নরসিংদী নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মুহাম্মদ আলী আহসান এ রায় ঘোষণা করেন। সাজাপ্রাপ্ত নূর আলম রূপা পলাশ উপজেলার উত্তর মিয়াপাড়া গ্রামের আব্দুর রহিম মিয়ার ছেলে। আদালত সূত্রে জানা গেছে, কিশোরগঞ্জ জেলার তারাইল থানার তালজাঙ্গা গ্রামের ফজলু মিয়ার মেয়ে সুমি আক্তারের সঙ্গে নূর আলম রূপার বিয়ে হয়। বিয়ের পর থেকেই যৌতুকের দাবিতে সুমির ওপর চাপ সৃষ্টি করতে থাকেন রূপা। একপর্যায়ে সুমি বাবার বাড়ি থেকে দুই লাখ টাকা এনে স্বামীকে দেন। তবে কিছুদিন পর আবারও আরও টাকা আনার জন্য চাপ দেওয়া হয়। সুমির বাবার পরিবার আর্থিকভাবে অসচ্ছল হওয়ায় দ্বিতীয় দফায় টাকা দিতে অপারগতা প্রকাশ করলে তার ওপর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন শুরু হয়। পরবর্তীতে স্বামী-সন্তানের ভবিষ্যতের কথা বিবেচনা করে সুমি বিদেশে পাড়ি জমান। প্রবাসে থেকে উপার্জিত অর্থের প্রায় সবই তিনি স্বামীর কাছে পাঠাতেন। দীর্ঘদিন প্রবাসে থাকার পর ২০২৩ সালের সেপ্টেম্বর মাসে দেশে ফেরেন তিনি। দেশে ফেরার পর মোটরসাইকেল কেনার জন্য আবারও সুমির কাছে টাকা দাবি করেন রূপা। এ সময় বিদেশ থেকে পাঠানো টাকার হিসাব চাইলে স্বামী-স্ত্রীর মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০২৩ সালের ১৮ নভেম্বর রাতে নূর আলম রূপা সুমিকে এলোপাতাড়ি মারধর ও গলা টিপে হত্যা করেন। পরে মরদেহ ঘরের মেঝেতে ফেলে রেখে পালিয়ে যান। পরদিন ১৯ নভেম্বর সকাল ১১টার দিকে পলাশ থানা পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে সুমির মরদেহ উদ্ধার করে ময়নাতদন্তের জন্য নরসিংদী সদর হাসপাতালের মর্গে পাঠায়। এ ঘটনায় ২০ নভেম্বর নিহতের বাবা ফজলু মিয়া বাদী হয়ে পলাশ থানায় একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। মামলার তদন্ত শেষে আদালতে অভিযোগপত্র দাখিল করা হয়। দীর্ঘ বিচারিক প্রক্রিয়া, সাক্ষ্য-প্রমাণ ও শুনানি শেষে আদালত অভিযুক্ত নূর আলম রূপাকে দোষী সাব্যস্ত করে যাবজ্জীবন সশ্রম কারাদণ্ড, এক লাখ টাকা অর্থদণ্ড এবং অর্থদণ্ড অনাদায়ে আরও এক বছরের সশ্রম কারাদণ্ডের আদেশ দেন।