আজ সোমবার, ২ নভেম্বর ২০২৬
১৮ কার্তিক, ১৪৩৩ | ২১ জমাদিউল আউয়াল ১৪৪৮
ঢাকা
আংশিক মেঘলা
২৯°C
সর্বোচ্চ: ৩২°C
সর্বনিম্ন: ২৫°C
বৃষ্টির সম্ভাবনা: ৬১%

পিপি হায়দার হত্যা মামলায় ১৯ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আত্মসমর্পণ

  • MIT ERP
  • Update Time : 07:33:11 pm, Monday, 2 November 2026
  • 10

পিপি হায়দার হত্যা মামলায় ১৯ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আত্মসমর্পণ

Monzu-Info-Tech
Monzu-Info-Tech

ঝালকাঠির আলোচিত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বেল্লাল হোসেন ১৯ বছর পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

পরে আদালতের বিচারক রুবাইয়া আমিনা তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আত্মসমর্পণ করা বেল্লাল হোসেন (৪০) বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগি গ্রামের মফিজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ঝালকাঠির বিকনা গাজী বাড়ি মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল রাতে এশার নামাজ শেষে কবরস্থান জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তিনি ২০০৫ সালে ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ডে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরা জড়িত ছিল। এর আগে, ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলায় ঝালকাঠির দুই বিচারক জগন্নাথ পাড়ে ও সোহেল আহম্মেদ নিহত হন। ওই হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২৯ মে শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

২০০৭ সালের ২১ মার্চ তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর আইনজীবী হায়দার হোসাইন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ১২ এপ্রিল নিহতের একমাত্র ছেলে তারিক বিন হায়দার ঝালকাঠি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- খুলনার মুরাদ হোসেন, বরগুনার আবু শাহাদাত মোহাম্মদ তানভীর, বেল্লাল হোসেন, ঢাকার উত্তরখানের সগির হোসেন ভূঁইয়া ও আমিনুল ওরফে আমির হোসেন। ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করে। ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতও তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হুমায়ুন কবির বাবুল জানান, এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি আগে থেকেই ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন। বেল্লাল হোসেন আত্মসমর্পণ করায় এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামিই এখন কারাগারে। আগে কারাগারে থাকা চার আসামির আপিল সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।

Tag :

Write Your Comment

About Author Information

MIT ERP

Popular Post

জামালপুরে পরিত্যক্ত লাইনে ঢুকে পড়া ট্রেন চালকের বুদ্ধিমত্তায় রক্ষা

পিপি হায়দার হত্যা মামলায় ১৯ বছর পর মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামির আত্মসমর্পণ

Update Time : 07:33:11 pm, Monday, 2 November 2026

ঝালকাঠির আলোচিত সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইন হত্যা মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পলাতক আসামি বেল্লাল হোসেন ১৯ বছর পর আদালতে আত্মসমর্পণ করেছেন। সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতে হাজির হয়ে তিনি আত্মসমর্পণ করেন।

পরে আদালতের বিচারক রুবাইয়া আমিনা তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আত্মসমর্পণ করা বেল্লাল হোসেন (৪০) বরগুনার তালতলী উপজেলার ছোটবগি গ্রামের মফিজ উদ্দিন হাওলাদারের ছেলে। হত্যাকাণ্ডের সময় তিনি ঝালকাঠির বিকনা গাজী বাড়ি মসজিদের মুয়াজ্জিন ছিলেন। মামলার বিবরণ অনুযায়ী, ২০০৭ সালের ১১ এপ্রিল রাতে এশার নামাজ শেষে কবরস্থান জামে মসজিদ থেকে বের হওয়ার সময় অ্যাডভোকেট হায়দার হোসাইনকে গুলি করে হত্যা করা হয়।

তিনি ২০০৫ সালে ঝালকাঠিতে দুই বিচারক হত্যা মামলায় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছিলেন। ওই হত্যাকাণ্ডে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠন জামাআতুল মুজাহিদীন বাংলাদেশের (জেএমবি) সদস্যরা জড়িত ছিল। এর আগে, ২০০৫ সালের ১৪ নভেম্বর জেএমবির আত্মঘাতী বোমা হামলায় ঝালকাঠির দুই বিচারক জগন্নাথ পাড়ে ও সোহেল আহম্মেদ নিহত হন। ওই হত্যা মামলায় ২০০৬ সালের ২৯ মে শায়খ আবদুর রহমান, বাংলা ভাইসহ সাতজনকে মৃত্যুদণ্ড দেন আদালত।

২০০৭ সালের ২১ মার্চ তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। এর প্রায় তিন সপ্তাহ পর আইনজীবী হায়দার হোসাইন হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। এ ঘটনায় ২০০৭ সালের ১২ এপ্রিল নিহতের একমাত্র ছেলে তারিক বিন হায়দার ঝালকাঠি থানায় হত্যা মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত শেষে ২০১০ সালের ১৭ জানুয়ারি পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি) পাঁচজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেয়।

অভিযোগপত্রভুক্ত আসামিরা হলেন- খুলনার মুরাদ হোসেন, বরগুনার আবু শাহাদাত মোহাম্মদ তানভীর, বেল্লাল হোসেন, ঢাকার উত্তরখানের সগির হোসেন ভূঁইয়া ও আমিনুল ওরফে আমির হোসেন। ২০১৫ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালত পাঁচ আসামিকে মৃত্যুদণ্ড দেন। পরে আসামিপক্ষ উচ্চ আদালতে আপিল করে। ২০২০ সালের ১০ ফেব্রুয়ারি উচ্চ আদালতও তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখেন।

ঝালকাঠির অতিরিক্ত জেলা ও দায়রা জজ আদালতের পাবলিক প্রসিকিউটর (পিপি) হুমায়ুন কবির বাবুল জানান, এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত চার আসামি আগে থেকেই ঢাকার কেরানীগঞ্জ কারাগারে রয়েছেন। বেল্লাল হোসেন আত্মসমর্পণ করায় এ মামলায় মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত পাঁচ আসামিই এখন কারাগারে। আগে কারাগারে থাকা চার আসামির আপিল সুপ্রিম কোর্টে শুনানির অপেক্ষায় রয়েছে।