আজ শনিবার, ৭ নভেম্বর ২০২৬
২৩ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২৬ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩১°C
সর্বনিম্ন: ২২°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ০%

১৩৫ কোটি টাকা ঋণ আদায়ে সিটিসেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:45:27 pm, Saturday, 7 November 2026
  • 18

১৩৫ কোটি টাকা ঋণ আদায়ে সিটিসেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

বন্ধ হয়ে যাওয়া মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (পিবিটিএল) শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ১৩৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ আদায়ের মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

উচ্চপর্যায়ের ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ৫ জুলাই পিবিটিএলের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা নম্বর ৫২১/২০১৮ দায়ের করে এমটিবি। মামলায় পিবিটিএলসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়। তাঁদের মধ্যে বিদেশি ইক্যুইটি অংশীদার ও করপোরেট গ্যারান্টর হিসেবে রয়েছে সিংটেল এশিয়া প্যাসিফিক ইনভেস্টমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড এবং প্যাসিফিক মোটরস লিমিটেড।

দীর্ঘ আট বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৬ সালের ১৩ মে ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৭-এর বিচারক মো. ফরিদ উদ্দিন এমটিবির পক্ষে পিবিটিএলের বিরুদ্ধে রায় ও ডিক্রি দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায়ে উল্লেখ করা পাওনা পরিশোধ না করায় অর্থঋণ আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী ১৩৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা আদায়ের জন্য ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই অর্থজারি মামলা নম্বর ৮১০/২০২৬ দায়ের করে এমটিবি।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৭-এ বিচারাধীন। ব্যাংকের পাওনা আদায়ে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে পিবিটিএলের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাঁরা হলেন— 1. মেহবুব চৌধুরী—প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

2. মো. মোরশেদ খান—পরিচালক, সিটিসেলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 3. নাসরিন খান—পরিচালক। 4. আসগর করিম—পরিচালক। 5. মো. ফরিকুল হাসান—ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও জামিনদার। আদালতের আদেশ অনুযায়ী দেওয়ানি আটকাদেশ কার্যকরের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর গুলশান থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় পিবিটিএলের পরিচালক আসগর করিমের আবাসিক ঠিকানায় গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়। তবে বাড়ির কেয়ারটেকার পুলিশকে জানান, ওই সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জুড়ীর জাম্বুরায় কৃষকের ভাগ্য বদল, সম্ভাবনার নতুন দিগন্ত

১৩৫ কোটি টাকা ঋণ আদায়ে সিটিসেলের শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

Update Time : 07:45:27 pm, Saturday, 7 November 2026

বন্ধ হয়ে যাওয়া মোবাইল অপারেটর সিটিসেলের পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান প্যাসিফিক বাংলাদেশ টেলিকম লিমিটেডের (পিবিটিএল) শীর্ষ কর্মকর্তাদের গ্রেপ্তারে বিশেষ অভিযান শুরু করেছে পুলিশ। মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ১৩৫ কোটি টাকার বেশি ঋণ আদায়ের মামলায় আদালতের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নে এ অভিযান চালানো হচ্ছে।

উচ্চপর্যায়ের ঋণখেলাপিদের বিরুদ্ধে চলমান পদক্ষেপের অংশ হিসেবে এ কার্যক্রম পরিচালিত হচ্ছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। খেলাপি ঋণ আদায়ের লক্ষ্যে ২০১৮ সালের ৫ জুলাই পিবিটিএলের বিরুদ্ধে অর্থঋণ মামলা নম্বর ৫২১/২০১৮ দায়ের করে এমটিবি। মামলায় পিবিটিএলসহ মোট ১২ জনকে বিবাদী করা হয়। তাঁদের মধ্যে বিদেশি ইক্যুইটি অংশীদার ও করপোরেট গ্যারান্টর হিসেবে রয়েছে সিংটেল এশিয়া প্যাসিফিক ইনভেস্টমেন্ট প্রাইভেট লিমিটেড, ফার ইস্ট টেলিকম লিমিটেড এবং প্যাসিফিক মোটরস লিমিটেড।

দীর্ঘ আট বছর বিচারিক কার্যক্রম শেষে ২০২৬ সালের ১৩ মে ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৭-এর বিচারক মো. ফরিদ উদ্দিন এমটিবির পক্ষে পিবিটিএলের বিরুদ্ধে রায় ও ডিক্রি দেন। নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রায়ে উল্লেখ করা পাওনা পরিশোধ না করায় অর্থঋণ আদালতের ডিক্রি অনুযায়ী ১৩৫ কোটি ৩২ লাখ টাকা আদায়ের জন্য ২০২৬ সালের ২৭ জুলাই অর্থজারি মামলা নম্বর ৮১০/২০২৬ দায়ের করে এমটিবি।

মামলাটি বর্তমানে ঢাকার অর্থঋণ আদালত-৭-এ বিচারাধীন। ব্যাংকের পাওনা আদায়ে প্রযোজ্য আইন অনুযায়ী আদালতের মাধ্যমে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়। এরই অংশ হিসেবে পিবিটিএলের পাঁচ গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তির বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে। যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা অর্থঋণ আদালত আইন, ২০০৩-এর ৩৪(১) ধারা অনুযায়ী যাঁদের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি হয়েছে, তাঁরা হলেন— 1. মেহবুব চৌধুরী—প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও)।

2. মো. মোরশেদ খান—পরিচালক, সিটিসেলের প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান এবং সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী। 3. নাসরিন খান—পরিচালক। 4. আসগর করিম—পরিচালক। 5. মো. ফরিকুল হাসান—ভারপ্রাপ্ত প্রধান অর্থ কর্মকর্তা (সিএফও) ও জামিনদার। আদালতের আদেশ অনুযায়ী দেওয়ানি আটকাদেশ কার্যকরের জন্য গ্রেপ্তারি পরোয়ানা বাস্তবায়নের নির্দেশ দেওয়া হয়।

এর ধারাবাহিকতায় গত ২ নভেম্বর গুলশান থানা পুলিশ বিশেষ অভিযান চালায়। এ সময় পিবিটিএলের পরিচালক আসগর করিমের আবাসিক ঠিকানায় গিয়ে তাঁকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করা হয়। তবে বাড়ির কেয়ারটেকার পুলিশকে জানান, ওই সময় তিনি বাসায় ছিলেন না। আদালতের আদেশ বাস্তবায়নে আগামী ১৮ নভেম্বরের মধ্যে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের গ্রেপ্তারের লক্ষ্যে নজরদারি ও অনুসন্ধান কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।