আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৭°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৫%

রাঙ্গাবালীতে ৫০০ টাকা লেনদেন নিয়ে দুই মাদ্রাসাশিক্ষকের হাতাহাতি

  • MIT ERP
  • Update Time : 09:10:48 pm, Tuesday, 3 November 2026
  • 14

রাঙ্গাবালীতে ৫০০ টাকা লেনদেন নিয়ে দুই মাদ্রাসাশিক্ষকের হাতাহাতি

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া হাফেজি মাদ্রাসায় ৫০০ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে কথা-কাটাকাটির সূত্রপাত হলেও পরে কম্পিউটার কক্ষে গিয়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।

এতে মো.আল- মামুন নামে এক শিক্ষক আহত হয়েছেন। তার চোখ ফুলে গেছে। চিকিৎসার জন্য তিনি বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আহত মো. আল- মামুন মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। অন্যদিকে, মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক (আইসিটি)। পাশাপাশি তার একটি বিকাশের দোকান রয়েছে। মামুন গাজী জানান, মিরাজ হোসেনের বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা নিয়েছিলাম।

পরদিন মাদ্রাসায় গেলে মিরাজ তার কাছে ওই টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। মো আল মামুন জানান, মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে অন্যান্য শিক্ষকের উপস্থিতিতে মিরাজ আবারও পাওনা টাকা চান। এ সময় তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তিনি অফিসকক্ষ থেকে বের হয়ে কম্পিউটার কক্ষে কাজ করতে গেলে মিরাজ সেখানে যান।

একপর্যায়ে কম্পিউটার কক্ষেই দুজনের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে তার চোখ ফুলে যায়। চিকিৎসার জন্য তিনি বরিশালে যাচ্ছেন বলে জানান। অভিযোগের বিষয়ে মো.মিরাজ হোসেন বলেন, আমি তার কাছে টাকা পাব। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই আমাদের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। এটি আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা পারিবারিকভাবেই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি।

মাদ্রাসার সুপার মো. আলিউল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণের কারণে বরিশালে অবস্থান করছি। ২৬ অক্টোবর থেকে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রশিক্ষণে থাকব। ঘটনাটি আমাকে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত লেনদেন নিয়ে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে কম্পিউটার কক্ষে গিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও ঘুষাঘুষির ঘটনা ঘটে বলে শুনেছি।

’ এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর জানান, বিষয়টি মূলত দুই শিক্ষকের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের বিরোধ। তবে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। মাদ্রাসার সুপার তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। সুপার প্রশিক্ষণ শেষে ফিরলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করে দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি এইমাত্র জেনেছি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। ’ এদিকে, দুই শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি এখনো মীমাংসা হয়নি। মিরাজ হোসেন পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

নেতানিয়াহুর সরকারকে সরাতে জোট গঠনের আলোচনা শুরু করছে বিরোধী দলগুলো

রাঙ্গাবালীতে ৫০০ টাকা লেনদেন নিয়ে দুই মাদ্রাসাশিক্ষকের হাতাহাতি

Update Time : 09:10:48 pm, Tuesday, 3 November 2026

পটুয়াখালীর রাঙ্গাবালী উপজেলার চালিতাবুনিয়া ইউনিয়নের চালিতাবুনিয়া নেছারিয়া ইসলামিয়া হাফেজি মাদ্রাসায় ৫০০ টাকা লেনদেনকে কেন্দ্র করে দুই শিক্ষকের মধ্যে হাতাহাতির ঘটনা ঘটেছে। মঙ্গলবার (৩ নভেম্বর) সকাল ১০টার দিকে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে কথা-কাটাকাটির সূত্রপাত হলেও পরে কম্পিউটার কক্ষে গিয়ে তা হাতাহাতিতে গড়ায়।

এতে মো.আল- মামুন নামে এক শিক্ষক আহত হয়েছেন। তার চোখ ফুলে গেছে। চিকিৎসার জন্য তিনি বরিশালের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন বলে জানিয়েছেন। আহত মো. আল- মামুন মাদ্রাসার অফিস সহকারী কাম কম্পিউটার অপারেটর। অন্যদিকে, মোহাম্মদ মিরাজ হোসেন একই প্রতিষ্ঠানের সহকারী শিক্ষক (আইসিটি)। পাশাপাশি তার একটি বিকাশের দোকান রয়েছে। মামুন গাজী জানান, মিরাজ হোসেনের বিকাশের মাধ্যমে ৫০০ টাকা নিয়েছিলাম।

পরদিন মাদ্রাসায় গেলে মিরাজ তার কাছে ওই টাকা ফেরত চান। এ নিয়ে দুজনের মধ্যে কথা-কাটাকাটি হয়। মো আল মামুন জানান, মঙ্গলবার সকালে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে অন্যান্য শিক্ষকের উপস্থিতিতে মিরাজ আবারও পাওনা টাকা চান। এ সময় তাদের মধ্যে বাগ্‌বিতণ্ডা হয়। পরে তিনি অফিসকক্ষ থেকে বের হয়ে কম্পিউটার কক্ষে কাজ করতে গেলে মিরাজ সেখানে যান।

একপর্যায়ে কম্পিউটার কক্ষেই দুজনের মধ্যে হাতাহাতি ও মারধরের ঘটনা ঘটে। এতে তার চোখ ফুলে যায়। চিকিৎসার জন্য তিনি বরিশালে যাচ্ছেন বলে জানান। অভিযোগের বিষয়ে মো.মিরাজ হোসেন বলেন, আমি তার কাছে টাকা পাব। সেই টাকা চাওয়াকে কেন্দ্র করেই আমাদের মধ্যে ঝামেলার সৃষ্টি হয়। এটি আমাদের ব্যক্তিগত বিষয়। আমরা পারিবারিকভাবেই বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছি।

মাদ্রাসার সুপার মো. আলিউল্লাহ বলেন, ‘আমি প্রশিক্ষণের কারণে বরিশালে অবস্থান করছি। ২৬ অক্টোবর থেকে আগামী ৯ নভেম্বর পর্যন্ত প্রশিক্ষণে থাকব। ঘটনাটি আমাকে মাদ্রাসার ভাইস প্রিন্সিপাল জানিয়েছেন। ব্যক্তিগত লেনদেন নিয়ে মাদ্রাসার অফিসকক্ষে কথা-কাটাকাটি হয়। পরে কম্পিউটার কক্ষে গিয়ে দুজনের মধ্যে ধস্তাধস্তি ও ঘুষাঘুষির ঘটনা ঘটে বলে শুনেছি।

’ এ বিষয়ে রাঙ্গাবালী উপজেলা একাডেমিক সুপারভাইজার অনাদি কুমার বাহাদুর জানান, বিষয়টি মূলত দুই শিক্ষকের ব্যক্তিগত আর্থিক লেনদেনের বিরোধ। তবে ব্যক্তিগত বিরোধের জেরে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে এমন ঘটনা ঘটায় প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে। মাদ্রাসার সুপার তাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। সুপার প্রশিক্ষণ শেষে ফিরলে ম্যানেজিং কমিটির সদস্যদের নিয়ে সভা করে দুই শিক্ষককে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

রাঙ্গাবালী উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) নাজমুল হাসান বলেন, ‘বিষয়টি এইমাত্র জেনেছি। আমি খোঁজ নিয়ে দেখছি। ’ এদিকে, দুই শিক্ষকের মধ্যে বিরোধের বিষয়টি এখনো মীমাংসা হয়নি। মিরাজ হোসেন পারিবারিকভাবে বিষয়টি মীমাংসার চেষ্টা করছেন বলে জানিয়েছেন। তবে মাদ্রাসা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে সাময়িক বরখাস্তের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার উদ্যোগের কথা জানানো হয়েছে।