11:58 am, Thursday, 30 July 2026

লতিফ সিদ্দিকীর যত বিতর্কিত মন্তব্য

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:20:46 am, Thursday, 30 July 2026
  • 4
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছিলেন সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। হজ নিয়ে বিতর্কিত এক মন্তব্যের জেরে ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব যায় তার। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি। ওই বছর গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদেরও অবসান ঘটে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক মতবিনিময় সভায় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তিনি হজ ও তাবলিগ জামাতের বিরোধী। হজে বিপুল জনশক্তি ও অর্থের অপচয় হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এ বক্তব্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পবিত্র হজ প্রসঙ্গে সে সময়কার আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী।’ তিনি বলেন, ‘এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’ লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘এভারেজে (গড়ে) যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায়; প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়।’ তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘তাবলিগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কোনো একজন আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কাছে ইন্টারনেটের গতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। ওই প্রশ্নে জবাবে লতিফ সিদ্দিকী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘জয় ভাই কে?’ ওই সময় মঞ্চে থাকা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়।’ লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘সে করার কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। এখানে জয়ের কিছু করার নেই। সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কার্যকর করেন মন্ত্রী।’ তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন?’ টেলিভিশনের টক শো প্রসঙ্গে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘ওদের আমি বলি “টক মারানি”।’ তিনি বলেন, ‘যারা টক শোতে যায় তারা টক ম্যান। নিজেদের কোনো কাজ না থাকায় ক্যামেরার সামনে গিয়ে তারা বিড়বিড় করে। টকমারানিদের আর কোনো কাজ নেই।’ ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বারবার উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন লতিফ সিদ্দিকী। এক সাংবাদিককে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কি তোমার মতো কথা বলব? আমি আমার মতো কথা বলব। তুমি এখানে আসলা কেন, তোমাকে কে বলেছে আসতে?’ প্রবাসীদের উদ্দেশে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে। রাজনীতি করার দরকার কী?’ মঞ্চে বসা টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. নুরুন্নবীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একবার তার (নুরুন্নবী) কাছে চাঁদা চেয়েছিলাম। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এক লাখের কম কারও কাছ থেকে চাঁদা নেয় না।’ ২০১৪ সালের ওই হজ-সংক্রান্ত মন্তব্যের পর লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে দেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

লতিফ সিদ্দিকীর যত বিতর্কিত মন্তব্য

Update Time : 09:20:46 am, Thursday, 30 July 2026

একাধিক বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনায় এসেছিলেন সাবেক মন্ত্রী লতিফ সিদ্দিকী। হজ নিয়ে বিতর্কিত এক মন্তব্যের জেরে ২০১৪ সালে মন্ত্রিত্ব যায় তার। ২০২৪ সালের বিতর্কিত নির্বাচনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে সংসদ সদস্য হন তিনি। ওই বছর গণঅভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকার পতনের পর সংসদ বিলুপ্ত হলে তার সংসদ সদস্য পদেরও অবসান ঘটে। ২০১৪ সালে যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে এক মতবিনিময় সভায় লতিফ সিদ্দিকী বলেন, তিনি হজ ও তাবলিগ জামাতের বিরোধী। হজে বিপুল জনশক্তি ও অর্থের অপচয় হয় বলেও মন্তব্য করেন তিনি। তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য যোগাযোগপ্রযুক্তিমন্ত্রী আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর এ বক্তব্য প্রকাশের পর দেশজুড়ে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। পবিত্র হজ প্রসঙ্গে সে সময়কার আওয়ামী লীগের সভাপতিমণ্ডলীর এই সদস্য বলেন, ‘আমি কিন্তু হজ আর তাবলিগ জামাতের ঘোরতর বিরোধী। আমি জামায়াতে ইসলামীরও বিরোধী। তবে তার চেয়েও হজ ও তাবলিগ জামাতের বেশি বিরোধী।’ তিনি বলেন, ‘এ হজে যে কত ম্যানপাওয়ার (জনশক্তি) নষ্ট হয়। হজের জন্য ২০ লাখ লোক আজ সৌদি আরবে গিয়েছে। এদের কোনো কাম নাই। এদের কোনো প্রডাকশন নাই। শুধু রিডাকশন দিচ্ছে। শুধু খাচ্ছে আর দেশের টাকা দিয়ে আসছে।’ লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘এভারেজে (গড়ে) যদি বাংলাদেশ থেকে এক লাখ লোক হজে যায়; প্রত্যেকের পাঁচ লাখ টাকা করে ৫০০ কোটি টাকা খরচ হয়।’ তাবলিগ জামাতের সমালোচনা করে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘তাবলিগ জামাত প্রতিবছর ২০ লাখ লোকের জমায়েত করে। নিজেদের তো কোনো কাজ নেই। সারা দেশের গাড়িঘোড়া তারা বন্ধ করে দেয়।’ মতবিনিময় অনুষ্ঠানে কোনো একজন আবদুল লতিফ সিদ্দিকীর কাছে ইন্টারনেটের গতি নিয়ে প্রশ্ন করেন। ওই প্রশ্নে জবাবে লতিফ সিদ্দিকী ক্ষুব্ধ হয়ে বলেন, ‘জয় ভাই কে?’ ওই সময় মঞ্চে থাকা যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের সভাপতি সিদ্দিকুর রহমান বলেন, ‘সজীব ওয়াজেদ জয়।’ লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘সে করার কে? জয় বাংলাদেশ সরকারের কেউ নয়। এখানে জয়ের কিছু করার নেই। সরকার সিদ্ধান্ত গ্রহণ করে। কার্যকর করেন মন্ত্রী।’ তিনি বলেন, ‘কথায় কথায় আপনারা জয়কে টানেন কেন?’ টেলিভিশনের টক শো প্রসঙ্গে লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘ওদের আমি বলি “টক মারানি”।’ তিনি বলেন, ‘যারা টক শোতে যায় তারা টক ম্যান। নিজেদের কোনো কাজ না থাকায় ক্যামেরার সামনে গিয়ে তারা বিড়বিড় করে। টকমারানিদের আর কোনো কাজ নেই।’ ওই অনুষ্ঠানে বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দিতে গিয়ে বারবার উত্তেজিত হয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণ করেন লতিফ সিদ্দিকী। এক সাংবাদিককে ধমক দিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি কি তোমার মতো কথা বলব? আমি আমার মতো কথা বলব। তুমি এখানে আসলা কেন, তোমাকে কে বলেছে আসতে?’ প্রবাসীদের উদ্দেশে আবদুল লতিফ সিদ্দিকী বলেন, ‘বিদেশে এসেছেন কামলা দিতে। রাজনীতি করার দরকার কী?’ মঞ্চে বসা টাঙ্গাইলের মুক্তিযোদ্ধা ও যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী ড. নুরুন্নবীকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের জন্য একবার তার (নুরুন্নবী) কাছে চাঁদা চেয়েছিলাম। তিনি ৫০ হাজার টাকা দিয়েছিলেন। আবদুল লতিফ সিদ্দিকী এক লাখের কম কারও কাছ থেকে চাঁদা নেয় না।’ ২০১৪ সালের ওই হজ-সংক্রান্ত মন্তব্যের পর লতিফ সিদ্দিকীকে মন্ত্রিসভা থেকে অপসারণ করা হয়। পরে আওয়ামী লীগ থেকেও বহিষ্কার করা হয় এবং পরবর্তীতে তিনি সংসদ সদস্যপদ ছেড়ে দেন।