7:08 am, Friday, 31 July 2026

আজ মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস

  • MIT ERP
  • Update Time : 04:21:01 am, Thursday, 30 July 2026
  • 5
Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস আজ। মানবপাচারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর ৩০ জুলাই বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। এ বছর প্রতারণার ফাঁদে আটকা প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০১৩ সাল থেকে বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস পালন শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ৩০ জুলাইকে মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ৫ মাসে ১১৩৫ জন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে পাচারের শিকার হয়েছেন। মানব পাচার অপরাধ দমন আইনে গত ৫ মাসে ৫০০ মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৪৫১ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাচারের শিকার ৮০৭ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বলছে, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অধিকাংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে। উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সমুদ্রপথে ইতালি, কানাডা, আমেরিকা, গ্রিস, লিবিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের পাচার করা হয়। পাচারের শিকার বেশির ভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, সাতক্ষীরাসহ বাংলাদেশের অন্তত ১০-১২টি জেলার লোকজন এভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জন্য মরিয়া। এসব ক্ষেত্রে এখন সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকের নানা গ্রুপ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতারিতরা বা নির্যাতনের শিকার লোকজন দেশে ফিরে মামলা করলেও মূল আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আইওএমের নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মানব পাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ রোধে দুই দশকের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। বিশেষ করে বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় উঠে আসে মানব পাচার প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু। বিশেষ করে সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানব পাচার রোধে যৌথ পদক্ষেপ এবং সীমান্তব্যবস্থার আধুনিকীকরণের বিষয়ে কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে মানব পাচার। পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। মূল হোたちの অধিকাংশই থাকেন দেশের বাইরে। দেশে থাকা দালালের মাধ্যমে পরিচালনা করেন কাজ। পাচার হওয়া ভুক্তভোগীরা অসচেতনতা কিংবা প্রমাণের অভাবে মামলা করলেও পাচ্ছেন না বিচার। আবার বিদেশে থাকায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনাও কঠিন। সূত্র জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে বাংলাদেশিরা শীর্ষে। এই রুটে প্রাণহানির ঘটনাও বেশি। লিবিয়ায় বন্দিশালায় নির্যাতন করে পরিবার থেকে টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো পাচারকারীদের ধরতে প্রযুক্তির ব্যবহারেও পিছিয়ে। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে ২০১২ সালে সরকার আইন করার পর থেকে মানবপাচার আইনে নিয়মিত মামলা হলেও অধিকাংশ মামলার বিচার শেষ হচ্ছে না। আবার যেগুলোর বিচার শেষ হচ্ছে সেখানে আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানব পাচার মামলা সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৬০টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে এক হাজার ৩৪৬টি মামলা এখনো তদন্তাধীন। বিচারাধীন তিন হাজার ১৪টি মামলা। এর আগে ২০২৩ সালে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মামলা হয়েছে ৬৮৩টি। এতে আসামি করা হয় ৩৩ হাজার ৫০৯ জনকে। ঢাকার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তফা কামাল খান বলেন, ‘মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল গঠন হয় ২০২০ সালে, সাক্ষ্য-প্রমাণসহ নানা জটিলতায় একটা মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ বছর। সে জন্য অগ্রগতি কম। বিশেষ করে মূল আসামিরা বিদেশ থাকে প্রায় কেসে। আমাদের ইন্টেলিজেন্স দুর্বল। প্রশাসনিক জটিলতায় এসব মূল হোতাদের ধরা সম্ভব হয় না। আর ভিক্টিমরাও যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেন না। অনেক সময় ভিক্টিমরা মামলা করে আবার অন্য দেশে চলে যান।’ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, দালালের শেষ নেই। আজ একজন কে ধরি তো কাল অন্যজন বের হয়। সিআইডি সারাদেশে দালালচক্রের তালিকাও করেছে। বিদেশে যেসব মানব পাচারকারী রয়েছে, তাদের তালিকাও করেছে। বিদেশে অবস্থানরত কিছু মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। যারা ভিক্টিম এরা অনেক সময় হাল ছেড়ে দেন, মামলা করতে চান না। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও মিয়ানমারে মানব পাচারের ঘটনা বেশি আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্যে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে প্রবেশের জন্য গন্তব্য ইতালি, মালয়েশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া হয়ে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া থেকে থাইল্যান্ড হয়ে মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার। ব্র্যাকের গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা থেকে দুবাই-মিসর, ইস্তাম্বুল-দুবাই, কাতার, অথবা সরাসরি লিবিয়া যাওয়ার পথে ৬৩ শতাংশ মানুষ বন্দি হন। বন্দিদের ৯৩ শতাংশকে ক্যাম্পে আটকে রাখা হয় এবং ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। ৫৪ শতাংশ তিন বেলা খাবার পান না এবং ২২ শতাংশ দিনে মাত্র একবেলা খাবার পান। লিবিয়ায় যেতে যারা চেষ্টা করেছেন, তাদের বেশির ভাগই মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বাসিন্দা। স্থানীয় দালালদের প্রলোভনে তারা বাড়ি বিক্রি করে রওনা দিয়েছেন, কিন্তু ৮৯ শতাংশ কোনো কাজ পাননি। বরং নানা ঝুঁকিতে পড়েছেন।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

আজ মানব পাচার প্রতিরোধ দিবস

Update Time : 04:21:01 am, Thursday, 30 July 2026

বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস আজ। মানবপাচারের বিরুদ্ধে জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে প্রতিবছর ৩০ জুলাই বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হয়। এ বছর প্রতারণার ফাঁদে আটকা প্রতিপাদ্য সামনে রেখে বিশ্বজুড়ে দিবসটি পালিত হচ্ছে। জাতিসংঘের উদ্যোগে ২০১৩ সাল থেকে বিশ্ব মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস পালন শুরু হয়। ২০১৩ সালের ১৮ ডিসেম্বর জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে ৩০ জুলাইকে মানবপাচার প্রতিরোধ দিবস ঘোষণা করে। পুলিশ সদর দপ্তরের তথ্য অনুযায়ী গত ৫ মাসে ১১৩৫ জন ব্যক্তি বিভিন্নভাবে পাচারের শিকার হয়েছেন। মানব পাচার অপরাধ দমন আইনে গত ৫ মাসে ৫০০ মামলা হয়েছে। এসব মামলায় ৪৫১ জন পাচারকারীকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। পাচারের শিকার ৮০৭ জনকে উদ্ধার করেছে পুলিশ। বেসরকারি সংস্থা ব্র্যাকের মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম বলছে, মানব পাচারের শিকার ব্যক্তিদের অধিকাংশ ইউরোপের বিভিন্ন দেশে পাচার হচ্ছে। উচ্চ বেতনে চাকরির প্রলোভন দেখিয়ে সমুদ্রপথে ইতালি, কানাডা, আমেরিকা, গ্রিস, লিবিয়া, ভিয়েতনামসহ বিভিন্ন দেশে সমুদ্রপথে অবৈধভাবে বাংলাদেশিদের পাচার করা হয়। পাচারের শিকার বেশির ভাগের বয়স ২৫ থেকে ৪০। মাদারীপুর, শরীয়তপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, সাতক্ষীরাসহ বাংলাদেশের অন্তত ১০-১২টি জেলার লোকজন এভাবে ইউরোপের বিভিন্ন দেশে যাওয়ার জন্য মরিয়া। এসব ক্ষেত্রে এখন সামাজিক যোগাযোগের নানা মাধ্যম বিশেষ করে ফেসবুকের নানা গ্রুপ ব্যবহার করা হচ্ছে। প্রতারিতরা বা নির্যাতনের শিকার লোকজন দেশে ফিরে মামলা করলেও মূল আসামিরা ধরাছোঁয়ার বাইরে। গত মঙ্গলবার সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিজ কার্যালয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সঙ্গে আইওএমের নবনিযুক্ত চিফ অব মিশন ড. লরা টম-বন্ডের সৌজন্য সাক্ষাৎকালে মানব পাচার প্রতিরোধ, সীমান্ত ব্যবস্থাপনা আধুনিকীকরণ এবং প্রযুক্তিনির্ভর অপরাধ রোধে দুই দশকের দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও শক্তিশালী করতে সম্মত হয়েছে বাংলাদেশ সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)। বিশেষ করে বৈঠকে দুই পক্ষের আলোচনায় উঠে আসে মানব পাচার প্রতিরোধ এবং নিরাপত্তা ও সীমান্ত ব্যবস্থাপনা-সংক্রান্ত বিভিন্ন ইস্যু। বিশেষ করে সাইবার প্রযুক্তিনির্ভর মানব পাচার রোধে যৌথ পদক্ষেপ এবং সীমান্তব্যবস্থার আধুনিকীকরণের বিষয়ে কথা বলেন। সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, বাংলাদেশে দিন দিন ভয়াবহ রূপ নিচ্ছে মানব পাচার। পাচারকারী চক্রের ফাঁদে পড়ে সর্বস্ব হারাচ্ছেন অভিবাসনপ্রত্যাশীরা। মূল হোたちの অধিকাংশই থাকেন দেশের বাইরে। দেশে থাকা দালালের মাধ্যমে পরিচালনা করেন কাজ। পাচার হওয়া ভুক্তভোগীরা অসচেতনতা কিংবা প্রমাণের অভাবে মামলা করলেও পাচ্ছেন না বিচার। আবার বিদেশে থাকায় অভিযুক্তদের আইনের আওতায় আনাও কঠিন। সূত্র জানিয়েছে, ভূমধ্যসাগর পাড়ি দিয়ে ইতালি যাওয়ার পথে বাংলাদেশিরা শীর্ষে। এই রুটে প্রাণহানির ঘটনাও বেশি। লিবিয়ায় বন্দিশালায় নির্যাতন করে পরিবার থেকে টাকা আদায় করা হয়। কিন্তু আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এখনো পাচারকারীদের ধরতে প্রযুক্তির ব্যবহারেও পিছিয়ে। মানবপাচার প্রতিরোধ ও দমনে ২০১২ সালে সরকার আইন করার পর থেকে মানবপাচার আইনে নিয়মিত মামলা হলেও অধিকাংশ মামলার বিচার শেষ হচ্ছে না। আবার যেগুলোর বিচার শেষ হচ্ছে সেখানে আসামিরা খালাস পেয়ে যাচ্ছেন। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মানব পাচার মামলা সংক্রান্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ২০২৫ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত ৪ হাজার ৩৬০টি মামলা ঝুলে আছে। এর মধ্যে এক হাজার ৩৪৬টি মামলা এখনো তদন্তাধীন। বিচারাধীন তিন হাজার ১৪টি মামলা। এর আগে ২০২৩ সালে জানুয়ারি থেকে সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে মামলা হয়েছে ৬৮৩টি। এতে আসামি করা হয় ৩৩ হাজার ৫০৯ জনকে। ঢাকার মানব পাচার অপরাধ দমন ট্রাইব্যুনালের পাবলিক প্রসিকিউটর মোস্তফা কামাল খান বলেন, ‘মানব পাচার ট্রাইব্যুনাল গঠন হয় ২০২০ সালে, সাক্ষ্য-প্রমাণসহ নানা জটিলতায় একটা মামলা নিষ্পত্তি হতে সময় লাগে ৫ থেকে ৬ বছর। সে জন্য অগ্রগতি কম। বিশেষ করে মূল আসামিরা বিদেশ থাকে প্রায় কেসে। আমাদের ইন্টেলিজেন্স দুর্বল। প্রশাসনিক জটিলতায় এসব মূল হোতাদের ধরা সম্ভব হয় না। আর ভিক্টিমরাও যথেষ্ট তথ্য-প্রমাণ দিতে পারেন না। অনেক সময় ভিক্টিমরা মামলা করে আবার অন্য দেশে চলে যান।’ অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) জানায়, দালালের শেষ নেই। আজ একজন কে ধরি তো কাল অন্যজন বের হয়। সিআইডি সারাদেশে দালালচক্রের তালিকাও করেছে। বিদেশে যেসব মানব পাচারকারী রয়েছে, তাদের তালিকাও করেছে। বিদেশে অবস্থানরত কিছু মানবপাচারকারীর বিরুদ্ধে অভিযোগ পেয়ে কিন্তু তাদের বিরুদ্ধে কোনো মামলা নেই। যারা ভিক্টিম এরা অনেক সময় হাল ছেড়ে দেন, মামলা করতে চান না। সিআইডির তথ্য অনুযায়ী বাংলাদেশ থেকে ইউরোপ, অস্ট্রেলিয়া ও মিয়ানমারে মানব পাচারের ঘটনা বেশি আলোচিত হচ্ছে। এর মধ্যে লিবিয়া থেকে ভূমধ্যসাগর হয়ে ইউরোপে প্রবেশের জন্য গন্তব্য ইতালি, মালয়েশিয়া থেকে ইন্দোনেশিয়া হয়ে অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া থেকে থাইল্যান্ড হয়ে মিয়ানমার ও কম্বোডিয়ার স্ক্যাম সেন্টার। ব্র্যাকের গবেষণায় দেখা যায়, ঢাকা থেকে দুবাই-মিসর, ইস্তাম্বুল-দুবাই, কাতার, অথবা সরাসরি লিবিয়া যাওয়ার পথে ৬৩ শতাংশ মানুষ বন্দি হন। বন্দিদের ৯৩ শতাংশকে ক্যাম্পে আটকে রাখা হয় এবং ৭৯ শতাংশ শারীরিক নির্যাতনের শিকার হন। ৫৪ শতাংশ তিন বেলা খাবার পান না এবং ২২ শতাংশ দিনে মাত্র একবেলা খাবার পান। লিবিয়ায় যেতে যারা চেষ্টা করেছেন, তাদের বেশির ভাগই মাদারীপুর, শরীয়তপুর, ফরিদপুর, সিলেট, সুনামগঞ্জ, মুন্সীগঞ্জ, নোয়াখালী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও কুমিল্লার বাসিন্দা। স্থানীয় দালালদের প্রলোভনে তারা বাড়ি বিক্রি করে রওনা দিয়েছেন, কিন্তু ৮৯ শতাংশ কোনো কাজ পাননি। বরং নানা ঝুঁকিতে পড়েছেন।