3:32 am, Thursday, 30 July 2026

সিন্ডিকেটের দখলে সারের বাজার

  • MIT ERP
  • Update Time : 02:06:51 am, Thursday, 30 July 2026
  • 2
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। সরকারি হিসাবে ১৬ লাখ ১৯ হাজার টন সার মজুত থাকলেও কৃষক ন্যায্য দামে সার পাচ্ছেন না। কৃষকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে কাক্সিক্ষত সার। আমনসহ আগাম শীতকালীন সবজি রোপণের শুরুতেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। কৃষকদের দাবি, সংকট সারের নয়, সংকট বাজার নিয়ন্ত্রণের। যদিও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সার সংকটের যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৬ লাখ ১৯ হাজার টন সার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ৬ লাখ ২০ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৫২ হাজার টন, ডিএপি ৪ লাখ ৫১ হাজার টন এবং এমওপি ২ লাখ ২৫ হাজার টন। বাংলাদেশে বছরে মোট রাসায়নিক সারের চাহিদা প্রায় ৬৬ থেকে ৭০ লাখ টন। এর মধ্যে ইউরিয়ার চাহিদা ২৬-২৭ লাখ টন, ডিএপি প্রায় ১৫ লাখ টন, টিএসপি ৭ দশমিক ৫ থেকে ৮ লাখ টন এবং এমওপি প্রায় ১০ লাখ টন। দেশের চলমান সময়টা বিশেষ করে খরিফ-২ বা বর্ষাকালে আমন ধান রোপণ করা হয়। এই আমন মৌসুমে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৭৩ লাখ টন আমন ধান বা চাল উৎপাদিত হয়। তবে সারের দাম বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সংকটে হুমকির মুখে পড়ছে উৎপাদন। অন্যদিকে আগাম শীতকালীন বা রবি ফসলের বীজ বপন ও চারা তৈরির কাজ শুরু হলেও কৃষকদের ভেতর দেখা যাচ্ছে শঙ্কা। এদিকে রবিশস্যের বীজ বপনের সময় ১৬ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর। এ সময় মূলত টিএসপি, ডিএপি ও এমওপিসহ অ-ইউরিয়া সারের ব্যবহার বেশি হয়। পরে চারা বড় হলে ইউরিয়া প্রয়োগ করা হয়। ফলে এই সময় বাজারে অ-ইউরিয়া সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই মৌসুমেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা গুদামে সার রেখেও সংকটের কথা বলছেন। তবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিলে একই ডিলারের কাছ থেকেই প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, পাশাপাশি সময়মতো সার না পাওয়ায় আবাদও ঝুঁকিতে পড়ছে। সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য অনুযায়ী ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপির দাম ১ হাজার ১০০ টাকা, এমওপির ৭৫০ টাকা এবং ডিএপির ৮০০ টাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও টিএসপি ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ডিলাররা ইউনিয়নে সার বিক্রি না করে পৌর শহরে দোকান বসিয়েছেন। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় করে শহরে গিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। আবার সেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দাম দিতে হচ্ছে। রাজশাহীতেও ইউরিয়া, টিএসপি ও পটাশসহ বিভিন্ন ধরনের সারের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার কৃষকদের অভিযোগ, বেশি দাম নেওয়া হলেও ডিলাররা কোনো ভাউচার বা রসিদ দিচ্ছেন না। এতে প্রমাণসহ অভিযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও কুড়িগ্রামের রৌমারীতেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আলতাব মৃধা নামের এক কৃষক বলেন, ‘তিন দিন ধরে বিভিন্ন ডিলারের দোকানে ঘুরেও সরকার নির্ধারিত দামে সার পাননি। বেশি দাম দিতে রাজি না হলে সার দেওয়া হচ্ছে না।’ অন্যদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন সাব-ডিলার দাবি করেন, তারা নিজেরাও নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন না। ডেলিভারি অর্ডারের (ডিও) মাধ্যমে বরাদ্দ না পেয়ে অন্য উৎস থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেই অতিরিক্ত ব্যয়ই কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ শাখা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক এবং মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বাজার তদারকি জোরদার করতে। এদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, অনেক ডিলার ডেলিভারি অর্ডার মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। পরে সেই সার অন্য এলাকায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ডিলাররা সার উত্তোলন না করেই অর্থের বিনিময়ে ডেলিভারি অর্ডার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের বাজার পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ বিষয়ে বলেন, ‘দেশে সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত আছে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বা সরকার নির্ধারিত দামের বেশি নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের সিন্ডিকেটকে ছাড় দেওয়া হবে না’। এদিকে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কারখানাগুলো বছরে প্রায় ১১ লাখ টন সার উৎপাদন করে। তবে গ্যাস সংকট ও পুরোনো কারখানার কারণে উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে। পলাশ ও ঘোড়াশালের দুটি ইউরিয়া কারখানা আধুনিকীকরণের কাজ শেষ হলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। কৃষি গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে সারের মূল্য নির্ধারণ, আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তাই পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও যদি কৃষক নির্ধারিত দামে সার না পান, তবে তা শুধু বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নয়, বরং সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সক্রিয়তারও ইঙ্গিত। সময়মতো কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা না নিলে এর প্রভাব আসন্ন বোরো ও রবিশস্য উৎপাদনের ওপর পড়বে, যার শেষ পর্যন্ত মূল্য দিতে হবে কৃষক ও ভোক্তাকে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

সিন্ডিকেটের দখলে সারের বাজার

Update Time : 02:06:51 am, Thursday, 30 July 2026

সিন্ডিকেটের কারসাজিতে সারের বাজারে কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। সরকারি হিসাবে ১৬ লাখ ১৯ হাজার টন সার মজুত থাকলেও কৃষক ন্যায্য দামে সার পাচ্ছেন না। কৃষকদের অভিযোগ, অতিরিক্ত টাকা দিলেই মিলছে কাক্সিক্ষত সার। আমনসহ আগাম শীতকালীন সবজি রোপণের শুরুতেই কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে দাম বাড়ানোর পাঁয়তারা চলছে। কৃষকদের দাবি, সংকট সারের নয়, সংকট বাজার নিয়ন্ত্রণের। যদিও কৃষিমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ বলেছেন, সার সংকটের যে গুজব ছড়ানো হচ্ছে, তা সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, বর্তমানে সরকারি গুদামে ১৬ লাখ ১৯ হাজার টন সার মজুত রয়েছে। এর মধ্যে ইউরিয়া ৬ লাখ ২০ হাজার টন, টিএসপি ৩ লাখ ৫২ হাজার টন, ডিএপি ৪ লাখ ৫১ হাজার টন এবং এমওপি ২ লাখ ২৫ হাজার টন। বাংলাদেশে বছরে মোট রাসায়নিক সারের চাহিদা প্রায় ৬৬ থেকে ৭০ লাখ টন। এর মধ্যে ইউরিয়ার চাহিদা ২৬-২৭ লাখ টন, ডিএপি প্রায় ১৫ লাখ টন, টিএসপি ৭ দশমিক ৫ থেকে ৮ লাখ টন এবং এমওপি প্রায় ১০ লাখ টন। দেশের চলমান সময়টা বিশেষ করে খরিফ-২ বা বর্ষাকালে আমন ধান রোপণ করা হয়। এই আমন মৌসুমে প্রায় ১ কোটি ৬৫ লাখ থেকে ১ কোটি ৭৩ লাখ টন আমন ধান বা চাল উৎপাদিত হয়। তবে সারের দাম বৃদ্ধি এবং কৃত্রিম সংকটে হুমকির মুখে পড়ছে উৎপাদন। অন্যদিকে আগাম শীতকালীন বা রবি ফসলের বীজ বপন ও চারা তৈরির কাজ শুরু হলেও কৃষকদের ভেতর দেখা যাচ্ছে শঙ্কা। এদিকে রবিশস্যের বীজ বপনের সময় ১৬ অক্টোবর থেকে ৩০ নভেম্বর। এ সময় মূলত টিএসপি, ডিএপি ও এমওপিসহ অ-ইউরিয়া সারের ব্যবহার বেশি হয়। পরে চারা বড় হলে ইউরিয়া প্রয়োগ করা হয়। ফলে এই সময় বাজারে অ-ইউরিয়া সারের চাহিদা সবচেয়ে বেশি থাকে। তাই এই মৌসুমেই দেশের বিভিন্ন এলাকায় কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে সার বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। বিশেষ করে রংপুর, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, রাজশাহী, ময়মনসিংহ, মানিকগঞ্জ ও লক্ষ্মীপুরসহ বিভিন্ন জেলার কৃষকদের অভিযোগ, ডিলাররা গুদামে সার রেখেও সংকটের কথা বলছেন। তবে সরকার নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি অর্থ দিলে একই ডিলারের কাছ থেকেই প্রয়োজনীয় সার পাওয়া যাচ্ছে। এতে কৃষকদের উৎপাদন ব্যয় বাড়ছে, পাশাপাশি সময়মতো সার না পাওয়ায় আবাদও ঝুঁকিতে পড়ছে। সরকার নির্ধারিত খুচরা মূল্য অনুযায়ী ৫০ কেজির এক বস্তা টিএসপির দাম ১ হাজার ১০০ টাকা, এমওপির ৭৫০ টাকা এবং ডিএপির ৮০০ টাকা। কিন্তু মাঠপর্যায়ে কৃষকদের অভিযোগ, বিভিন্ন এলাকায় প্রতি বস্তায় ১০০ থেকে ৪০০ টাকা পর্যন্ত বেশি গুনতে হচ্ছে। কোথাও কোথাও টিএসপি ১ হাজার ৪০০ টাকায় বিক্রির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। রংপুরের বদরগঞ্জ উপজেলার কৃষকদের অভিযোগ, ইউনিয়নভিত্তিক নিয়োগ পাওয়া ডিলাররা ইউনিয়নে সার বিক্রি না করে পৌর শহরে দোকান বসিয়েছেন। ফলে প্রত্যন্ত এলাকার কৃষকদের অতিরিক্ত পরিবহন ব্যয় করে শহরে গিয়ে সার কিনতে হচ্ছে। আবার সেখানে সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও বেশি দাম দিতে হচ্ছে। রাজশাহীতেও ইউরিয়া, টিএসপি ও পটাশসহ বিভিন্ন ধরনের সারের দাম বস্তাপ্রতি ৩০০ থেকে ৫০০ টাকা পর্যন্ত বেশি নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। ময়মনসিংহের মুক্তাগাছার কৃষকদের অভিযোগ, বেশি দাম নেওয়া হলেও ডিলাররা কোনো ভাউচার বা রসিদ দিচ্ছেন না। এতে প্রমাণসহ অভিযোগ করাও কঠিন হয়ে পড়ছে। লালমনিরহাটের পাটগ্রাম ও কুড়িগ্রামের রৌমারীতেও একই ধরনের অভিযোগ পাওয়া গেছে। মানিকগঞ্জের শিবালয়ের আলতাব মৃধা নামের এক কৃষক বলেন, ‘তিন দিন ধরে বিভিন্ন ডিলারের দোকানে ঘুরেও সরকার নির্ধারিত দামে সার পাননি। বেশি দাম দিতে রাজি না হলে সার দেওয়া হচ্ছে না।’ অন্যদিকে নাম না প্রকাশের শর্তে কয়েকজন সাব-ডিলার দাবি করেন, তারা নিজেরাও নির্ধারিত দামে সার পাচ্ছেন না। ডেলিভারি অর্ডারের (ডিও) মাধ্যমে বরাদ্দ না পেয়ে অন্য উৎস থেকে বেশি দামে কিনতে হচ্ছে। সেই অতিরিক্ত ব্যয়ই কৃষকদের কাছ থেকে আদায় করতে বাধ্য হচ্ছেন। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ শাখা ইতোমধ্যে জেলা প্রশাসক এবং মাঠপর্যায়ের কৃষি কর্মকর্তাদের কড়া নির্দেশ দিয়েছেন বাজার তদারকি জোরদার করতে। এদিকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, অনেক ডিলার ডেলিভারি অর্ডার মধ্যস্বত্বভোগীদের কাছে বিক্রি করে দিচ্ছেন। পরে সেই সার অন্য এলাকায় বেশি দামে বিক্রি হচ্ছে। কোথাও কোথাও ডিলাররা সার উত্তোলন না করেই অর্থের বিনিময়ে ডেলিভারি অর্ডার বিক্রির অভিযোগও রয়েছে। কৃষি মন্ত্রণালয়ের সার ব্যবস্থাপনা ও উপকরণ শাখার এক কর্মকর্তা বলেন, ‘যেসব এলাকা থেকে অভিযোগ পাওয়া গেছে, সেখানে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তাদের বাজার পরিদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে’। কৃষি ও মৎস্য ও প্রাণিসম্পদমন্ত্রী মোহাম্মদ আমিন উর রশিদ এ বিষয়ে বলেন, ‘দেশে সারের কোনো সংকট নেই। পর্যাপ্ত মজুত রয়েছে এবং কৃষকদের প্রয়োজন অনুযায়ী সরবরাহ অব্যাহত আছে। কেউ কৃত্রিম সংকট সৃষ্টি করে বা সরকার নির্ধারিত দামের বেশি নিলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। কোনো ধরনের সিন্ডিকেটকে ছাড় দেওয়া হবে না’। এদিকে বর্তমানে রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন কারখানাগুলো বছরে প্রায় ১১ লাখ টন সার উৎপাদন করে। তবে গ্যাস সংকট ও পুরোনো কারখানার কারণে উৎপাদন সক্ষমতা কমেছে। পলাশ ও ঘোড়াশালের দুটি ইউরিয়া কারখানা আধুনিকীকরণের কাজ শেষ হলে উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়বে বলে সংশ্লিষ্টরা আশা করছেন। কৃষি গবেষকরা বলছেন, বাংলাদেশে সারের মূল্য নির্ধারণ, আমদানি ও সরবরাহ ব্যবস্থার বড় অংশ সরকারের নিয়ন্ত্রণে। তাই পর্যাপ্ত মজুত থাকার পরও যদি কৃষক নির্ধারিত দামে সার না পান, তবে তা শুধু বাজার ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা নয়, বরং সিন্ডিকেট ও মধ্যস্বত্বভোগীদের সক্রিয়তারও ইঙ্গিত। সময়মতো কঠোর নজরদারি ও আইনি ব্যবস্থা না নিলে এর প্রভাব আসন্ন বোরো ও রবিশস্য উৎপাদনের ওপর পড়বে, যার শেষ পর্যন্ত মূল্য দিতে হবে কৃষক ও ভোক্তাকে।