আজ মঙ্গলবার, ৩ নভেম্বর ২০২৬
১৯ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২২ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
পরিষ্কার আকাশ
৩১°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ২৭%

স্থান বদলে চালু রয়েছে পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

  • MIT ERP
  • Update Time : 03:08:03 pm, Tuesday, 3 November 2026
  • 14

স্থান বদলে চালু রয়েছে পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

সিলগালা, মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স এবং অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও থামেনি পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম। স্থান পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটি এখন যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের রাজুর মোড়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির অবস্থান ছিল যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে।

অভিযোগ উঠেছে, ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে কার্যক্রম। চিকিৎসাসেবার আড়ালে অনিয়ম ও রোগী হয়রানির অভিযোগও পুরোনো। বারবার অভিযোগ ওঠার পরও প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নের মুখে নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৭৬০৪৮ নম্বর নিবন্ধনে পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স পায়।

তবে ২০১৯ সালের ৩০ জুন এর মেয়াদ শেষ হয়। এরপর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি বলে জানা গেছে। চলতি বছরের ১৪ মে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানোর পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সেটি সিলগালা করেন।

অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডিপ্লোমাধারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও উন্নত যন্ত্রপাতির ঘাটতি ছিল। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের লক্ষ্য করে লাইসেন্সবিহীনভাবে চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণা করা হচ্ছিল বলেও তিনি জানান। অভিযোগ রয়েছে, সিলগালার এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি আবার চালু করা হয়।

পরে চলতি মাসে স্থান পরিবর্তন করে ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের রাজুর মোড়ে কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন ঠিকানায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দালালের মাধ্যমে সেখানে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অর্থ আদায় করা হয়।

অতীতে প্যাথলজি পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতি ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং পরীক্ষার মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, রোগ নির্ণয়ের প্রতিবেদনে ভুল থাকলে চিকিৎসা নিয়েও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন রোগীরা। পিয়ারলেসের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২২ সালের ৯ জুন যশোর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে আটক করেন।

ওই সময় তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অতীতে এমন অভিযানের পরও প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে নতুন করে অভিযোগ ওঠায় তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সিভিল সার্জন অফিসকে ম্যানেজ করে অবৈধ পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিকে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যে কারণে তাদের প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আবুল কাশেম অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্যাথলজি পরীক্ষা করার জন্য নিজস্ব ডিপ্লোমাধারী মেডিকেল টেকনোলজিস্টও রয়েছেন। কিছু দিনের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।

নানা অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছিল। অনিয়ম সংশোধনের অঙ্গীকারে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। চিকিৎসায় অনিয়ম ও প্রতারণা অব্যাহত থাকলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে প্রদর্শিত দেশের প্রথম এআই স্বল্পদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র গ্যাপ

স্থান বদলে চালু রয়েছে পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার, নেই প্রয়োজনীয় কাগজপত্র

Update Time : 03:08:03 pm, Tuesday, 3 November 2026

সিলগালা, মেয়াদোত্তীর্ণ লাইসেন্স এবং অনিয়মের অভিযোগ থাকলেও থামেনি পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম। স্থান পরিবর্তন করে প্রতিষ্ঠানটি এখন যশোর শহরের ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের রাজুর মোড়ে পরিচালিত হচ্ছে। এর আগে এই ডায়াগনস্টিক সেন্টারটির অবস্থান ছিল যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালের তিন নম্বর গেটের সামনে ঘোপ নওয়াপাড়া রোডে।

অভিযোগ উঠেছে, ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়াই চলছে কার্যক্রম। চিকিৎসাসেবার আড়ালে অনিয়ম ও রোগী হয়রানির অভিযোগও পুরোনো। বারবার অভিযোগ ওঠার পরও প্রতিষ্ঠানটি কীভাবে চলছে, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। প্রশ্নের মুখে নজরদারির দায়িত্বে থাকা কর্তৃপক্ষের ভূমিকাও। সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালে ৭৬০৪৮ নম্বর নিবন্ধনে পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টার লাইসেন্স পায়।

তবে ২০১৯ সালের ৩০ জুন এর মেয়াদ শেষ হয়। এরপর লাইসেন্স নবায়ন করা হয়নি বলে জানা গেছে। চলতি বছরের ১৪ মে প্রতিষ্ঠানটি পরিদর্শনে গিয়ে বিভিন্ন অনিয়ম দেখতে পান যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা ও ডেপুটি সিভিল সার্জন ডা. নাজমুস সাদিক। বিষয়টি জেলা প্রশাসনকে জানানোর পর নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাসের নেতৃত্বে ভ্রাম্যমাণ আদালত অভিযান চালিয়ে সেটি সিলগালা করেন।

অভিযানের সময় নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট গুঞ্জন বিশ্বাস জানিয়েছিলেন, পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক, ডিপ্লোমাধারী মেডিকেল টেকনোলজিস্ট ও উন্নত যন্ত্রপাতির ঘাটতি ছিল। সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের লক্ষ্য করে লাইসেন্সবিহীনভাবে চিকিৎসাসেবার নামে প্রতারণা করা হচ্ছিল বলেও তিনি জানান। অভিযোগ রয়েছে, সিলগালার এক সপ্তাহের মধ্যেই প্রতিষ্ঠানটি আবার চালু করা হয়।

পরে চলতি মাসে স্থান পরিবর্তন করে ঘোপ সেন্ট্রাল রোডের রাজুর মোড়ে কার্যক্রম শুরু হয়। নতুন ঠিকানায় প্রয়োজনীয় অনুমোদন ও ছাড়পত্র নেওয়া হয়েছে কি না, তা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে। বিশেষ করে ফায়ার লাইসেন্স, ট্রেড লাইসেন্স ও পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র না থাকার অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের যাচাই প্রয়োজন। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ, সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের দালালের মাধ্যমে সেখানে নিয়ে গিয়ে বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার নামে অর্থ আদায় করা হয়।

অতীতে প্যাথলজি পরীক্ষার প্রতিবেদন তৈরির পদ্ধতি ও নির্ভরযোগ্যতা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছিল। অভিযোগগুলোর সত্যতা যাচাই এবং পরীক্ষার মান নিশ্চিত করা জরুরি বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। কারণ, রোগ নির্ণয়ের প্রতিবেদনে ভুল থাকলে চিকিৎসা নিয়েও ঝুঁকিতে পড়তে পারেন রোগীরা। পিয়ারলেসের বিরুদ্ধে অনিয়মের অভিযোগ নতুন নয়। ২০২২ সালের ৯ জুন যশোর জেলা প্রশাসনের ভ্রাম্যমাণ আদালত প্রতিষ্ঠানটিতে অভিযান চালিয়ে হাবিবুর রহমান নামে এক ব্যক্তিকে ভুয়া চিকিৎসক হিসেবে আটক করেন।

ওই সময় তাকে ১৫ দিনের বিনাশ্রম কারাদণ্ড ও এক লাখ টাকা জরিমানা করা হয়। অতীতে এমন অভিযানের পরও প্রতিষ্ঠানটিকে ঘিরে নতুন করে অভিযোগ ওঠায় তদারকি ও জবাবদিহি নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অভিযোগ উঠেছে, সিভিল সার্জন অফিসকে ম্যানেজ করে অবৈধ পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিকে কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। যে কারণে তাদের প্রতারণার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ করছেন না।

পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের পরিচালক আবুল কাশেম অবশ্য অনিয়মের অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। তিনি বলেন, নিয়ম মেনেই ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। নতুন লাইসেন্সের জন্য আবেদন করা হয়েছে। প্যাথলজি পরীক্ষা করার জন্য নিজস্ব ডিপ্লোমাধারী মেডিকেল টেকনোলজিস্টও রয়েছেন। কিছু দিনের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স পেয়ে যাবেন। যশোরের সিভিল সার্জন ডা. মাসুদ রানা বলেন, পিয়ারলেস ডায়াগনস্টিক সেন্টারের লাইসেন্সের মেয়াদ অনেক আগেই শেষ হয়েছে।

নানা অনিয়মের কারণে প্রতিষ্ঠানটি সিলগালা করা হয়েছিল। অনিয়ম সংশোধনের অঙ্গীকারে কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি দেওয়া হয়। চিকিৎসায় অনিয়ম ও প্রতারণা অব্যাহত থাকলে খোঁজ নিয়ে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।