পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশনের ডাকে আজ বুধবার টানা সপ্তম দিনের মতো সড়ক অবরোধ চলছে। এর ফলে সারা দেশের সাথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে সম্পূর্ণ অচল হয়ে পড়েছে সাজেক।
জানা যায়, টানা সপ্তম দিনে বুধবার সকাল থেকে সাজেকে সড়ক অবরোধ চলাকালে কোনো ধরনের যানবাহন চলাচল করছে না। অবরোধকারীরা সড়কের কয়েকটি স্থানে গাছের গুঁড়ি ফেলে আগুন জ্বালিয়ে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেছে। তবে অবরোধ চলাকালে কোনো সংঘাতের খবর পাওয়া যায়নি। ঘটনাস্থল উজোবাজারে বুধবার সপ্তাহিক হাট থাকলেও লোকজনের সমাগম নগণ্য ছিল। দূর-দূরান্ত থেকে সড়ক ব্যবসায়ীরা অবরোধের কারণে এ বাজারে যেতে পারেননি।
সপ্তাহব্যাপী এ সড়ক অবরোধের কারণে সাজেকের সাথে সারা দেশের সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে। সড়ক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় স্থানীয় মানুষের চরম দুর্ভোগসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় খাদ্যসামগ্রীর সংকটের মধ্য পড়েছেন। এদিকে, সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ফেসবুক পেজে দাবি করেছে, সপ্তম দিনেও সাজেক পর্যটন সড়কে বিভিন্ন জায়গায় আগুন জ্বালিয়ে অবরোধ পালন করা হচ্ছে।
তবে রোগীর গাড়ি অ্যাম্বুলেন্স, সাংবাদিক, ধর্মীয় কাজে ভান্তে (ভিক্ষু) গাড়িসহ জরুরি সেবার জন্য কিছু যানবাহন আওতামুক্ত রাখা হয়েছে। পাশাপাশি পাঁচ দফা দাবি আদায় না হওয়ার আগ পর্যন্ত এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে বলে ঘোষণা দিয়েছে। সাজেক থানার ওসি তোফাজ্জল হোসেন জানান, অবরোধের কারণে সাজেক সড়কে যানবাহন চলাচল বন্ধ রয়েছে। সড়কে অবরোধকারীদের কোথাও ব্যারিকেড দিতে দেখা যায়নি।
এখনো পর্ষন্ত কোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেনি। উল্লেখ্য, সন্তু লারমা গ্রুপের জেএসএস সদস্যদের সাজেক এলাকা থেকে সরাতে ও সন্ত্রাস, চাঁদাবাজি বন্ধসহ পাঁচ দফা দাবিতে সাজেক গণঅধিকার রক্ষা কমিটি ও কার্বারি অ্যাসোসিয়েশন এ অবরোধের ডাক দেয়। গেল সোমবার সংকট নিরসনে আন্দোলনকারীদের সাথে উজোবাজারে খাগড়াছড়ি আসনের সংসদ সদস্য ওয়াদুদ ভূঁইয়া, রাঙামাটি আসনের সংসদ সদস্য দীপেন দেওয়ান ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তরা বৈঠক করেন।
পাঁচ দফা দাবির মধ্যে চার দফা দাবি প্রশাসন মেনে নিলেও বাকি একটি দাবি নিয়ে একমত না হওয়ায় বৈঠকটি অমীমাংসিতভাবে শেষ হয়। তবে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলছে, অবরোধকারীদের সাথে আলোচনা চলমান।






















