7:44 am, Friday, 31 July 2026

বাঁচতে চায় ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত শিশু ইসমাঈল

  • MIT ERP
  • Update Time : 05:40:26 am, Thursday, 30 July 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের কালাপানি গ্রামের ছয় বছরের শিশু ইসমাঈল ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়েছে দিনমজুর বাবার পরিবার। শিশুটির চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার স্বজনরা। ইসমাঈলের বাবা শহিদুল ইসলাম একজন দিনমজুর। প্রতিদিন কাজ করলে সংসারে খাবার জোটে, আর কাজ না থাকলে অনিশ্চয়তায় কাটে দিন। প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে ইসমাঈল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার পর উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকেরা জানান, সে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত। এ খবরের পর থেকেই সন্তানের চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব ব্যয় করতে শুরু করেন বাবা-মা। পরিবারের সঞ্চয় শেষ হওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনের কাছ থেকে ধারদেনা করেও চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে ক্যানসারের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এখন তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ইসমাঈলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি ঘরের বিছানায় নীরবে শুয়ে আছে শিশুটি। একসময় যে শিশু খেলাধুলা ও হাসি-আনন্দে সময় কাটাত, অসুস্থতার কারণে এখন তার বেশির ভাগ সময় কাটে শয্যায়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আগের মতো কথা বলে না, খেলাধুলাও করতে পারে না। শারীরিক দুর্বলতার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরাতেও কষ্ট হয়। ইসমাঈলের বাবা-মা জানান, ছেলেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল, ইসমাঈল বড় হয়ে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হবে। কিন্তু মরণব্যাধি ক্যানসারের কারণে সেই স্বপ্ন আজ অনিশ্চয়তার মুখে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি একজন দিনমজুর মানুষ। প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। ছেলেকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন চিকিৎসার খরচই চালাতে পারছি না। আমি শুধু চাই, আমার ছেলে সুস্থ হয়ে আবার মাদ্রাসায় ফিরে যাক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাদের পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন ও দানশীল মানুষের প্রতি তারা সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার বলেন, পরিবারটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কী ধরনের সহায়তা দেওয়া সম্ভব, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদেরও অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। পরিবারটির আশা, সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা পেলে ছোট্ট ইসমাঈলের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে এবং সে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

বাঁচতে চায় ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত শিশু ইসমাঈল

Update Time : 05:40:26 am, Thursday, 30 July 2026

নেত্রকোনার সীমান্তবর্তী কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়নের কালাপানি গ্রামের ছয় বছরের শিশু ইসমাঈল ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে জীবন-মৃত্যুর সন্ধিক্ষণে রয়েছে। দীর্ঘমেয়াদি চিকিৎসার ব্যয় বহন করতে না পেরে দিশাহারা হয়ে পড়েছে দিনমজুর বাবার পরিবার। শিশুটির চিকিৎসার জন্য সমাজের বিত্তবান ও সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা কামনা করেছেন তার স্বজনরা। ইসমাঈলের বাবা শহিদুল ইসলাম একজন দিনমজুর। প্রতিদিন কাজ করলে সংসারে খাবার জোটে, আর কাজ না থাকলে অনিশ্চয়তায় কাটে দিন। প্রায় তিন মাস আগে অসুস্থ হয়ে পড়ে ইসমাঈল। স্থানীয়ভাবে চিকিৎসার পর উন্নত পরীক্ষা-নিরীক্ষায় চিকিৎসকেরা জানান, সে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত। এ খবরের পর থেকেই সন্তানের চিকিৎসার জন্য সর্বস্ব ব্যয় করতে শুরু করেন বাবা-মা। পরিবারের সঞ্চয় শেষ হওয়ার পাশাপাশি আত্মীয়-স্বজন ও পরিচিতজনের কাছ থেকে ধারদেনা করেও চিকিৎসা চালিয়ে যাচ্ছেন তারা। তবে ক্যানসারের ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া এখন তাদের পক্ষে প্রায় অসম্ভব হয়ে পড়েছে। সম্প্রতি ইসমাঈলের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায়, ছোট্ট একটি ঘরের বিছানায় নীরবে শুয়ে আছে শিশুটি। একসময় যে শিশু খেলাধুলা ও হাসি-আনন্দে সময় কাটাত, অসুস্থতার কারণে এখন তার বেশির ভাগ সময় কাটে শয্যায়। পরিবারের সদস্যদের ভাষ্য, আগের মতো কথা বলে না, খেলাধুলাও করতে পারে না। শারীরিক দুর্বলতার কারণে স্বাভাবিক চলাফেরাতেও কষ্ট হয়। ইসমাঈলের বাবা-মা জানান, ছেলেকে স্থানীয় একটি মাদ্রাসায় ভর্তি করেছিলেন। তাদের স্বপ্ন ছিল, ইসমাঈল বড় হয়ে পবিত্র কোরআনের হাফেজ হবে। কিন্তু মরণব্যাধি ক্যানসারের কারণে সেই স্বপ্ন আজ অনিশ্চয়তার মুখে। কান্নাজড়িত কণ্ঠে বাবা শহিদুল ইসলাম বলেন, আমি একজন দিনমজুর মানুষ। প্রতিদিন যা আয় করি, তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। ছেলেকে হাফেজ বানানোর স্বপ্ন ছিল। কিন্তু এখন চিকিৎসার খরচই চালাতে পারছি না। আমি শুধু চাই, আমার ছেলে সুস্থ হয়ে আবার মাদ্রাসায় ফিরে যাক। স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, পরিবারটি দীর্ঘদিন ধরেই আর্থিকভাবে অসচ্ছল। তাদের পক্ষে ব্যয়বহুল চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব নয়। তাই সমাজের বিত্তবান ব্যক্তি, প্রবাসী, জনপ্রতিনিধি, বিভিন্ন মানবিক সংগঠন ও দানশীল মানুষের প্রতি তারা সহযোগিতার আহ্বান জানিয়েছেন। এ বিষয়ে কলমাকান্দা উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মাসুল তালুকদার বলেন, পরিবারটি প্রয়োজনীয় কাগজপত্রসহ সমাজসেবা কার্যালয়ে আবেদন করলে সরকারি নীতিমালা অনুযায়ী কী ধরনের সহায়তা দেওয়া সম্ভব, তা যাচাই করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার চেষ্টা করা হবে। পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক ব্যক্তিদেরও অসহায় পরিবারটির পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাই। পরিবারটির আশা, সমাজের সহৃদয় মানুষের সহযোগিতা পেলে ছোট্ট ইসমাঈলের চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হবে এবং সে আবারও স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসতে পারবে।