সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে সোফা তৈরির একটি কারখানায় অগ্নিকাণ্ডে প্রাণ হারানো সাত বাংলাদেশির মরদেহ দেশে এসেছে। দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বজনদের কাছে তাদের মরদেহ ফিরে এলে বিমানবন্দরে লাশ গ্রহণের সময় পরিবারের সদস্যরা কান্নায় ভেঙে পড়েন।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) সকাল ৮টার দিকে মরদেহ বহনকারী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইট ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে অবতরণ করে। বিমানবন্দরে আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিহতদের মরদেহ পরিবারের সদস্যদের কাছে হস্তান্তর করেন। পরে স্বজনেরা মরদেহ নিয়ে নওগাঁ ও নাটোরের নিজ নিজ গ্রামের উদ্দেশে রওনা হন।
এ সময় নিহতদের পরিবারের সদস্যরা সরকারের কাছে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কামনা করেন। প্রবাসী কল্যাণ মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, নিহত প্রত্যেকের দাফন ও অন্যান্য প্রাথমিক খরচের জন্য পরিবারকে ৩৫ হাজার টাকা করে দেওয়া হবে। পাশাপাশি ঘটনার তিন মাস পর প্রতিটি পরিবারকে তিন লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হবে। উল্লেখ্য, গত ৯ আগস্ট সৌদি আরবের রিয়াদে একটি সোফা তৈরির কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
এতে প্রাণ হারান ১৬ বাংলাদেশি শ্রমিক। তাদের মধ্যে প্রথম পর্যায়ে নয়জনের মরদেহ গত ২৭ আগস্ট দেশে ফিরিয়ে আনা হয়। বাকি সাতজনের মরদেহ আগুনে মারাত্মকভাবে পুড়ে যাওয়ায় তাৎক্ষণিকভাবে তাদের পরিচয় শনাক্ত করা সম্ভব হয়নি। পরে ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে তাদের পরিচয় নিশ্চিত করা হয়। পরিচয় শনাক্তের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর শনিবার তাদের মরদেহ দেশে আনা হলো।
ডিএনএ পরীক্ষার মাধ্যমে শনাক্ত হওয়া সাত বাংলাদেশি হলেন—নওগাঁ সদর উপজেলার মো. শাহিন, আত্রাই উপজেলার মো. হাসিবুল হাসান শুভ, মিনহাজ প্রামাণিক, মো. মাসিদুল সরদার সজিব ও মো. সাগর আলী। অন্য দুজন নাটোরের নলডাঙ্গা উপজেলার মোহাম্মদ শামীম ও মো. সাব্বির হোসেন।






















