8:07 am, Friday, 31 July 2026

জলাবদ্ধতায় ক্ষতি সবজি ও আমনের বীজতলার

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:45:14 am, Thursday, 30 July 2026
  • 3
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নি¤œাঞ্চলে ১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমির সবজি এবং আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে হাজারো কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ইতোমধ্যে নতুন করে বীজতলা তৈরিতে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। তবে অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি আমন চাষ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক বৃষ্টিতে উপজেলার ১৭০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা এবং ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমির সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আসন্ন আমন মৌসুমে চারা সংকট এবং বাজারে সবজির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, গত ১০ দিনে উপজেলায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা বর্ষণের পাশাপাশি মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খাল-বিল ও জলাশয় উপচে নি¤œাঞ্চলের ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে সবজি খেত ও আমনের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র জানান, মাদ্রাজ, আসলামপুর, কুকরি-মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, মাঝের চর, চর মানিকা, চর কচ্ছপিয়া, নীলকমল, চর মুজিবনগর, চর যমুনা, ঘোষেরহাট, বাংলাবাজার, চর লিউলিন, নজরুলনগর, চর নলুয়া, বাবুরহাট, ভক্তিরহাটসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় সবজি ও আমনের বীজতলার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে নতুন করে ভারি বৃষ্টি না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। আসলামপুর ইউনিয়নের খোদেজাবাগ গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম মৃধা বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সবজি খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে ধান চাষ সীমিত হলেও সবজি চাষই কৃষকদের প্রধান ভরসা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। নীলকমল বাংলাবাজার এলাকার কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘তেঁতুলিয়া নদীর পানি খাল দিয়ে জমিতে ঢুকে সবজি ও আমনের বীজতলা পচে গেছে। বৃষ্টি থামার পর আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করছি। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।’ কৃষকদের ভাষ্য, সাধারণত জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত আমনের বীজতলা তৈরি করা হয় এবং শ্রাবণের শুরু থেকে ভাদ্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত চারা রোপণ করা হয়। এবারও সময়মতো বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে বীজ কিনে বীজতলা তৈরি করতে হচ্ছে। এতে আমন চাষ অন্তত ২০ দিন পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চরফকিরা এলাকার কৃষক সিরাজ পাটওয়ারী জানান, আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হতেই নতুন জমি প্রস্তুত করে আবার বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেছেন তারা। কৃষক মো. রফিক ও মো. হারুন বলেন, ‘ঘন ঘন বৃষ্টিতে সব বীজতলা ডুবে গেছে। নতুন করে বেশি দামে বীজ কিনতে হয়েছে। চাষাবাদ বিলম্বিত হওয়ায় উৎপাদনও কম হতে পারে।’ উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সানাউল্লাহ আযম বলেন, বর্ষাকালে সবজির জমির আইল বা মাদা অন্তত এক ফুট উঁচু করে তৈরি করলে জলাবদ্ধতার ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ ছাড়া বন্যা-পরবর্তী দ্রুত পানি অপসারণ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কৃষি বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। যাদের বীজতলা নষ্ট হয়েছে, তাদের নতুন করে বীজতলা তৈরিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

জলাবদ্ধতায় ক্ষতি সবজি ও আমনের বীজতলার

Update Time : 05:45:14 am, Thursday, 30 July 2026

টানা বর্ষণ ও জলাবদ্ধতায় ভোলার চরফ্যাশন উপজেলার বিভিন্ন চরাঞ্চল ও নি¤œাঞ্চলে ১ হাজার ৩৮০ হেক্টর জমির সবজি এবং আমনের বীজতলা নষ্ট হয়েছে। এতে হাজারো কৃষক ক্ষতির মুখে পড়েছেন। ইতোমধ্যে নতুন করে বীজতলা তৈরিতে মাঠে নেমেছেন কৃষকরা। তবে অতিরিক্ত ব্যয়ের পাশাপাশি আমন চাষ বিলম্বিত হওয়ার আশঙ্কা করছেন তারা। চরফ্যাশন উপজেলা কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, ধারাবাহিক বৃষ্টিতে উপজেলার ১৭০ হেক্টর জমির আমনের বীজতলা এবং ১ হাজার ২১০ হেক্টর জমির সবজিক্ষেত পানিতে তলিয়ে গেছে। এতে আসন্ন আমন মৌসুমে চারা সংকট এবং বাজারে সবজির দাম বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। কৃষি বিভাগ জানায়, গত ১০ দিনে উপজেলায় ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে, যা সাম্প্রতিক কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ। টানা বর্ষণের পাশাপাশি মেঘনা, তেঁতুলিয়া ও বুড়াগৌরাঙ্গ নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় খাল-বিল ও জলাশয় উপচে নি¤œাঞ্চলের ফসলি জমিতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। এতে সবজি খেত ও আমনের বীজতলা ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তা বিকাশ চন্দ্র জানান, মাদ্রাজ, আসলামপুর, কুকরি-মুকরি, চর পাতিলা, চর নিজাম, মাঝের চর, চর মানিকা, চর কচ্ছপিয়া, নীলকমল, চর মুজিবনগর, চর যমুনা, ঘোষেরহাট, বাংলাবাজার, চর লিউলিন, নজরুলনগর, চর নলুয়া, বাবুরহাট, ভক্তিরহাটসহ উপকূলীয় বিভিন্ন এলাকায় জলাবদ্ধতায় সবজি ও আমনের বীজতলার বড় ধরনের ক্ষতি হয়েছে। তবে নতুন করে ভারি বৃষ্টি না হলে এবং আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে কিছুটা ক্ষতি পুষিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে। আসলামপুর ইউনিয়নের খোদেজাবাগ গ্রামের কৃষক আবুল কাশেম মৃধা বলেন, বৃষ্টি ও জোয়ারের পানিতে সবজি খামারের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। চরাঞ্চলে লবণাক্ততার কারণে ধান চাষ সীমিত হলেও সবজি চাষই কৃষকদের প্রধান ভরসা। ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের জন্য সরকারি প্রণোদনা ও আর্থিক সহায়তা প্রয়োজন। নীলকমল বাংলাবাজার এলাকার কৃষক খলিলুর রহমান বলেন, ‘তেঁতুলিয়া নদীর পানি খাল দিয়ে জমিতে ঢুকে সবজি ও আমনের বীজতলা পচে গেছে। বৃষ্টি থামার পর আবার নতুন করে বীজতলা তৈরি করছি। এতে উৎপাদন খরচ অনেক বেড়ে গেছে।’ কৃষকদের ভাষ্য, সাধারণত জ্যৈষ্ঠের মাঝামাঝি থেকে আষাঢ়ের শেষ সপ্তাহ পর্যন্ত আমনের বীজতলা তৈরি করা হয় এবং শ্রাবণের শুরু থেকে ভাদ্রের মাঝামাঝি পর্যন্ত চারা রোপণ করা হয়। এবারও সময়মতো বীজতলা তৈরি করা হয়েছিল। কিন্তু টানা বৃষ্টিতে অধিকাংশ বীজতলা পানির নিচে তলিয়ে যাওয়ায় নতুন করে বীজ কিনে বীজতলা তৈরি করতে হচ্ছে। এতে আমন চাষ অন্তত ২০ দিন পিছিয়ে যেতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা। হাজারীগঞ্জ ইউনিয়নের চরফকিরা এলাকার কৃষক সিরাজ পাটওয়ারী জানান, আবহাওয়া কিছুটা স্বাভাবিক হতেই নতুন জমি প্রস্তুত করে আবার বীজতলা তৈরির কাজ শুরু করেছেন তারা। কৃষক মো. রফিক ও মো. হারুন বলেন, ‘ঘন ঘন বৃষ্টিতে সব বীজতলা ডুবে গেছে। নতুন করে বেশি দামে বীজ কিনতে হয়েছে। চাষাবাদ বিলম্বিত হওয়ায় উৎপাদনও কম হতে পারে।’ উদ্ভিদ সংরক্ষণ কর্মকর্তা সানাউল্লাহ আযম বলেন, বর্ষাকালে সবজির জমির আইল বা মাদা অন্তত এক ফুট উঁচু করে তৈরি করলে জলাবদ্ধতার ক্ষতি অনেকাংশে কমানো সম্ভব। এ ছাড়া বন্যা-পরবর্তী দ্রুত পানি অপসারণ ও প্রয়োজনীয় প্রযুক্তিগত পরামর্শ কৃষকদের দেওয়া হচ্ছে। উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ নাজমুল হুদা বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের সঙ্গে কৃষি বিভাগের নিয়মিত যোগাযোগ রয়েছে। যাদের বীজতলা নষ্ট হয়েছে, তাদের নতুন করে বীজতলা তৈরিতে প্রয়োজনীয় পরামর্শ ও সহায়তা দিতে উপসহকারী কৃষি কর্মকর্তাদের মাঠে কাজ করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’