জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উপলক্ষ্যে রাজশাহী প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (রুয়েট) এতিম শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ বিতরণ ও আপ্যায়নের আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। শনিবার (৭ নভেম্বর) দুপুরে নগরীর মতিহার থানার বিনোদপুরের দাওয়াতুল ইসলাম ইয়াতিমখানা বালিকায় এ কর্মসূচি পালন করা হয়।
জাতীয় পতাকা উত্তোলন, রচনা প্রতিযোগিতা ও দোয়া মাহফিলের মাধ্যমে দিবসটি যথাযথ ভাবে পালিত হয়। এর আগে জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস উদযাপন উপলক্ষ্যে রুয়েট প্রশাসন কর্মসূচি সহ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে। আজ সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক ভবন ও হল গুলোতে জাতীয় পতাকা উত্তোলনের মাধ্যমে শুরু হয় দিবসটি উদযাপন। এরপর দাওয়াতুল ইসলাম ইয়াতিমখানায় ৫০ জন নারী শিক্ষার্থীর হাতে শিক্ষা উপকরণ তুলে দেওয়া হয় এবং তাদের জন্য দুপুরের খাবারের ব্যবস্থা করা হয়।
এসব শিক্ষা উপকরণের মাঝে ছিল খাতা, কলম, পেনসিল, রাবার ও স্কেলসহ প্রয়োজনীয় উপকরণ। এতিমখানা কর্তৃপক্ষ রুয়েট প্রশাসনের এ উদ্যোগের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। সময়োপযোগী এ উপহার গুলো শিক্ষার্থীদের লেখাপড়ায় বড় ভূমিকা রাখবে বলে মন্তব্য করেন। পাশাপাশি এ ধরনের সহযোগিতা ধারাবাহিকতা কামনা করেন তারা।
এ কর্মসূচিতে উপস্থিত ছিলেন রুয়েট ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক ও যন্ত্রকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার, পরিকল্পনা ও উন্নয়ন দপ্তরের পরিচালক অধ্যাপক ড. এইচ এম রাসেল, পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. নিয়ামুল বারী এবং ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের সহকারী পরিচালক মো. আবু ইসমাইল সিদ্দিকী। এ সময় উপস্থিত রুয়েট প্রশাসন প্রতিনিধি ও অতিথিবৃন্দ জানান রুয়েট প্রশাসন ভবিষ্যতেও এ ধরনের মানবকল্যাণ মূলক কর্মসূচি অব্যাহত রাখবে।
রুয়েট উপাচার্য অধ্যাপক ড. এস এম আব্দুর রাজ্জাক ১৯৭৫ সালের ৭ নভেম্বরের যুগান্তকারী বিপ্লবে অংশগ্রহণকারী বীর সেনানী ও দেশ প্রেমিকদের প্রতি বিনম্র শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। এক বক্তব্যে তিনি ঐতিহাসিক ৭ নভেম্বর জাতীয় জীবনে অবিস্মরণীয় দিন এবং জাতীয় ঐক্য ও গনতান্ত্রিক যাত্রায় দিনটি দেশের ইতিহাসের গুরুত্বপূর্ণ সন্ধিক্ষণ হিসেবে উল্লেখ করেন।
ছাত্রকল্যাণ দপ্তর পরিচালক অধ্যাপক ড. মো. রবিউল ইসলাম সরকার বলেন,”জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবসের প্রকৃত মর্ম হলো মানুষের মাঝে ভালোবাসা, সংহতি ও সমতা প্রতিষ্ঠা। সমাজের পিছিয়ে পড়া ও অসহায় মানুষের পাশে দাঁড়ানোই দিবসটির শিক্ষার বাস্তব প্রয়োগ। এতিম শিশু-কিশোরীরা আমাদের সমাজেরই অংশ; তাদের শিক্ষায় এগিয়ে নিতে আমাদের সবার এগিয়ে আসা উচিত।
” দিনের মধ্যাহ্নে রুয়েট কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া মাহফিলের আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতীয় এ দিবসটির আনুষ্ঠানিক ভাবে উদযাপন সম্পন্ন হয়। এ সময় উপস্থিত মুসল্লিরা দেশ ও জাতির সার্বিক কল্যাণে দোয়া কামনা করেন। উল্লেখ্য রুয়েট শিক্ষার্থীদের জন্য “৭ নভেম্বর জাতীয় বিপ্লব ও সংহতি দিবস-শিক্ষা, ঐক্য ও প্রগতি” শীর্ষক রচনা প্রতিযোগিতার আয়োজন করেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
১০০০-১২০০ শব্দে নির্ধারিত বিষয়ে রচনা আগামী ১৪ নভেম্বরের মধ্যে ছাত্রকল্যাণ দপ্তরের পরিচালক বরাবর dsw@ruet.ac.bd ই-মেইলে রচনা পাঠাতে বলা হয়েছে।





















