11:29 pm, Thursday, 30 July 2026

স্টেশনে ট্রেন রেখে উধাও লোকোমাস্টার, ভোগান্তিতে শতাধিক যাত্রী

  • MIT ERP
  • Update Time : 10:16:08 pm, Thursday, 30 July 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (আপ) ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক) হঠাৎ ইঞ্জিন রেখে চলে যাওয়ায় প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট ট্রেনটি স্টেশনে আটকে থাকে। এ সময় শতাধিক যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন এবং ক্ষোভে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে লোকোমাস্টার ফিরে এসে ট্রেন চালু করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (১৬১ আপ) সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী দুই মিনিট যাত্রাবিরতির পর ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া হলেও ট্রেনটি আর ছেড়ে যায়নি। পরে দেখা যায়, ইঞ্জিন বন্ধ এবং লোকোমাস্টার সেখানে নেই। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেকেই স্টেশনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারীরা সাময়িকভাবে আড়ালে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। খুলনা থেকে ট্রেনে ওঠা যাত্রী বাপ্পি নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহীতে আমার বিএসসি পরীক্ষা। আজ নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে লোকোমাস্টার মাহবুবুর রহমান স্টেশনে ফিরে আসেন। তবে সাংবাদিকরা তার কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ইঞ্জিন চালু করেন এবং ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে দেন। ট্রেনটির গার্ড শফিকুল ইসলাম জানান, খুলনা থেকে ট্রেন নিয়ে নির্ধারিত সময়েই মোবারকগঞ্জে পৌঁছাই। স্টেশন থেকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার পরও ট্রেন না ছাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, লোকোমাস্টার ইঞ্জিনে নেই। তিনি কেন চলে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী বলেন, সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে স্টেশনে আসে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া হলেও লোকোমাস্টারকে ইঞ্জিনে পাওয়া যায়নি। ইঞ্জিনের দরজা বন্ধ ছিল এবং ইঞ্জিনও বন্ধ অবস্থায় ছিল। এরপর তাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর তিনি ফিরে এলে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। লোকোমাস্টারের অনুপস্থিতির কারণ এবং এ ঘটনায় কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

নতুন দায়িত্ব পেলেন ৩ মন্ত্রী

স্টেশনে ট্রেন রেখে উধাও লোকোমাস্টার, ভোগান্তিতে শতাধিক যাত্রী

Update Time : 10:16:08 pm, Thursday, 30 July 2026

ঝিনাইদহের মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনে খুলনা থেকে রাজশাহীগামী সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (আপ) ট্রেনের লোকোমাস্টার (চালক) হঠাৎ ইঞ্জিন রেখে চলে যাওয়ায় প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট ট্রেনটি স্টেশনে আটকে থাকে। এ সময় শতাধিক যাত্রী চরম দুর্ভোগে পড়েন এবং ক্ষোভে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরে লোকোমাস্টার ফিরে এসে ট্রেন চালু করলে পরিস্থিতি স্বাভাবিক হয়। বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সন্ধ্যায় এ ঘটনা ঘটে। রেলওয়ে সূত্র জানায়, সাগরদাঁড়ি এক্সপ্রেস (১৬১ আপ) সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে মোবারকগঞ্জ স্টেশনে পৌঁছায়। নিয়ম অনুযায়ী দুই মিনিট যাত্রাবিরতির পর ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া হলেও ট্রেনটি আর ছেড়ে যায়নি। পরে দেখা যায়, ইঞ্জিন বন্ধ এবং লোকোমাস্টার সেখানে নেই। এ ঘটনায় যাত্রীদের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দেয়। অনেকেই স্টেশনে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে নিরাপত্তার স্বার্থে স্টেশন মাস্টার ও অন্যান্য কর্মচারীরা সাময়িকভাবে আড়ালে চলে যান বলে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান। খুলনা থেকে ট্রেনে ওঠা যাত্রী বাপ্পি নামে এক শিক্ষার্থী বলেন, আগামীকাল শুক্রবার রাজশাহীতে আমার বিএসসি পরীক্ষা। আজ নির্ধারিত সময়ে পৌঁছাতে না পারলে পরীক্ষায় অংশ নেওয়া নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়ে গেছি। প্রায় ১ ঘণ্টা ১০ মিনিট পর, সন্ধ্যা ৭টা ১৫ মিনিটের দিকে লোকোমাস্টার মাহবুবুর রহমান স্টেশনে ফিরে আসেন। তবে সাংবাদিকরা তার কাছে অনুপস্থিতির কারণ জানতে চাইলে তিনি কোনো মন্তব্য না করে ইঞ্জিন চালু করেন এবং ট্রেনটি গন্তব্যের উদ্দেশে ছেড়ে দেন। ট্রেনটির গার্ড শফিকুল ইসলাম জানান, খুলনা থেকে ট্রেন নিয়ে নির্ধারিত সময়েই মোবারকগঞ্জে পৌঁছাই। স্টেশন থেকে ক্লিয়ারেন্স দেওয়ার পরও ট্রেন না ছাড়ায় খোঁজ নিয়ে জানতে পারি, লোকোমাস্টার ইঞ্জিনে নেই। তিনি কেন চলে গিয়েছিলেন, সে বিষয়ে আমি কিছু জানি না। মোবারকগঞ্জ রেলস্টেশনের স্টেশন মাস্টার শাহজাহান আলী বলেন, সাগরদাঁড়ি ১৬১ আপ ট্রেনটি সন্ধ্যা ৬টা ৭ মিনিটে স্টেশনে আসে। নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ট্রেন ছাড়ার সংকেত দেওয়া হলেও লোকোমাস্টারকে ইঞ্জিনে পাওয়া যায়নি। ইঞ্জিনের দরজা বন্ধ ছিল এবং ইঞ্জিনও বন্ধ অবস্থায় ছিল। এরপর তাকে খোঁজাখুঁজি করা হয়। এক ঘণ্টারও বেশি সময় পর তিনি ফিরে এলে ট্রেনটি পুনরায় যাত্রা শুরু করে। লোকোমাস্টারের অনুপস্থিতির কারণ এবং এ ঘটনায় কোনো প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট রেল কর্তৃপক্ষের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।